kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

দেশি শিল্প ও বেসরকারি খাত সহায়ক বাজেট

বাণিজ্য ডেস্ক   

৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশি শিল্প ও বেসরকারি খাত সহায়ক বাজেট

করোনা পরিস্থিতিতে নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কল্যাণমুখী বাজেট দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। ২০২১-২২ অর্থবছর নিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত। এই কঠিন সময়ে জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঘোষিত বাজেট আশাব্যঞ্জক হলেও বাস্তবায়নে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে সরকারকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো করদাতা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ তৃতীয় লিঙ্গের শ্রমিক অথবা ১০০-এর অধিক কর্মচারী নিয়োগ সাপেক্ষে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় পণ্য উৎপাদনকারী বৃৃহৎ শিল্পে (অটোমোবাইল খাত) ২০ বছর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পে ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ১০ বছর কর অব্যাহতি এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ১০ বছর কর অব্যাহতি প্রদান করায় বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় শিল্প চেম্বার হিসেবে বিসিআই অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়। কারণ এ বাজেট বিসিআইর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন। বিসিআই মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেট দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি খাত সহায়ক বাজেট।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমুদয় মূলধনী যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে করহার ৩৭.৫ শতাংশ। বিসিআইর পক্ষ থেকে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল; কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত ১ শতাংশের অতিরিক্ত সব ধরনের শুল্ক-কর মওকুফ করার পুনরায় অনুরোধ করছি।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার জন্য এবং দেশের সব মানুষের সুলভে মানসম্পন্ন চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার বাইরে স্থাপিত হাসপাতালে ১০ বছর কর অব্যাহতি প্রদান করায় অর্থমন্ত্রী প্রশংসার দাবি রাখেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর ২.৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এই কমানোর ধারাবাহিকতা ন্যূনতম আগামী তিন বাজেটে অব্যাহত রাখার সুপারিশ করছে বিসিআই। আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর (এটি) ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। এ আগাম কর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করছি। তিন কোটি টাকার টার্নওভারে ন্যূনতম করহার ০.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে টার্নওভারের ন্যূনতম হার চার কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব করছি। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় আগামী কর-বছরের করমুক্ত আয়ের সীমা চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব করছি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।