kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

খোকনের আমের ইউরোপ জয়

আহসান হাবিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খোকনের আমের ইউরোপ জয়

সারি সারি বড় বড় আমগাছ, ফাঁকে ফাঁকে পাঁচ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গাছের সারি। ডালে ডালে ঝুলছে নানা প্রজাতির আম। কাঁচা থাকলে সবুজ আর পাকলে অনেকটা লাল ও হলুদ। কয়েকটি ৫০ বিঘার বিশাল বাগান প্রকল্পে আম ধরা শুরু হয়েছে চার বছর ধরে। ৫ জুন থেকে আম বিক্রি শুরু করেছেন শহিদুল ইসলাম খোকন। এবার আম বিক্রি করে তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকা পাবেন বলে আশা করছেন। এ বছর দেশের জিআই পণ্য হিসেবে খ্যাত ক্ষীরশাপাতি আম দুই হাজার ২০০ কেজি সুইডেনে পাঠিয়েছেন খোকন।

গত বছর আমের মৌসুমে এ বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছিলেন খোকন। ব্যতিক্রমী বাগান করে জনমনে তাক লাগিয়েছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাগান পরিদর্শনে আসে বহু লোক, পাশাপাশি এমন বাগান তৈরির পরামর্শও নেয় তাঁর কাছ থেকে। এমনকি বিদেশি রাষ্ট্রদূতরাও খোকনের বাগান পরিদর্শনে যান। বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন সবাই।

বিশাল এ বাগান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ইএনওর বাসভবনের পেছনে। কয়েকটি প্রকল্পের মধ্যে এই প্রকল্পে তিন বছর আগে বড় গাছের মধ্যে গড়ে তোলা এই বাগানে আম্রপালি, বারি ফোর, গৌড়মতি, মহানন্দা, বানানা, বৃন্দাবন, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ, হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম রয়েছে। ওই জমিতে ১৫ বছর আগে লাগানো আমগাছ আছে। গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি, গোলাপবাস, আশ্বিনা, ফজলিসহ কয়েকটি জাতের আমগাছ আছে। বাগানে এখন খালি আম চোখেই পড়ে না তেমন। আম নিরাপদ রাখতে সব আমেই লাগানো হয়েছে মাছি ও বালাই দমন প্রতিরোধে ব্যাগ। এতে কীটনাশকের ব্যবহার নাই বললেই চলে,পাশাপাশি স্প্রে ছাড়াই আম উত্পাদন হওয়ায় পুরো স্বাস্থ্যসম্মত।

২০১৬ সালেও প্রায় চার মেট্রিক টন আম রপ্তানিকারকদের দিয়েছিলেন খোকন। কয়েক দিনের মধ্যে আরো কিছু আম নেওয়ার আগ্রহ দেখান রপ্তানিকারকরা। ক্ষীরশাপাতি আমের আরো একটি বড় চালান বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দিনে ল্যাংড়া, বারি ফোর, ফজলি, আম্রপালিও ইউরোপীয় দেশগুলোতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৫-৩০ ফুট উচ্চতার আমের গাছের সারির মাঝে পাঁচ-ছয় ফুট উচ্চতার একটি আমগাছ। বাগানের পুরো এলাকা লোহার শক্ত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। বাগানের এক প্রান্তে রয়েছে নয়নাভিরাম একটি পুকুর। সেখানে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ। বিশাল এ বাগান পরিচর্যা, পরিবর্ধন ও প্রক্রিয়াকরণের কাজে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক রয়েছেন।

খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল গতানুগতিক কিছু না করে ভিন্ন কিছু করার। যেহেতু চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জন্য বিখ্যাত, তাই আম নিয়ে কাজ শুরু করি। প্রথমত বড় গাছের একটি বাগান লিজ নিই। ফাঁকা জায়গাগুলোতে দামি আমগাছ রোপণ করি। প্রথম বছর ফলন তেমন ভালো হয়নি। তার পরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। পরের বছর আরো বেশি ফলন হয়, ফলে লক্ষাধিক টাকা পাই। বর্তমানে যে আম রয়েছে সেগুলো থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা পাব বলে আশা করছি। আশপাশে বর্তমানে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে ম্যাঙ্গো প্রজেক্ট করেছি, আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।’