kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

সিএমএসএমই ও কৃষি খাত আজও উপেক্ষিত

মোস্তফা চৌধুরী টিটু, সভাপতি, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিএমএসএমই ও কৃষি খাত আজও উপেক্ষিত

এবারের (২০২১-২২) প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কোনো মহাপরিকল্পনা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আরসিসিআই)। কেননা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশের এক কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই সংশোধিত বাজেটে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করারও অনুরোধ জানানো হয়। তবে স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিকে সাধুবাদ জানায় আরসিসিআই।

রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী টিটু বলেন, ‘শুধু কর বা ভ্যাট কমালেই যে বিনিয়োগ বাড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যবসা সহজীকরণ সূচক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের সহজলভ্যতার বিষয়গুলো মেটাতে না পারলে বিনিয়োগ কখনোই বাড়বে না।’

এ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে সহায়ক নীতি ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহবান জানান তিনি। টিটু বলেন, ‘রপ্তানিমুখী ও বৃহৎ শিল্প প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেলেও অনানুষ্ঠানিক খাত, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত (সিএমএসএমই) ও কৃষি খাত আজও উপেক্ষিত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ব্যবসায় পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তাই সামান্য ছাড় দিয়ে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিলে চলবে না। আবার শুধু অর্থ বরাদ্দ রাখলেই হবে না, বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে সুষ্ঠু ও সুষমভাবে বণ্টন হয় সেদিকেও কড়া নজরদারি এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখার আহবান জানান তিনি।

আরসিসিআই জানায়, বাজেটে করোনাকালীন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে উপকার ভোগীর সংখ্যা বাড়লেও করোনায় নতুন গরিবদের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ নেই। যদিও করোনায় গরিব মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জীবন ও জীবিকা হুমকিতে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে, অনেকের আয় কমেছে। সংশোধিত বাজেটে করোনায় নতুন গরিবদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

কৃষিকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়ার ফলে কৃষি খাত খাদ্য উৎপাদনে আরো ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিতে গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উপকরণে অধিক বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল বলে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু মনে করেন। তিনি বলেন, ‘রংপুর বিভাগের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। তাই সংশোধিত বাজেটে রংপুর বিভাগে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প জোন স্থাপনের ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

রংপুর চেম্বারের সভাপতি মনে করেন, শিক্ষা খাতের বরাদ্দ হলো জাতি গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ। অথচ এখানে যে যৎসামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাতে শিক্ষার মান বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা তো দূরের কথা, দেশীয় মানটাও ধরে রাখা কঠিন। তাই সংশোধিত বাজেটে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পোশাক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প জোন গড়ে তোলা দরকার।