kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

ভোক্তার জন্য আশাভঙ্গের বাজেট

গোলাম রহমান, সভাপতি, ক্যাব

রোকন মাহমুদ   

৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভোক্তার জন্য আশাভঙ্গের বাজেট

বাজেটে দেশীয় শিল্পকে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পণ্যের দাম কমবে। কিন্তু সার্বিকভাবে হবে উল্টোটা। কারণ পণ্যের দাম কমবে, যদি প্রতিযোগিতা থাকে। আর প্রতিযোগিতা আসে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে থাকলে। করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছে, অনেকের কাজ থাকলেও আয় কমেছে। এতে যে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, তা বাড়াতে বাজেটে তেমন কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তাদের আবার কর্মসংস্থানের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেই বাজেটে। ফলে বাজারে পণ্যের দাম যা-ই থাক, যদি ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা না থাকে তবে লাভ তেমন নেই। এ ছাড়া ইদানীং আমদানি করা ভোগ্য পণ্যের যে হারে দাম বাড়ছে, তাতে দাম কমানোর একটা পদক্ষেপ থাকা দরকার ছিল। কিন্তু তা-ও দেখছি না। ফলে সার্বিকভাবে বলা যায়, এই বাজেটে সাধারণ ক্রেতা-ভোক্তার জন্য কিছু নেই। তাদের জন্য আশাভঙ্গের বাজেট।

এর বাইরে আরো একটি বিষয় হলো, এত দিন যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, বড় ব্যবসায়ীরা তা সহজে পেয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে বিতরণ। কিন্তু ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেলায় তা হয়নি। তাঁদের প্রণোদনার অর্থ পেতে অনেক সময় লেগেছে, অনেকে পাননি। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। এর কারণেও তাঁদের আয় বাড়ছে না, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না। এবারের বাজেটেও বড় ব্যবসায়ী বা ধনীদের জন্যই সব সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেটা হবে তা হলো—বিত্তশালীরা আরো বিত্তবান হবে, বিপরীতে ছোট ব্যবসায়ী বা কম আয়ের মানুষ আরো দরিদ্র হবে। সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী একটি তথ্য দিয়েছেন যে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দুই হাজার ২২৭ ডলার হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি দরিদ্র্যসীমা ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে উঠেছে। ৮০ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। তাহলে মাথাপিছু আয় বাড়ল কী করে? এখানে হিসাব হলো, ধনীরা আরো ধনী হয়েছে।



সাতদিনের সেরা