kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

আবাসনে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আবাসনে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি

করোনার কারণে ধস নেমেছে দেশের আবাসন খাতে। সংশ্লিষ্ট খাতের অধিকাংশ ব্যবসায়ী পুঁজির সবটা বিনিয়োগ করে ফ্ল্যাট বানিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকলেও গত বছর করোনাব্যাধি শুরু হওয়ার পর থেকে বিক্রি করতে পারছে না। অনেকে ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত করে সব প্রস্তুতি শেষ করলেও কাজ শুরু করতে পারছেন না। 

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা হিসাব কষে জানিয়েছেন, আবাসন খাতের সঙ্গে রড, বালি, সিমেন্ট থেকে প্রায় দুই শর বেশি পশ্চাদসংযোগ শিল্প জড়িত। তাই আবাসন খাত স্থবির হয়ে পড়লে সমগ্র অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আবাসন খাতে গতি আনতে আগামী বাজেটে পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি। বিশেষ ভাবে নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে অবিক্রীত ফ্ল্যাট বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।

আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখনই বসবাস করতে পারবে এমন লক্ষাধিক ফ্ল্যাট সারা দেশে প্রস্তুত আছে। এসব ফ্ল্যাট প্রস্তুত করতে গিয়ে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের পুঁজির বড় অংশ বিনিয়োগ করতে হয়েছে। কিন্তু করোনার মধ্যে ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না, বিনিয়োগও ফেরত আসছে না। নিবন্ধন ব্যয় বেশি থাকায় অনেকে ফ্ল্যাট কিনছে না। আগামী বাজেটে সরকারকে নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির সুযোগ করে দিতে হবে। 

করোনাকালীন সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ফ্ল্যাট-প্লট নিবন্ধন ফি ও কর কমিয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করাসহ একগুচ্ছ দাবি জানিয়ে এনবিআরে আবেদন করেছে।

রিহ্যাব থেকে এনবিআরে আবেদন করে গেইন ট্যাক্স ২ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ১.৫ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ১ শতাংশ, মূসক ১.৫ শতাংশ এভাবে মোট ৭ শতাংশ নির্ধারণে জোরালো দাবি জানানো হয়। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার কর ২ থেকে ১.৫ শতাংশ এবং স্ট্যাম্প ফি ৩ থেকে ১.৫ শতাংশ কমানো হয়। এতে ফি ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ কমে বর্তমানে ১২ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।  

এনবিআরের আবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছর থেকে ফ্ল্যাট এবং জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিমাত্রার নিবন্ধন ব্যয় ধার্য আছে। এই ফি ৭ শতাংশ নির্ধারণে দাবি করলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। নিবন্ধন ফি বেশি থাকায় পুরনো ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ফের নতুন ফ্ল্যাটের সমান নিবন্ধন ব্যয় করতে হয়, যা অযৌক্তিক। করোনার কারণে সৃষ্ট আবাসন খাতের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া নামমাত্র নিবন্ধণ ব্যয় নির্ধারণ করে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করতেও আগামী বাজেটে ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের নিবন্ধন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের নিবন্ধন ব্যয় ৪-৭ শতাংশ এর বেশি না।

আবাসন ব্যবসায়ীরা গৃহায়ণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর হ্রাস এবং অর্থ পাচার রোধে কোনো শর্ত ছাড়া আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ আগামী ১০ অর্থবছরে বহাল রাখার দাবি করেছেন। 

করোনার আঘাতে অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। আবাসন খাতকে বাঁচাতে হলে নির্মাণ ব্যয় হ্রাস ও আনুষঙ্গিক ব্যয় কমাতে নির্দিষ্ট ভ্যাট হ্রাস করার প্রয়োজন জানিয়ে রিহ্যাব থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ জাতীয় ব্যয় আগামী বাজেটে কমানো হলে স্বল্প মূল্যে ক্রেতাসাধারণকে তাঁদের সামর্থ্যের মধ্যে আবাসন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে আবাসন খাত স্থবিরতা থেকে মুক্তি পাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

গৃহায়ণশিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর হ্রাসের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, গৃহায়ণশিল্পের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এই খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। অধিকাংশ ডেভেলপাররা অতি উচ্চসুদে ব্যাংকঋণ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে করোনা সংমক্রমণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক আঘাত হানায় তাঁদের পক্ষে ব্যাংকঋণ ও সুদ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আয়করের উচ্চ হারের কারণে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই বিষয়গুলোও আগামী বাজেটে সরকারের বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এনবিআরের আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে তহবিল প্রদানের মাধ্যমে আবাসন খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে এই খাতকে আরো গতিশীল এবং সত্যিকার অর্থে স্বল্প আয়ের মানুষের মাথা গোঁজার স্বপ্নকে সার্থক করতে ক্রেতাসাধারণের জন্য অন্তত একটি ফ্ল্যাট কিনতে সহজ শর্তে সর্বোচ্চ একক অঙ্কে দীর্ঘমেয়াদে ঋণের টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে সরকার একটি তহবিল প্রদান করে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সরবরাহ করতে পারে। করোনাকালীন সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে আসছে বাজেটে আবাসন খাতের ক্রেতা, জমির মালিক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোতে বিশেষ ঋণের প্রচলন করা, সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে পাঁচ বছরের জন্য ডেভেলপারদের অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।