kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

মান আর সাশ্রয়ী মূল্যে এগোচ্ছে দেশের মেলামাইনশিল্প

♦ কাঁচামাল আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা হলে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব বলে জানান ব্যবসায়ীরা
♦ প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এ বাজার বাড়ছে

এস এম শাহাদাত, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মান আর সাশ্রয়ী মূল্যে এগোচ্ছে দেশের মেলামাইনশিল্প

কারখানায় তৈরি হচ্ছে মেলামাইনের তৈজসপত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

গুণগত মান আর ভোক্তার চাহিদায় ক্রমেই বড় হচ্ছে দেশের মেলামাইনশিল্প। সাফল্য দেখাচ্ছে রপ্তানিতেও। আশির দশকে দেশের কয়েকজন বেসরকারি উদ্যোক্তার হাতে এ শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। করোনাকালীন লকডাউনে তিন মাস কারখানা উৎপাদন বন্ধ থাকলেও পণ্য সরবরাহে তেমন কোনো সংকট হয়নি। উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিত্যনতুন নকশা, টেকসই কাঠামো ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে মেলামাইন পণ্যের বাজার দিন দিন বাড়ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

মেলামাইন পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (এমপিএমইএ) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বড় আকারের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আছে ১০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শরীফ, ইটালিয়ানো, বাংলাদেশ, ডায়মন্ড, তাজ, কেয়া, ডায়না প্রভৃতি। এর বাইরে পুরান ঢাকাভিত্তিক কিছু ছোট কারখানা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উৎপাদন, বিপণন মিলিয়ে এ খাতে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান ১৫ হাজার লোকের। বছরে মেলামাইন তৈজসপত্রের বাজার এক হাজার কোটি টাকার। প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এ বাজার বাড়ছে। বর্তমানে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চমধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষের ব্যবহারের তালিকায় মেলামাইনের তৈরি কোনো না কোনো পণ্য রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেলামাইন তৈজসপত্রের বাজার দিন দিন বাড়লেও একই সঙ্গে বেড়েছে প্রতিযোগিতাও। ফলে আয় সেভাবে বাড়ছে না। তা ছাড়া উৎপাদনের কাঁচামাল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। মেলামাইন পণ্য উৎপাদনে মূলত তিনটি কাঁচামালের প্রয়োজন হয়। এগুলো হলো মোল্ডিং পাউডার, শাইনিং ও পেপার। কাঁচামালের উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে চীনের সঙ্গে রপ্তানি বাজারে পেরে ওঠা যাচ্ছে না। বর্তমানে কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর দিতে হয়। আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা হলে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এর পাশাপাশি কারখানা করার জন্য প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের প্লট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তাঁরা।

১৯৮৬ সালে দেশে প্রথম যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ মেলামাইন। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে জিটি-১, জিটি-২, জিটি-৩—এই তিন ধরনের ডিজাইন নিয়ে মেলামাইন পণ্য উৎপাদন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বাংলাদেশ মেলামাইন জিটি-৩৪ ডিজাইন নিয়ে ১২৪টি আইটেমের পণ্য দিয়ে বাজার ধরে রেখেছে। বাংলাদেশ মেলামাইনের কারখানা ম্যানেজার আরাফাত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুরু থেকেই বাংলাদেশ মেলামাইন দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে আসছে। বাজারে আমাদের টিফিন ক্যারিয়ার আইটেম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।’

এরপর ১৯৮৮ সালে ১০০টি আইটেমের পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে শরীফ মেলামাইন। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখেন শরীফ মেলামাইনের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ী রজ্জব শরীফ। এরপর গত তিন দশকে এই পণ্যের বাজার যেমন বেড়েছে, তেমনি যুক্ত হয়েছে নতুন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও। বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান শরীফ মেলামাইন। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আছে তিন হাজারের বেশি লোক। শরীফ মেলামাইনের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন রজ্জব শরীফ। কম্পানি জানায়, বর্তমানে শরীফ মেলামাইন দেশের চাহিদার ৪০ শতাংশ মেলামাইন পণ্য সরবরাহ করে আসছে। বাহারি ডিজাইনের ২০০টি আইটেম নিয়ে মেলামাইন বাজারে প্রতিযোগিতা করছে। বাজারে প্লেট, বাটি, চামচ, গ্লাস, চা-কাপ, পিরিচ, বাটি সেট, ডিনার সেট, নোবেল প্লেট, হাফ সেট, জগের মতো প্রচলিত গৃহস্থালির তৈজসপত্র ছাড়াও শিশু ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য মেলামাইন পণ্যসামগ্রী উৎপাদন করে শরীফ মেলামাইন। যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, সুইডেন, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ মোট ১৪টি দেশে বর্তমানে শরীফ মেলামাইনের পণ্য কম-বেশি রপ্তানি হচ্ছে।

শরীফ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক খন্দকার জিয়াউল বাশার বলেন, ‘তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে শরীফ মেলামাইন শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কিছু ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পণ্য তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে। এতে ক্রেতারা প্রতাারিত হচ্ছে এবং বাজারে তা একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’



সাতদিনের সেরা