kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছেই

♦ আমদানীকৃত মেল্টিং স্ক্র্যাপের মূল্য বেড়ে প্রায় ৬০০ ডলার
♦ টনপ্রতি রডের দাম ৮০ হাজার টাকা হওয়ার শঙ্কা
♦ বস্তাপ্রতি সিমেন্টের দাম বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা

এ এস এম সাদ   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছেই

মাসদুয়েক আগেও টনপ্রতি ৬০ গ্রেডের রডের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে ৬০ গ্রেডের টনপ্রতি রড কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর রডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সিমেন্ট, বালু ও ইটের দামও।

এ বছরের শুরু থেকেই রডের মূল্যবৃদ্ধি পায়। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্যই রডের দাম বেড়েছে। আমদানীকৃত মেল্টিং স্ক্র্যাপের (রড তৈরির কাঁচামাল) দাম বর্তমানে টনপ্রতি প্রায় ৫৫০-৫৯০ ডলারে পৌঁছেছে। আবার ভাঙা জাহাজের লোহাও বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ফের বেড়েছে রডের দাম। কারণ দেশে রড তৈরিতে প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। দুই মাস আগেও মেল্টিং স্ক্র্যাপের টনপ্রতি দাম ছিল ৪৯০-৫০০ ডলারে। এর ফলে গত চার মাসে রডের দাম বেড়েছে প্রায় ১৮-১৯ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শাহরিয়ার স্টিল মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ মাসুদুল আলম মাসুদ বলেন, ‘দেশে মাসে ৭০ লাখ টনের ওপর রড তৈরির কাঁচামালের চাহিদা রয়েছে। বাইরের থেকে মাসে ৫০-৫৫ লাখ মেট্রিক টন মেল্টিং স্ক্র্যাপ আমদানি করা হয়। এরপর সেগুলো গলিয়ে অন্যান্য উপকরণের সহায়তায় রড তৈরি করা হয়। আর ভাঙা জাহাজের টুকরার আমদানি করা হয় প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন। আর বাকি ৩০ শতাংশ কাঁচামাল দেশি বাজার থেকে জোগান দেওয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে ৫৫০-৫৯০ ডলার টনপ্রতি মেল্টিং স্ক্র্যাপ ও ৬০০-৬৫০ ডলার টনপ্রতি ভাঙা জাহাজের টুকরা আমদানি করা হচ্ছে। ফলে এই লোহার টুকরা থেকে নতুন তৈরীকৃত যে রড আগামী দুই মাসের মধ্যে বাজারে আসবে সেগুলোর মূল্য টনপ্রতি বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮০-৮৫ হাজার টাকা। ফলে আগের তুলনায় রডের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে কম্পানি ভেদে দামে কম বেশি হবে।’

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ গ্রেডের বিএসআরএম রড বিক্রি করা হচ্ছে ৭৫ হাজার টাকা, আবুল খায়ের স্টিল ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা, একেএস ৭৩ হাজার, রহিম স্টিল ৭৩ হাজার এবং শাহরিয়ার স্টিল ৭২ হাজার টাকা। অথচ মাসখানেক আগেও এই কম্পানিগুলোর রডের বাজার মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

আবার নির্মাণসামগ্রীর আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সিমেন্টের দামও বাড়ছে। বস্তাপ্রতি ৫০ কেজি শাহ সিমেন্ট ৪৩০-৪০ টাকা, গোল্ড সিমেন্ট ৪৮০ টাকা, বসুন্ধরা সিমেন্ট ৪৫০ টাকা, ফ্রেশ সিমেন্ট ৪৩০ টাকা, প্রিমিয়াম সিমেন্ট ৪২০ টাকা, বেঙ্গল সিমেন্ট ৪১০ টাকায় বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সিমেন্টের দাম বাড়ছে। এর পাশাপাশি সিমেন্ট তৈরির উপাদান ক্লিংকারের দামও বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি টন ক্লিংকারের সিএফআর মূল্য ৬০ থেকে ৬২ ডলার, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৫৬-৫৭ ডলার। এতে বস্তাপ্রতি সিমেন্টের দাম বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) প্রেসিডেন্ট ও ক্রাউন সিমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘অন্যান্য বছর জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি পেলেও সেটা ছিল সাময়িক। সে কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে সিমেন্টের মূল্যের ওপর এর খুব বেশি একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি কিন্তু গত বছরের নভেম্বর মাসের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজীকরণ খরচ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। কিছুদিন আগেও ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনাম থেকে এমনকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতি টন ক্লিংকার পরিবহনে ২০ থেকে ২২ ডলার খরচ হতো, যা বর্তমানে ২৬ থেকে ২৮ ডলার পর্যন্ত উঠে গেছে।’ আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজীকরণের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিএমএ সভাপতি মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘যেকোনো কারণে সিমেন্টের মূল্যবৃদ্ধি পেলে তা এই খাতের জন্য ক্ষতিকর। কারণ তাতে বিক্রি ও উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়। অন্যদিকে ফিক্সড কস্ট বেড়ে যায়। এর চূড়ান্ত ফল, মুনাফা কমে যাওয়া অথবা লোকসান হওয়া।’ তিনি বলেন, ‘এই খাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অতিরিক্ত কর ধার্য করা আছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ করে মধ্যম আয়ের ক্রেতার স্বার্থে এই কর সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা দরকার। যেমন, দ্বৈত কর সমন্বয় করা এবং আমদানি পর্যায়ে নির্ধারিত শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫০ টাকায় নির্ধারণ করা যেতে পারে। তাতে পণ্যের মূল্য সহনীয় থাকবে, বিক্রিও বাড়বে।’

নির্মাণসামগ্রীর আরেক প্রয়োজনীয় উপাদান বালির দামও বেড়েছে। প্রতি ট্রাক সাদা বালির দাম দুই হাজার ৩০০ ও লাল বালির দাম ১৪ হাজার করে বিক্রি হচ্ছে।

ইটের দামও গত বছর থেকে কমপক্ষে ছয় হাজার টাকা বেড়েছে। ইটভাটা ব্যবসায়ীরা জানান, গত অক্টোবরের মাঝামাঝি ইটভাটার মৌসুমের শুরুতে প্রতি তিন হাজার ইট বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে সাড়ে ১৮ হাজার টাকায়। কিন্তু এরপর দাম বেড়ে তা ঠেকেছে সাড়ে ২২ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকায়। ক্ষেত্রবিশেষে ২৪ হাজারেও বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে ইট পোড়ানোর জ্বালানি কয়লার দাম প্রতি টন সাত হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার আশপাশের ভাটা মালিকরা এর কমে কয়লা কিনতে পারছেন না। ফলে দাম বেড়েছে ইটের।



সাতদিনের সেরা