kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

আসছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বাজেট

সজীব হোম রায়   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আসছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বাজেট

দেশে আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। এতে অর্থনীতি আবার কিছুটা এলোমেলো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নতুন বাজেটের প্রধান লক্ষ্য থাকবে অর্থনীতিকে আবার আগের ধারায় ফিরিয়ে আনা। সে জন্য নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্প খাতগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো, বিনিয়োগ বিশেষ গুরুত্ব পাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ব্যাপারে অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাই এবারের বাজেটে করোনা থেকে অর্থনৈতিক উত্তরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করে কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এটি জিডিপির ১৬.৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছর থেকে এ আকার মাত্র ২৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছরের বাজেট ৪৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বেশি।

সে হিসেবে নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার খুব সামান্যই বাড়ছে। নতুন বাজেটে এক হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে রাজস্ব টার্গেট তিন লাখ ৮৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি জিডিপির ১০.৮ শতাংশ। নতুন বাজেটে প্রথমবারের মতো ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়াচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় দুই লাখ সাত হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে নতুন বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১৭ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা বাড়ছে। এটি জিডিপির ৫.৮ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি জিডিপির ৩.৪৬ শতাংশ। আগামী বাজেটে বিদেশি উৎস থেকে সরকার ৮৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।

আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৭.৭ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হচ্ছে ৫.৩ শতাংশ। জিডিপির আকার ধরা হচ্ছে ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে মোট বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে জিডিপির ৩২ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ২৪.৫ শতাংশ। আর সরকারি বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ।

আগামী বাজেটের সব কিছু করা হচ্ছে করোনাকে ঘিরেই। আর করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য খাতই ভরসা। তাই আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা খাতকে শীর্ষস্থানে রাখা হচ্ছে। বাড়তে পারে বরাদ্দ। তবে বরাদ্দ এখনো চূড়ান্ত করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে, যা মোট বাজেটের ৫.২ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা।

করোনা পরিস্থিতি কবে নাগাদ ঠিক হবে তা কেউ বলতে পারছে না। চলতি অর্থবছরে করোনা মোকাবেলায় সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আগামী বাজাটেও তাই এই খাতে দেওয়া হতে পারে পৃথক বিশেষ বরাদ্দ। তবে বরাদ্দের পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। করোনায় কত বরাদ্দ দেওয়া হবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বিশেষ বরাদ্দ থেকে আরো ভ্যাকসিন কেনা বাবদ অর্থ ব্যয় করা হতে পারে।

আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাত। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে এর আওতা।

বর্তমানে করোনার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যেসব কর্মসূচি চালু রয়েছে আগামী বাজেটেও তা অব্যাহত রাখা হতে পারে। চলতি বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৬.৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩.১ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে অর্থনীতিকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। করোনার ধাক্কায় বিদেশ ফেরত, বেকার, করোনায় চাকরি হারিয়েছে এমন মানুষ যাতে সামাজিকভাবে বোঝা না হয় সে জন্য আগামী বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবেলায় সরকার সব মিলিয়ে ২৩টি প্যাকেজে এক লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এটি জিডিপির ৪.৪৪ শতাংশ। শিল্প খাতকে চাঙ্গা করতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং সর্বোপরি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনে আরো প্রণোদনা ঘোষণা আসতে পারে। করোনা এবং অর্থনীতির অবস্থা বুঝে আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।