kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার

বাজেটে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়বে

আহসান এইচ মনসুর, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট

ফারজানা লাবনী   

৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাজেটে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়বে

কভিডের কারণে অনেকে জীবন-জীবিকার খরচ জোগাড় করতে না পেরে গ্রামে চলে গেছে। সেখানেও কাজ নেই। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। পুঁজির অভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে এসেছে। আর্থিক সংকটে থাকা এসব মানুষের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা রাখা হয়নি। গতকাল পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর আগামী অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রয়ায় এসব মন্তব্য করেন।

মনসুর বলেন, ‘আগামী এক-দুই বছর আমাদের দেশে কভিড সবচেয়ে জরুরি খাত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। কভিডের সঙ্গে বেঁচে থাকা, জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান, শিক্ষাসহ সব খাত জড়িয়ে গেছে। তাই অত্যন্ত যুক্তিসংগত কারণে আগামী অর্থবছরের বাজেটে কভিড মোকাবেলায় এবং কভিডের কারণে সৃষ্ট সমস্যা থেকে উত্তরণে যে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল, তা দেওয়া হয়নি।’

মনসুর আরো বলেন, ‘বাজেটে নেওয়া লক্ষ্যমাত্রাগুলো বাস্তবসম্মত মনে হয়নি। বিশেষভাবে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা আরো কমানো উচিত ছিল। বাজেটে আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কিভাবে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে তার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা হয়নি। এতে আগামীতে সমগ্র অর্থনীতির ভারসাম্য কিভাবে রাখা হবে তা স্পষ্ট নয়।’ তিনি বলেন, ‘টিকা আনছি, আসবে—এসব কথায় কাজ হবে না। অত্যন্ত দ্রুত দেশে ১০ কোটি থেকে ১২ কোটি মানুষকে টিকা দিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে ভারতের মতো পরিস্থিতি হবে। আগামী বাজেটে টিকা সংগ্রহে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাও স্পষ্ট নয়। শুধু টিকা আনলেই হবে না। মাঠ পর্যায়ে টিকা প্রদানের সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল।’

মনসুর বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হলেও পুরোটা খরচ হলো না। আগামী অর্থবছরের জন্যও একই পরিমাণ তহবিল রাখা হয়েছে। কভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা করা হচ্ছে, অথচ এখনো সরকার বাস্তবায়নের পরিকল্পনাতে আছে। এর মানে কী? আগামী কয়েক বছর আমাদের কভিড নিয়েই থাকতে হবে।