kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

আকার কমিয়ে কার্যকরী বাজেট দিতে হবে

আহসান এইচ মনসুর, নির্বাহী পরিচালক, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট

ফারজানা লাবনী   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আকার কমিয়ে কার্যকরী বাজেট দিতে হবে

করোনাব্যাধির পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের অর্থনীতিতেও মহাসংকট দেখা দিয়েছে। শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভয়াবহ এ ব্যাধি রোধ করে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যেতে আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য অতীতের ধারা থেকে সরে আসতে হলেও সরকারকে তাই করতে হবে। করোনাকালীন সংকট মোকাবেলা করায় যে খাতে প্রয়োজন, সে খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বাজেটের আকার বাড়িয়ে বাহবা নেওয়ার চেয়ে আকার কমিয়ে বর্তমান সংকট মোকাবেলার উপযুক্ত কার্যকরী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এসব কথা বলেন। আগামী অর্থবছরে কেমন বাজেট চান, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, করোনাব্যাধির পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের অর্থনীতির কোন খাতে কোন ধরনের, কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। লোকসানে পড়ে কারা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে, তা বের করতে হবে। করোনায় খরচ কমাতে বাধ্য হয়েই অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাই করেছে। এতে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে। করোনার মধ্যে কোন পথে গেলে বেকার ব্যক্তিরা আয়ে সক্ষম হয় তার রূপরেখা বাজেটে রাখতে হবে। অনেকের বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যক্তি পর্যায়ে আর্থিক সংকট বেড়ে চলেছে। করোনাকালীন সংকটে আয়-রোজগার কমলেও সংসারের বেশির ভাগ খরচ আছে আগের মতোই। কাজ হারানো মানুষরা এসব খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। পরিবারে ব্যবহৃত অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষকে কম দামে কেনার ব্যবস্থা বাজেটে রাখতে হবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগামী বাজেটে দেশি শিল্প বাঁচাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য অতি ব্যবহৃত কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের সুযোগ দিতে হবে। এ সুযোগ দিতে সব ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে রাজস্ব মওকুফ করতে হবে। এ ছাড়া রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারে বিক্রি বাড়াতে ভ্যাটের ক্ষেত্রেও ছাড় দিতে হবে। এতে ক্রেতাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে।     

তিনি বলেন, শিল্প খাতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, লোহার রড়, স্ত্র্যাব, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতির বেশির ভাগই আমদানি করা হয়। গাড়ির যন্ত্রাংশ, নির্মাণসামগ্রী, টায়ার-টিউব, প্রসাধনী, খেলনা, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় অংশও বাংলাদেশে আনা হয়। জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা, টেক্সটাইল, চামড়া খাত, পাটশিল্প, চা, মৎস্যজাতীয় আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে ওভেন খাতের ৬০ শতাংশ ও নিট খাতের ১৫ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। শিল্পের প্রায় সব খাতে রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। রাসায়নিকের ৭০ শতাংশই আমদানি করা হয়। এসব পণ্যের আমদানি ব্যয় কমানো হলে শিল্পের উৎপাদন খরচ কমবে। বিষয়টি আগামী বাজেটে বিবেচনায় রাখতে হবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব ছাড় দিত হবে। কোনোভাবেই কোনো খাতেই নতুনভাবে রাজস্ব আরোপ করা যাবে না। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো ঠিক হবে না। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ অন্যান্য হিসাব কষলে তা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না। কারণ এটা সরকারকে বুঝতে হবে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল না থাকলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলে সমগ্র অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়বে।