kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

বানেশ্বর হাট

করোনায় পাইকারের অভাব

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবছর রাজশাহীর বৃহত্তর আমের হাট বসে পুঠিয়ার বানেশ্বরে। এর বাইরে বিভিন্ন মোড়েও আম কেনাবেচা হয়। আবার বাগান থেকেও সরাসরি আম কিনে পাইকাররা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠান। এ বছরও বানেশ্বরে হাট বসেছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে অন্যান্যবার হাটের মাঝখানে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের যে মাঠটি (কাছারি মাঠ) আছে তার পরিবর্তে বানেশ্বর সরকারি কলেজ মাঠে বসছে আমের হাট। এর ফলে অন্যান্যবার আমের এই মৌসুমে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের বানেশ্বর বাজার অংশে যে যানজটের তৈরি হতো দিনের বেলা, এবার সেটি নেই। বানেশ্বর কাছারি মাঠের সেই কোলাহলও নেই।

অন্যদিকে যেখানে হাট বসছে, সেই বানেশ্বর কলেজ মাঠেও গত বুধবার দুপুরে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের তেমন সমাগম দেখা যায়নি। অন্যান্যবার যেখানে আমের হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে গমগম করত কাছারি মাঠ, সেখানে বানেশ্বর কলেজ মাঠটি যেন অনেকটাই নিষ্প্রাণ ছিল। আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের দাবি, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই আমের ভরা মৌসুমেও দাম বাড়ছে না শুধু পাইকার, ব্যবসায়ী তেমন না থাকায়। ফলে এখনো গুটি বা লখনা জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে, যা গতবার ছিল এই সময়ে অন্তত দেড় হাজার টাকা মণ।

এই হাটে আম বিক্রি করতে আসা দুর্গাপুরের মাড়িয়া গ্রামের নাবিউল ইসলাম বলেন, ‘একেবারে শেষ সময়ের দিকে এসেও গুটি ও লখনা জাতের আমের দাম না বেড়ে বরং কমে গেছে গত কয়েক দিনে। শুরুতেই এই আম ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দরে। অন্যান্য বছরের শুরুতেই গুটি ও লখনা বিক্রি হতো কমপক্ষে ৮০০ টাকা মণ দরে। সেটি গিয়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়ও ঠেকত। এবার সেখানে ৮০০ টাকাই পার হয়নি।’

এই হাটে আম বিক্রি করতে আসা আরেক চাষি বাঘার মকবুল হোসেন বলেন, ‘একেবারে শেষ দিকে এসেও গোপালভোগ জাতের আম এখনো দুই হাজার ৫০০ টাকা মণ ছাড়াতে পারেনি। অথচ অন্য বছর এই সময়ে এই জাতের আম বিক্রি হয়েছে চার হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা বা তারও ওপরে। আবার এ সময়ে যেখানে ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর বিক্রি হয়েছে অন্তত তিন হাজার টাকা মণ দরে, সেখানে এখনো এ জাতের আম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে। এর বাইরে ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা মণ দরে।’ করোনার কারণে হাটে পাইকাররা না আসায় আমের দাম বাড়ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এই হাটের আড়তদার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার তেমন পাইকার নামেনি। এ কারণে আমের দাম অনেকটা কম। এই সময়ে যেখানে আমের দাম প্রতিদিন মণে অন্তত ১০০ টাকা করে বাড়ে, সেখানে কোনো কোনো দিন দাম কমে যাচ্ছে। চাষিরা আম নিয়ে এসে ক্রেতার অভাবে বসে থেকে সময় কাটাচ্ছেন।’