kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

ক্রেতাশূন্য কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টপল্লী

আলতাফ হোসেন মিন্টু, কেরানীগঞ্জ   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের তৈরি পোশাকের বেশির ভাগ চাহিদা মিটিয়ে থাকে কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গার্মেন্টপল্লী। ঈদ, পূজা, শীতকে কেন্দ্র করে এখানকার সারা বছরের ব্যবসা হলেও, ঈদের মৌসুমই এখানকার ব্যবসায়ীদের মূল ভরসা। তবে চলমান দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞায় ভেস্তে গেছে এবারের ঈদ মৌসুমের ব্যবসা। গত বছরের লোকসানের ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই আবার বিশাল অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তৈরি পোশাকের সর্ববৃহৎ পাইকারি মার্কেট হওয়ার কারণে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টপল্লীর ঈদের বেচাকেনা শুরু হয় শবেবরাত থেকে, চলে ১৫ রোজা পর্যন্ত। তবে চলমান নিষেধাজ্ঞায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসতে পারছেন না। ফলে ব্যবসায়ীরা দোকান খুললেও ক্রেতা না থাকায় বেচাকেনা একদম নেই বললেই চলে। নিষেধাজ্ঞার প্রথম তিন দিনে কোনো ক্রেতা না আসায় অনেকেই দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। গত বছরের লোকসানের ধাক্কা কাটানোর আশায় অনেকে এ বছর দ্বিগুণ বিনিয়োগ করেছেন। ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারলে হয়তো ধারদেনা পরিশোধ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারতেন। কিন্তু চলমান লকডাউনে হয়েছে তার উল্টো। একদিকে ধারদেনা ও নানা খরচ অন্যদিকে ক্রেতাশূন্য মার্কেট। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞায় বেচাকেনা বন্ধ থাকায় কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টপল্লীর লোকসানের পরিমাণ অন্তত এক হাজার কোটি টাকা হবে।

সরেজমিন গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের আগানগর ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নে অবস্থিত কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকা ক্রেতাশূন্য। অনলাইনে পণ্য বিক্রির জন্য অনেকে দোকানপাট খোলা রাখলেও বন্ধ রয়েছে অনেক দোকান। প্রতিটি দোকানে প্রচুর পরিমাণ পণ্য মজুদ করা রয়েছে। কেউ কেউ ফেসবুকে, ইমোতে পুরনো পরিচিত পাইকারদের পণ্য দেখিয়ে অর্ডার নিচ্ছেন। তবে কোনো দোকানে ক্রেতার সমাগম চোখে পড়েনি। ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে রয়েছে হতাশার ছাপ।

মো. করিম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, গত বছর লোকসানের ধাক্কা ঠিকমতো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। ভেবেছিলাম এ বছর হয়তো কিছুটা পোষাতে পারব। এখন আমাদের পুরো মৌসুম, এই সময়টাতে গার্মেন্টপল্লীতে প্রচুর কাস্টমার থাকার কথা। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে হয়েছে উল্টো, পুরো এলাকায় ১০টা কাস্টমার আছে কি না সন্দেহ। এবারও আমাদের মাথায় হাত পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, ‘গত বছরের লসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য এ বছর অনেক ব্যবসায়ী দিগুণ বিনিয়োগ করেছেন। তবে শবেবরাতের পরপরই লকডাউনের কারণে মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবারও ক্ষতির মুখে পড়ল গার্মেন্টপল্লীর বেশির ভাগ ব্যবসায়ী। দুই বছরের লসে অনেকেই পথে বসে যাবে।’

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, ‘আমাদের এখানকার ব্যবসায়ীদের গত বছর অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়লাম আমরা।’