kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

মাছের সঙ্গে হাঁস পালনে দ্বিগুণ আয়

কামাল হোসাইন   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মাছের সঙ্গে হাঁস পালনে দ্বিগুণ আয়

বাড়িতে থেকে টাকা উপার্জনের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো হাঁস পালন। কারণ বাড়ির আশপাশে ছোট্ট পুকুর বা ডোবা হলেই দুটি ব্যবসা সমানতালে চালানো যায়। মাংস এবং ডিম উৎপাদনের জন্য হাঁসের আলাদা জাত রয়েছে। হাঁস এমন এক প্রাণী, যা পানি ছাড়াও পালন করা যায় আবার পানিতেও দিব্বি ভালো রাখা যায়। তবে পানির মধ্যে হাঁস পালন করলে এর অন্যতম একটি সুবিধা হলো সেই জলে হাঁসের পাশাপাশি মাছও চাষ করা যায়। এতে একই জায়গায় দুটি ব্যবসা সমানতালে চালাতে সময় দ্বিগুণ দেওয়া লাগে না, কিন্তু আয় দ্বিগুণ আসে। হাঁসের জন্য উপযোগী ফার্মিং পদ্ধতি হচ্ছে দুই প্রকার। ১. ডাক-কাম ফিশ ফার্মিং, ২. ডাক ফার্মিং উইথ রাইস।

ডাক কাম ফিশ ফার্মিং : এ পদ্ধতিতে হাঁসের সঙ্গে মাছ চাষ করা হয়। এখানে একটা প্রধান সুবিধা হচ্ছে হাঁসের যে ওয়েস্টগুলো মাছ খেয়ে বড় হয়, মাছের জন্য আলাদা খাদ্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া মাছ মারা গেলে এগুলো হাঁস খেয়ে থাকে। এতে হাঁসের খাবার পরিমাণ কম দিলেও চলে। আপনি এখানে একটা পুকুরে ২০০ থেকে ৩০০ পর্যন্ত হাঁস চাষ করতে পারেন।

ডাক ফার্মিং উইথ রাইস কাল্টিভেশন : এ পদ্ধতিতে ধানের সঙ্গে সঙ্গে হাঁস পালন করা হয়ে থাকে। এখানে হাঁস ধানক্ষেতের পোকামাকড় খেয়ে থাকে। আর হাঁসের বর্জ্য ধানগাছের সার হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এতে রাসায়নিক সারের পরিমাণ কম লাগে আর কীটনাশকের ব্যবহার না করলেও চলে। আর নিচের থেকে খাদ্য খাওয়ার জন্য মুখ দিয়ে মাটি খুঁড়ে থাকে। এতে নিচের মাটি নরম থাকে, ফলে ধানগাছের বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 

হাঁস কেন পালন করবেন

আমাদের দেশে লেয়ার মুরগির তুলনায় ডিমপাড়া হাঁসের খামার খুবই কম। বাজারে হাঁসের ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে শীতের দিনে হাঁসের ডিমের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। অনেকেই খামারের মুরগির ডিম খেতে কম পছন্দ করে। কারণ কখনো কখনো লেয়ার খামারে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন প্রকার ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার হয়ে থাকে। যেহেতু হাঁসের রোগবালাই খুব কম, সে কারণে হাঁসের খামারে তেমন কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। হাঁসের ডিম আকারে বড়, খাদ্যমান উন্নত ও খুবই পুষ্টিকর।

 

যে বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হবে

হাঁসের জাত, হাঁসের বাচ্চাপ্রাপ্তির স্থান, বাচ্চার ব্যবস্থাপনা, হাঁসের খাদ্যব্যবস্থা, বিভিন্ন বয়সের হাঁসের খাদ্য তৈরি, হাঁসের ঘরের ব্যবস্থাপনা, হাঁসের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, প্রতিরোধক টীকাদান কর্মসূচি, টীকাদানের তালিকা। এসব বিষয়ে জানা থাকলে একজন খামারির জন্য সফল হওয়া সহজ হয়ে যায়।

