kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার

মধ্য ও নিম্নবিত্ত খুব একটা উপকৃত হবে না

ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর

এ এস এম সাদ   

৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্য ও নিম্নবিত্ত খুব একটা উপকৃত হবে না

আগামী অর্থবছরের জন্য যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তা গতানুগতিক। সারা বিশ্বে করোনার কারণে এ রকম বাজেট কোনো দেশেই করেনি। আগে থেকেই মন্ত্রী ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল বাজেটটি যেন করোনাকালীন বাজেট হয়। কিন্তু এই বাজেট থেকে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা খুব একটা উপকৃত হবে না। ফলে অর্থমন্ত্রী সেই গতানুগতিক ধারা থেকে বের হননি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ।

তিনি বলেন, জনপ্রশাসনকে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও করোনা মোকাবেলার জন্য বেশি বরাদ্দ না দিয়ে অন্যান্য আর্থিক খাতে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এবার এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়নি। এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ প্রতিবছর এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা শুধু বাড়ানো হয়। সেই অনুযায়ী কোনো বছরেই সেটি আদায় করতে পারে না। ফলে এর একটা নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তার পরও বাজেটে এনবিআরের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সেটি বেশি। ঘাটতি বাজেট কত হতে পারে, সেটির ওপর বিবেচনা করেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৭-১৮ সালে লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ১৬ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। আগের বছরের লক্ষ্যমাত্রা আদায় হয়েছে কি না, সেটা বিবেচনা না করেই বছর বছর শুধু বাজেট বাড়ানো হয়। তবে এই বছরের তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও অনেক বেশি। রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের জন্য সরকারের কোষাগারে অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু বাজেট প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ব্যয়ের বাজেট বড় করে অল্প অর্থ অর্জন করে অর্থনীতির জন্য কোনো লাভই বয়ে আনবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাজেট বাস্তবসম্মত নয়।

ব্যয়ের বাজেটের সঙ্গে আয়ের বাজেটের একটা সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে হবে। কিন্তু বছর ঘুরেই দেখা যায় ব্যয়ের বাজেট বড় থাকলেও আয় কম থাকে। এতে বিশাল একটা ঘাটতি বাজেট তৈরি হয়।  কিন্তু ঘাটতি পূরণের জন্য এনবিআরকে বড় রকমের লক্ষ্যমাত্রা দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ তখন নিয়মিত করদাতারা ওপর একটা চাপ প্রয়োগ করবে।

এনবিআরের এই সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, অর্থনীতির কাঠামো ঠিক না করে এনবিআরকে রাজস্ব আদায় করতে বলা যাবে না। এতে এনবিআর তার সঠিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।