kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সীমিত সুযোগ প্রয়োজন

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক, সিপিডি

সজীব আহমেদ   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সীমিত সুযোগ প্রয়োজন

কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ধাক্কা প্রথম ধাক্কা থেকে একটি নতুন বাস্তবতার ভেতর এসেছে। প্রথম ধাক্কায় আমাদের যেমন এ রোগটিতে অজানা আতঙ্ক ছিল, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক রকমের অনিয়শ্চয়তা ছিল। সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেক্ষাপটেই মনে করেছিলাম, আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেও চলতে পারি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড টিকেয়ে রাখতে পারি। কিন্তু এখন আমরা বুঝতে পেরেছি, প্রথম ধাক্কায় যে কার্যক্রমগুলো নিয়েছিলাম সেগুলো দ্বিতীয় ধাপের জন্য অপর্যাপ্ত। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপের জন্য আরো কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও চালানো দরকার। কারণ এ মুহূর্তে মানুষের সঞ্চয় খুবই সীমিত। কম খেয়ে, সীমিত আয় দিয়ে বেশির ভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে। এখন সীমিত আকারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়াটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে যে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে কি না, সেটা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকার কিভাবে সুযোগ দেবে, সেটার প্রথম নির্দেশক হবে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার কমছে কি না। এটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সীমিত আকারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর ব্যাপারে সরকার বিবেচনা করতে পারে। আমাদের কাছে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার না—এবারের লকডাউনের আওতায় কী করা হবে বা কী করা হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে, সেটা হচ্ছে সরকারের যে স্বাস্থ্যবিধিগুলো রয়েছে সেগুলো মেনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো চালানোর জন্য সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে এর আগে যেটি হয়নি সে জায়গাটিতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ একটি হলো যেসব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে না, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া। অথবা তাদের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা। এটি সরকার করতে পারে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, তবে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের যে লোকবল রয়েছে, সেটা পর্যাপ্ত নয়। সুতরাং সে ক্ষেত্রে অন্যান্য এজেন্সির লোকদের নিয়োগ দিয়ে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সরকারের নির্দেশনাগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়। যদি না মানা হয়, সঙ্গে সঙ্গে সেসব প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দেওয়া বা অন্যান্য শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে। শুধু তার মাধ্যমে সীমিত আকারে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালুর সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, কভিড-১৯-এর সময়কালে সারা বিশ্বেই ভিন্নমুখী নীতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়েছে। যেসব দেশে আমাদের শ্রমিকরা কাজ করতে যান বা যেসব দেশে আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়, সেখানেও বিভিন্ন পর্যায়েই প্রতিক্রিয়াগুলো পড়ছে। এ মুহূর্তে আগের ধারা অব্যাহত রাখার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সচল রাখাটা। আমাদের কারখানাগুলো যাতে সচল থাকে, কর্মকাণ্ড যাতে সচল থাকে সেই জায়গাটিতে গুরুত্ব দেওয়া। এ সচলতা ঠিক রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে কারখানা পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি পূর্ণাঙ্গভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা দেখা।

অন্যদিকে বিদেশে যেসব শ্রমিক যাচ্ছেন সেসব দেশের সঙ্গে সরকার চেষ্টা করে দেখতে পারে যে বাংলাদেশ থেকে যাতে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ না হয়। কিন্তু বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে সৌদি আরবে নতুন করে ঘোষণা দিয়েছে তাদের নিজের লোকেরাই কর্মসংস্থান নিয়ে চিন্তিত। এ কারণে যেসব জায়গায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করতেন, সেসব জায়গায় তাদের লোকজন কাজ করবে। সুতরাং আমাদের কাজের সুযোগ কমে যেতে পারে। এটির জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে কথা বলতে হবে, যেন তাঁদের চাকরিচ্যুত করা না হয়। একই সঙ্গে যেসব দেশ করোনামুক্ত হয়েছে, সেসব দেশে আমাদের নতুন শ্রমিক পাঠানো যায় কি না, সে বিষয়েও কথা বলা।

তিনি বলেন, উন্নত দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকাঠামো ও জনগণের মধ্যে যে সচেতনতা এবং তাদের যেমন আয় ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যে বিস্তার, সেটির মতো প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে বেশির ভাগ মানুষকে জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ কারণে এখানে স্বাস্থ্যসচেতনতা খুবই নিম্ন পর্যায়ে, সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকাঠামো খুবই দুর্বল। সুতরাং এ জায়গাটির ক্ষেত্রে আমাদের উচিত হবে যে সীমিত সামর্থ্য রয়েছে, তা মাথায় রেখে কিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু কমিয়ে আনতে পারি।