kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিউটি পার্লার

সজীব আহমেদ   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিউটি পার্লার

১১ বছর ধরে বিউটি পার্লারে কাজ করা নীশা মেরি ম্রী এখন চাকরি হারানোর আতঙ্কে

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য নীশা মেরি ম্রী ১১ বছর ধরে বিউটি পার্লারে কাজ করছেন। গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য পার্লার বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই তিনি কর্মহীন। আর কোনো উপায় না দেখে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জে চলে যান। এরপর গ্রামে সাত-আট মাস বসে থাকার পর আবার নতুন করে কাজ শুরু করেছেন রাজধানীর দক্ষিণ কুড়িল হিমবাড়ি এলাকায় ‘নিউ মডার্ন বিউটি পার্লারে’। শুরুতে কয়েক মাস টুকটাক কাজ পেয়েছিলেন। কিন্তু কঠোর লকডাউনের কারণে পার্লারের কাজে স্থবিরতা আসায় আবার তাঁর মনে চাকরি হারানোর ভয় জেগে ওঠে। কোরবানি ঈদে কিছু কাস্টমার পাওয়া গেলেও আবার কঠোর লকডাউনে সেই আগের অনিশ্চয়তা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই পার্লার কর্মীর মতো সারা দেশের পার্লার কর্মী ও মালিক সবাই এখন বিপর্যস্ত। তাঁরা মহামারির প্রথম ধাক্কাই কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এর মধ্যে আবার কঠোর লকডাউনের ধাক্কায় মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের এই সৌন্দর্য সেবা খাত।

বিউটি পার্লার কর্মী নীশা মেরি ম্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর দক্ষিণ কুড়িল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকি। আমার এক ছেলে আছে। সে তার নানা-নানুর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে থাকে। স্বামী গাড়ির ড্রাইভার। আগেরবার লকডাউনে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরে করোনা পরিস্থিতি কমে যাওয়ায় ঢাকায় চলে আসি। অন্য কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় আবার পার্লারেই চাকরি নিই। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের মতো কাজ নেই। তার পরও টুকটাক কিছু কাজ ছিল। এখন আবার নতুন করে কঠোর লকডাউন দেওয়ায় পার্লার বন্ধ রয়েছে। এদিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় স্বামীও বসা। চাকরি হারানোর ভয়ে আছি, এভাবে লকডাউন যদি দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে তো মালিক পার্লার বন্ধ করে দেবে। এদিকে ঠিকমতো বাসা ভাড়া দিতে পারছি না। এই লকডাউন সব এলোমেলো করে দিয়েছে। কিভাবে বাসা ভাড়া দেব, কিভাবে সংসার চালাব তা নিয়েই টেনশন কাজ করে সব সময়।’

এই নিউ মডার্ন বিউটি পার্লারের মালিক শিরিন সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার প্রথম ধাক্কায় ক্ষতির মুখে পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে পার্লার ব্যবসা ছেড়েই দিয়েছিলাম। পরে ঘুরে দাঁড়াতে বাড্ডার মহিলা সমিতি থেকে আট লাখ টাকা লোন এনে আবার নতুন করে পার্লার ব্যবসা শুরু করেছি। প্রতি মাসে কিস্তি ১৮ হাজার টাকা, সঙ্গে পার্লার ভাড়া ও পার্লার কর্মীর বেতন তো আছেই। এখন হঠাৎ আবার করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত মাস থেকে কাজ কমে গিয়েছিল। চলতি মাসে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করায় পার্লার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাই বাসা ভাড়া ও কিস্তির টাকাও দিতে পারছি না। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ করে শুধু কিস্তির লাভের আট হাজার টাকা দিয়ে যাচ্ছি। ঈদে কিছুটা কাজ পেলেও এখন আবার লকডাউন। কত দিন এ অবস্থা চলবে, জানি না। কারো কাছে হাতও পাততে পারছি না। বড় পার্লারগুলো হয়তো বিপর্যয় সামাল দিতে পারবে। আমার মতো ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা যাঁরা আছেন, তাঁদের সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।’

বিউটি সার্ভিস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, বিউটি পার্লার খাত শিল্প হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু তেমনভাবে বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা। দেশের ৬৪ জেলাতেই আছে ছোট-বড় অনেক বিউটি পার্লার, সেলুন ও স্পা কেন্দ্র। বর্তমানে নিবন্ধিত পার্লারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ, যেখানে কাজ করে ১০ লাখের বেশি নারী। তাঁদের ৯৫ শতাংশ কর্মীই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। বাংলাদেশের নারী কর্মজীবীদের মোট সংখ্যার ১৮ শতাংশ পার্লারে কাজ করছেন।