kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

উন্নয়নবৈষম্য কমাতে বিশেষ বরাদ্দ দরকার

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্নয়নবৈষম্য কমাতে বিশেষ বরাদ্দ দরকার

রংপুরে মাঠজুড়ে ফসলের সমারোহ। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা মহামারিতে দিশাহারা অর্থনীতি। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা রংপুর অঞ্চলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দারিদ্র্য। দারিদ্র্য নিরসন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ অঞ্চলে পোশাক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প জোন গড়ে তোলার দাবি স্থানীয় মানুষের। পাশাপাশি উন্নয়নবৈষম্য দূরীকরণে রংপুর বিভাগের আট জেলার উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করে।

রংপুরের বিশিষ্টজনরা বলছেন, আগামী বাজেটে এ বিভাগের শিল্পায়নে আলাদা ঋণ, কর ও ভ্যাট নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আইটি পার্ক স্থাপন এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে ‘নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি’ গঠনের মতো বিষয়গুলো থাকা দরকার। রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে সম্প্রতি ২০২১-২২ অর্থবছরের এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

আগামী বাজেট নিয়ে রংপুর চেম্বারের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয় তার মধ্যে ছিল—কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ সহায়তা দিতে আলাদা শিল্পনীতি, করনীতি, ভ্যাটনীতি, শুল্কনীতি ও ঋণনীতি ঘোষণা করার দাবি। রংপুর বিভাগের উন্নয়নে আলাদা বাজেট বরাদ্দ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি ‘সমন্বিত বিনিয়োগ নীতি’ গ্রহণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে রংপুরে রিসার্চ সেন্টার স্থাপন, রংপুর বিভাগে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত প্রতিষ্ঠা করা এবং এই বিভাগের উন্নয়নে আলাদা রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের বিনিয়োগসংক্রান্ত সমস্যা ও সম্ভাবনা, আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিষয়ক যেসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় সন্নিবেশিত করা হবে এবং এর ভিত্তিতে রংপুর বিভাগের উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল এলাকা রংপুর বিভাগে কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত ও গতিশীল করা যায় সে ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু মনে করেন, প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে বাজেটে অধিক হারে প্রণোদনা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি কত হলো, ভবিষ্যতে কত হবে—এসব বিতর্কের চেয়ে মানুষের জীবন রক্ষাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। পাশাপাশি অর্থনীতির চলমান সংকট থেকে উত্তরণে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নিতে হবে। টিকে থাকাই আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো অর্জনের নিমিত্তে বেসরকারি বিনিয়োগে প্রাণ ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে হবে।’