kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

নওগাঁর ৭৬% আম্রপালি

ফরিদুল করিম ও তছলিম উদ্দীন, নওগাঁ   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর ৭৬% আম্রপালি

কৃষিই নওগাঁর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি। কাটারিভোগ, কালোজিরা, জিরাশাইল চালসহ উন্নত মানের চালের উত্পাদনের জন্য এই জেলার বিশেষ পরিচিতি আছে। ধান চাষনির্ভর এই জেলা দেশের বেশির ভাগ চালের জোগান দেয়। তবে ১০-১২ বছরের মধ্যে ধানের এই রাজ্যেই ঘটেছে সুস্বাদু আম চাষের বিপ্লব। ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা, ধামইরহাট উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জঘেঁষা নিয়ামতপুর উপজেলাতে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে শত শত হেক্টর জমিতে আমের বাগান। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আমের সম্ভাব্য চাষ হয়েছে ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। জেলায় আম্রপালি ৭৬ শতাংশ, বারি-৪ আম ৬ শতাংশ, আশ্বিনা ৭ শতাংশ, ফজলি ৩ শতাংশ, ল্যাংড়া ৩ শতাংশ, ক্ষীরশাপাতি ২ শতাংশ, গৌড়মতি ১ শতাংশ, কাটিমন ১ শতাংশ ও অন্যান্য জাতের ১ শতাংশ জমিতে আমের বাগান গড়ে উঠেছে।

আম চাষিরা জানান, আম চাষে জেলার ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা পোরশা ও সাপাহারে কিছু আমবাগান ছিল। এ ছাড়া যেদিকে দৃষ্টি যেত শুধুই ধু ধু ফাঁকা মাঠই চোখে পড়ত। অন্যান্য আবাদের চেয়ে আম চাষ বেশি লাভজনক হওয়ার কারণে ২০০৯ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে ধান চাষের পাশাপাশি আমবাগান গড়ে উঠতে শুরু করে।

সাপাহার উপজেলার পিছলডঙ্গা গ্রামের আম চাষি মোমিনুল হক জানান, গত বছর দুই বছর বয়সের আমবাগান থেকে পাঁচ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবার নতুন করে আবার ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আমবাগান তৈরি করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক মণ ধানের দাম ওঠে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। সেখানে এক মণ আম হাজারের নিচে নেই। কম-বেশি সব জায়গায় এখন আমের বাগান গড়ে উঠেছে। সারা দেশের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসে আমবাগান কিনে নিচ্ছেন আর ফলনও হচ্ছে ব্যাপক। গত মৌসুমে আমের মণ চার হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। নওগাঁয় প্রায় ছোট-বড় ৫৫০টি আমের আড়ত রয়েছে। গত বছর এই আড়তগুলোর অধীনে কাজ করছেন প্রায় ২০ হাজার মৌসুমি শ্রমিক। একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ খান জানান, গত মৌসুমে নওগাঁর আম চাষিরা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আম বিক্রি করেছেন।

ফল গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট রাজশাহীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলীম উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, নওগাঁ একটি খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা। বর্তমানে নওগাঁয় আম চাষ হচ্ছে বেশি। এই জেলায় আম্রপালি বা বারি-৩ জাতের আমের ফলন বেশি হচ্ছে।

সাপাহার আম আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি কার্ত্তিক সাহা জানান, গত ১০ বছরে সাপাহারে আমবাজার ঘিরে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আম কিনতে আসেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল ওয়াদুদ জানান নওগাঁ জেলা বরেন্দ্র অঞ্চলভুক্ত এলাকা। জেলার পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলায় বেশি আমবাগান গড়ে উঠেছে। বরেন্দ্র এলাকায় পানির পরিমাণ কম আবার সেচ সুবিধাও নেই। তাই মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণেই আমের প্রচুর ফলন হয়। 

এফবিসিসিআই পরিচালক ও নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল বলেন, যেহেতু নওগাঁয় ভারত সীমান্তঘেঁষা উপজেলাগুলোতে দিন দিন আম উত্পাদনে দেশসেরা হয়ে উঠছে, তাই আম পরিবহনের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, জেলায় বেড়েই চলেছে আমের বাগান। বর্তমানে নওগাঁ থেকে সীমিত পরিমাণে আম বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা