kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

বে টার্মিনালে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন

মাহবুবুল আলম, সভাপতি, চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বে টার্মিনালে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ঘিরে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের গতি অব্যাহত রাখা এবং পতেঙ্গা উপকূলজুড়ে প্রস্তাবিত ‘বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম।

তিনি বলছেন, দেশের অর্থনীতির আকার যে হারে বাড়ছে তা কেবলমাত্র চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই একটি সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির বাড়তি চাপ সামাল দিতে অনেক দিন ধরেই আমরা জোর গলায় বলে আসছি চট্টগ্রাম বন্দরের তিন গুণ বড় ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণের। কিন্তু এখনো এর কোনো সুফল মেলেনি।

চেম্বার সভাপতি বলছেন, বে টার্মিনাল নির্মাণ যত দেরি হবে ততই অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে সরকার যে বিপুল সম্ভাবনা দেখাচ্ছে তার সুফল মিলবে না। ফলে আগামী বাজেট বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে কাজ বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ঘিরে যে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা চালু হলে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক বিপ্লব হবে। কভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি হারায়নি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়। আমরা চাই এসব প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, কভিড সময়ে ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যাংক সুদের হার কমানো এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো দরকার।

বেঙ্গল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রাজস্ব উপযোগী বাজেট প্রত্যাশা করে বলেন, করমুক্ত আয় সীমা বৃদ্ধি, পাবলিকলি ও নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানির করহার কমানো, সারচার্জের ক্ষেত্রে নিট পরিসম্পদের পরিমাণ তিন কোটি টাকার পরিবর্তে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত শূন্য করার প্রস্তাব করেন।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই সহসভাপতি বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চট্টগ্রামে হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চ স্থাপন, অর্থডক্স বা নিবিড় পরিদর্শন বাতিল করা, আয়কর অধ্যাদেশের ৫২ ধারায় স্থানীয় উৎপাদকদের অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাধারণ নিয়মে কর নিরূপণ বা পৃথক ধারা প্রণয়ন, কর নিষ্পত্তি আপিলের ক্ষেত্রে গড়ে ৫ শতাংশ কর জমাদান, লোকাল এলসির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ করারোপ প্রত্যাহার, খেলাপি ঋণসংক্রান্ত অর্থ আইন ২০২০ সংশোধন, ইস্পাতশিল্পে অগ্রিম কর সমন্বয়, গাড়ির ট্যাক্স টোকেন নবায়নে দুই বছরের পরিবর্তে আগের মতো এক বছরের অগ্রিম কর আদায়, কোয়ার্টারলি ট্যাক্স পরিশোধে বিলম্ব হলে জরিমানা অব্যাহতির আহ্বান জানান মাহবুবুল আলম।