kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

বৈদেশিক সহায়তা নজর মহামারি মোকাবেলায়

তামজিদ হাসান তুরাগ   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে আট হাজার ৮৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এই অর্থবছরে (২০২১-২২) বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ ধরা হয়েছে হয়েছে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। যেটি চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় ১৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত এডিপির তুলনায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এগুলোতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবিসহ বিভিন্ন উন্নয়নসহযোগী সংস্থার ঋণ ও অনুদান রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য খাতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ বাড়ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারি ঠেকাতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ থেকে অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা করোনা তহবিল গঠন করেছে। সেখান থেকেও সরকার ঋণ নিতে পারে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছর আইএমএফ বাংলাদেশকে ৭৩০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা দিয়েছে। আগামী অর্থবছরও যদি সরকার চায় তাহলে পেতে পারে। এভাবে নতুন এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ বাড়াটা স্বাভাবিক।’

পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো ইআরডির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পরিবহন খাতে আগামী অর্থবছরের এডিপির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২৪ হাজার ১৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ খাতে আগামী এডিপিতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৪৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ আছে আট হাজার ৮১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। নতুন এডিপিতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ হাজার ৩৩৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে বাড়ছে আট হাজার ২৫৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা।

গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে চার হাজার ১৯৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পানিসম্পদ খাতে ৫৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। শিল্প খাতে এক হাজার ৪৭৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতি সম্পদ খাতে এক হাজার ১৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যোগাযোগ খাতে ৮৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। শিক্ষা ও ধর্ম খাতে এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে কোনো বরাদ্দ নেই। গণমাধ্যম খাতে ১৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। জনপ্রশাসন খাতে ৯২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। শ্রম ও জনশক্তি খাতে ১১৯ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ থেকে এ প্রস্তাব পাঠানো হয় এডিপি তৈরির দায়িত্বে নিয়োজিত কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে। শিল্প শক্তি বিভাগের গবেষণা কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেনের সই করা প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস উইং সংশ্লিষ্ট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম কলনোটিশ পূরণ করা হয়েছে।