বর্তমানে পৃথিবীতে তিন ধরনের হাঁস পালন করা হয়ে থাকে। ১. মাংস উৎপাদনের জাত, ২. ডিম উৎপাদনের জাত, ৩. মাংস ও ডিম উভয় উৎপাদনের জাত।

মাংস উৎপাদনের জন্য হাঁস পালন : মাংস উৎপাদনের জাতগুলো হলো পিকিং, রুয়েল আয়লেশবারি, মাসকোভি ও সুইডেন হাঁস। এসব হাঁস মাংস উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এবং মর্দ্দা হাঁসের ওজন হয় পাঁচ কেজি আর মাদ্দির ওজন চার কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ডিম উৎপাদন: ডিম উৎপাদনের জাতগুলো হলো জিনডিং জাতের হাঁস ও ইন্ডিয়ান রানার হাঁস। ইন্ডিয়ান রানার হাঁস তিন রকমের হয়ে থাকে সাদা, পাশুটে ও পিঠে দাগ কাটা থাকে পেনসিলের শিষের মতো।

হাঁসের ব্যবস্থাপনা : প্রাথমিক অবস্থায় বাচ্চাকে তাপের কাছাকাছি রাখার জন্য গোলাকার গার্ড তৈরি করতে হবে এবং গার্ডের ভেতরে বাচ্চাকে খাবার ও পানি সরবরাহ করতে হবে। বাচ্চার জাত ও উপযোগিতা অনুসারে তাপের ব্যবস্থা নিতে হবে। বাচ্চার বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ ডিগ্রি ফারেনহাইট করে তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।

খাদ্যব্যবস্থা : রাজহাঁস ছাড়া সব জাতের হাঁসই উভয়ভোজী। অর্থাৎ এদের খবারে আমিষ এবং শ্বেতসার দুটিই আধিক্য রয়েছে। তা ছাড়া হাঁস পালনে বড় সুবিধা হলো, হাঁস খাল-বিল-পুকুর থেকে খাবার সংগ্রহ করে নেয়। তাই মাছের পুকুরে বা ডোবায় হাঁস পালনে সুবিধা হলো হাঁসের খাবার হাঁস খাবে। আর তাদের উচ্ছিষ্ট মাছের খাবার হয়ে যায়। হাঁসের মলও মাছের খাবার জোগান দিয়ে থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে মুরগির খাবার হাঁসকে খাওয়ালে হাঁসের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হবে। আর যেসব হাঁস বেশি ডিম দেয় তাকে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক কায়দায় (বিজ্ঞানীর সুপরামর্শমতো) সুষম খাদ্য দিতে হবে। তবে দেশি হাঁসকে (ঘরের কাজ চালানোর ডিমের জন্য) ঘরোয়া খাবার দিতে হবে, যেমন চালের কুড়া, যেকোনো খৈল, আটা-ভুসি, শামুক-ঝিনুক, মাছের ফেলে দেওয়া অংশ ইত্যাদি বাড়ির হাঁসের জন্য যথেষ্ট।

প্রতিরোধক টীকাদান কর্মসূচি : হাঁসকে রোগমুক্ত রাখার জন্য টিকা প্রদানের বিকল্প নেই। খেয়াল রাখতে হবে সব সময় সুস্থ হাঁসকে প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। যে হাঁস কোনো রোগে আক্রান্ত বা কৃমিতে আক্রান্ত হয়েছে তাকে টিকা দেওয়া যাবে না। কারণ তাতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।

প্রথম টিকা দিতে হবে ২১ দিন বয়সে, তার পরের কিস্তি হলো ৩৬ দিন বয়সে এবং ৭০ দিন বয়সে কলেরা টিকা দিতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা প্রদান করতে হবে। একজন খামারি প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁস পালন পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানার পর হাঁস পালন করলে দ্রুত সফলতার মুখ দেখবেন।