kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিজের গবেষণা

শিক্ষায় এগিয়ে তবু চাকরিতে পিছিয়ে ব্রিটিশ এশীয়রা

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষায় এগিয়ে তবু চাকরিতে পিছিয়ে ব্রিটিশ এশীয়রা

যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হওয়া এশীয়দের দ্বিতীয় প্রজন্ম, যাঁদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্রিটেনে। তাঁদের বেশির ভাগ দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে উঠে এলেও উচ্চশিক্ষা অর্জনে ব্রিটিশ বন্ধুদের চেয়ে অনেক ভালো করছেন। অথচ চাকরিতে তাঁদের নিয়োগের পরিমাণ সাদা ব্রিটিশদের চেয়ে অনেক কম।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও কৃষ্ণ ক্যারিবীয় অভিবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সাদা ব্রিটিশদের চেয়ে বেশি। কিন্তু এই যোগ্যতা শ্রমবাজারে পুরোপুরি সফলতায় রূপান্তরিত হয় না। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিজের (আইএফএস) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বৈষম্যের এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণত সরকারি নীতি নিয়ে বিশ্লেষণ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

আইএফএস তাদের প্রতিবেদনে প্রাপ্ত বিষয় নিয়ে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শিক্ষা শেষ করে অভিবাসীদের সন্তানরা (জাতিগত সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় প্রজন্ম) সাদা সংখ্যাগরিষ্ঠদের তুলনায় খুব কমই নিয়োগ পেয়ে থাকেন, আবার নিয়োগ পেলেও ব্যবস্থাপনা পদে যাওয়ার সুযোগও খুব কম পান। কর্মসংস্থানের এই ব্যবধান একটি সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এলেও দ্বিতীয় প্রজন্মের জাতিগত সংখ্যালঘুরা তাঁদের সাদা ব্রিটিশ বন্ধুদের চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে। যেমন ৫০ শতাংশ ভারতীয় এবং ৩৫ শতাংশ পাকিস্তানি ও বাংলাদেশির স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। যেখানে একই যোগ্যতা রয়েছে ২৬ শতাংশ সাদা ব্রিটিশের।

দেখা যায়, ব্রিটেনে দরিদ্র পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের একজন ভারতীয়, বাংলাদেশি এবং কৃষ্ণ ক্যারিবীয় নারী তাঁর কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি অর্জন করেন একই অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে আসা সাদা ব্রিটিশদের চেয়ে। একই সঙ্গে ভারতীয় ও বাংলাদেশি পুরুষরা তাঁদের সমকক্ষ সাদা ব্রিটিশদের চেয়ে ৩০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি অর্জন করেন। কিন্তু চাকরির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তাঁরা তাঁদের সমকক্ষ সাদা ব্রিটিশদের মতো মূল্যায়ন পান না।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক এবং প্রতিবেদনটির সহরচয়িতা লুচিন্দা প্ল্যাট বলেন, ‘শিক্ষায় তাঁদের অসামান্য সাফল্যকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই, কিন্তু কঠিন প্রশ্ন হচ্ছে, সেই সাফল্য কেন চাকরির বাজারে সমানভাবে প্রতিফলিত হয় না। শ্রমবাজারে বৈষম্য রয়েছে এটি স্পষ্ট।’

যুক্তরাজ্যে চাকরির বাজারে যে বড় অসমতা রয়েছে প্রতিবেদনটি তার অংশমাত্র তুলে এনেছে। আইএফএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিগত সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশির ভাগই সুবিধাবঞ্চিত সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে এসেছেন। তবে মাতা-পিতা পেশাজীবী বা ব্যবস্থাপনাগত কোনো পদে রয়েছেন সাদা ব্রিটিশদের তুলনায় এমন ভারতীয় রয়েছেন মাত্র ১৬ শতাংশ, ৭ শতাংশ পাকিস্তানি, ৫ শতাংশ বাংলাদেশি এবং ১৪ শতাংশ কৃষ্ণ ক্যারিবীয়। যাঁরা সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। এর বিপরীতে সাদা ব্রিটিশ ২৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রজন্মের জাতিগত এই সংখ্যালঘুরা ২০১১ সালে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছেন।

প্ল্যাট আরো বলেন, ‘আপনি যদি দরিদ্র পরিবার থেকে আসা সাদা ব্রিটিশ হন তবে জাতিগত সংখ্যালঘু দরিদ্র পরিবারের সন্তানের মতো চাকরির বাজারে বৈষম্যের শিকার হবেন না।’ এই গবেষণায় ২০১১ সাল পর্যন্ত ৪০ বছরের ডাটা ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র : সিএনএন মানি।



সাতদিনের সেরা