kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর

জাহাজ থেকে পণ্য খালাস চলছে চট্টগ্রাম বন্দরে

কভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার দেশব্যাপী কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সেই নিষেধাজ্ঞায় ব্যাংক-অফিসে লোকবল সীমিত করা হয়েছে। গণপরিবহনে মানুষের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে, কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে পড়েনি। অথচ ২০২০ সালের মার্চে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করার পর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকলেও ব্যবহারকারীরা কাজ করতে না পারায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এবার সুখবর হচ্ছে, তেমনটি হয়নি। কেন—তা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন, ‘২০২০ সালের লকডাউনের সঙ্গে এবারের নিষেধাজ্ঞার কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সচল থাকা, পণ্য পরিবহনে গাড়ির সংকট না থাকা এবং শিল্প-কারখানা পুরোদমে সচল থাকা।’

বন্দরের চৌকস এই কর্মকর্তা বলছেন, ‘জাহাজ আসা স্বাভাবিক রয়েছে, পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক এবং বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে এবার আমরা পুরোপুরি নির্ভার আছি।’

তথ্য-উপাত্ত দিয়ে এনামুল করিম বলেন, ‘২০২০ সালের ২৬ মার্চ বন্দরে পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল ৪২ হাজার একক; এবার রয়েছে ৩৫ হাজার একক। ২০২০ সালের ২৬ মার্চে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজ ছিল ২২টি; আজকে ছিল মাত্র ছয়টি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার নিয়ে গত বছর আমরা ব্যাপক জটিলতায় পড়েছিলাম; এবার আগেভাগে পদক্ষেপ নেওয়ায় সেটি হয়নি। ২০২০ সালের মার্চে রিফার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার ছিল ১৮শ একক; এবার কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা বাড়ার পরও ইয়ার্ডে ওই কনটেইনার রয়েছে ১৯শ একক।’

বন্দরের হিসাবে, কর্মদিবসে দিনে গড়ে চার হাজার এককের বেশি কনটেইনার বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়। গত ৭ এপ্রিল ডেলিভারি হয়েছে চার হাজার ১৮৪ একক। মূলত প্রধান সড়ক সচল থাকায় পণ্য ডেলিভারিতে কোনো ব্যাঘাত হয়নি।

জানতে চাইলে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি এম এ সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতবার লকডাউনের শুরুতে শিল্প-কারখানা বন্ধ ছিল। ফলে একজন গার্মেন্ট মালিক পণ্য জাহাজ থেকে নামিয়ে বন্দর থেকে আর ডেলিভারি নেননি। কারণ কারখানা খোলা না থাকায় সেই পণ্য তিনি কোথায় নিয়ে রাখবেন। ফলে বন্দরে আটকা পড়েছিল। এবার শুরু থেকেই শিল্প-কারখানা খোলা থাকায় বন্দরে কোনো জট হয়নি। আমরা জাহাজ থেকে পণ্য নামিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই কারখানায় নিয়ে গেছি। কোনো ঝামেলা হয়নি। এবার বন্দর ব্যবস্থাপনাও ভালো আছে।’

জানা গেছে, গত বছর লকডাউনে পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশনা ছিল না এর পরও গাড়ি চালাননি চালকরা। কারণ চালকদের মধ্যে একটা কভিড আতঙ্ক ছিল, সেই সঙ্গে চালকদের খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আর বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা সীমিত পরিসরে কাজ করেছিল; কাস্টমসেও কাজ হয়েছিল সীমিত লোকবল দিয়ে। এবার সেটি হয়নি বলেই পণ্য পরিবহন সচল ছিল পুরোদমে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গেই বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনায় মুনশিয়ানা ছিল। নৌ বাণিজ্য দপ্তরের সার্কুলারে নিশ্চিত করা হয়েছে বন্দরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চলাচলে কোনো ব্যাঘাত হবে না। ব্যাংক কতক্ষণ চলবে, সেটা আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শিপিং লাইনগুলো সেই অনুযায়ী কর্মীদের কাজ ভাগাভাগি করে দিয়ে পুরোদমে কাজ নিশ্চিত করেছে। আর কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আগেভাগে জানতে পারায় আমরাও সেভাবে কাজ নির্বিঘ্ন করতে পেরেছি। মূলত গত বছরের অভিজ্ঞতার ফলেই এবার সেটি করা সম্ভব হয়েছে।’