kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হবে

ড. সেলিম রায়হান, নির্বাহী পরিচালক, সানেম

তামজিদ হাসান তুরাগ   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হবে

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের মাথায় রাখতে হবে এবারের বাজেট আগের মতো নয়। এই বাজেট হতে হবে আমাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বাজেট। অর্থাৎ সরকারকে একটা বিষয় সব সময় মাথায় রাখতে হবে আমাদের করোনা মহামারির প্রভাবে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হবে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আগামী বাজেটে নিজের মতামত দিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের (সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান এই মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আমি বলব সরকারকে ভাবতে হবে শুধু ব্যয় নয়, অর্থ আহরণের বিষয়টি। অর্থাৎ আমি শুধু অর্থ ব্যয় করব রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য, তা নয়। বরং খাত ধরে ধরে সরকারকে অর্থ আহরণ করতে হবে। পাশাপাশি গেল বছরের যে আর্থিক সংকট হয়েছে, তা আমাদের পূরণ করতে হবে।’    

বাজেটে তিনটি পরিসরে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অবশ্যই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ যেটা আছে, সেটাকে আরো বেশি কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে এর ব্যাপ্তি আরো বাড়ানো দরকার। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অনানুষ্ঠানিক যে খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা যেন প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধাগুলো পায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, এই বাজেটে নতুন করে যে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী দরিদ্র হয়েছে, পাশাপাশি যারা আগে থেকে দরিদ্র্র ছিল এবং করোনার কারণে আরো দরিদ্র হয়েছে, তাদের জন্য সরকারের যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও কার্যক্রম আছে, সেটার ব্যাপ্তি, পরিধি ও বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো আগে দূর করতে হবে।

তৃতীয়ত, আমাদের শ্রমবাজার বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শুধু দেশে নয়, বিদেশেও আমাদের শ্রমবাজারে বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে এবং সেটাকে টার্গেট করে নানা ধরনের নীতি ও কর্মকৌশল সরকারকে নিতে হবে। তা না হলে রেমিট্যান্সের ওপর একটা প্রভাব পড়ে যাবে।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘সামনের বাজেট দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আমরা যে উন্নয়নশীল দেশ হতে উন্নত দেশে উন্নীত হবো। আর সেই যোগ্যতা অর্জনের জন্য সে সীমারেখাগুলো আছে তা অর্জন করতে বাজেটে বেশ কিছু নির্দেশনা থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গেল বছরে দেখেছি বিদেশ থেকে বহুকর্মী দেশে এসেছেন তাঁদের মধ্যে অনেকে আবার ফিরে গেছেন, এসব নিয়ে বাজেটে কাজ করতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে রেমিট্যান্সের ভূমিকা ব্যাপক। পাশপাশি আমাদের শ্রমবাজারে ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতেই নিয়োজিত আছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই অনানুষ্ঠানিক খাতের তথ্য-উপাত্ত তেমন পাওয়া যায় না। কিন্তু এটা আমরা জানি যে করোনার সময়ে যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, সেগুলোর একটা বিশাল অংশ এই অনানুষ্ঠানিক খাত। আসন্ন বাজেটে তাদের নিয়েও ভাবতে হবে।’

সেলিম রায়হান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে করোনার সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের যে প্রক্রিয়া অর্থনীতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেটা করোনার যে নতুন সংক্রমণ দেশে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, তার জন্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এটাকে সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান যে উদ্যোগ আছে—টিকা এবং অন্যান্য উদ্যোগ, সেগুলো এটাকে কতটুকু সামাল দিতে পারবে?’

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক পর্যায়ে বড় ধরনের একটা অনিশ্চয়তা আছে। আমাদের রপ্তানি খাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোনো কোনো মাসে তারা কিছুটা ভালো করছে। আবার পরবর্তী মাসগুলোতে, বিশেষ করে বড় দুটো বাজার উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে যখন সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পায় এবং দেশগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়, তখন আমাদের দেশের রপ্তানি আবার বাধাগ্রস্ত হয়।’