kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

প্রণোদনাবঞ্চিত হওয়ায় মাঠে নেমেছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

সাম্স মাহমুদ, সাবেক সভাপতি, ডিসিসিআই

এম সায়েম টিপু   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রণোদনাবঞ্চিত হওয়ায় মাঠে নেমেছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকারের নীতি সহায়তা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি সাম্স মাহমুদ। তিনি শাশা ডেনিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাম্স মাহমুদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম ধাপে সরকার অর্থনীতির ক্ষতি সামাল দিতে সোয়া লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। সে সময় ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এবার তারা মাঠে নেমেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে এই সময় প্রণোদনার ২৫ শতাংশ ঋণ পেয়েছে দেশের ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠান। ওই সব প্রতিষ্ঠান ন্যূনতম ১৯০ কোটি টাকা থেকে শুরু করে হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান একা নিয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। ফলে সরকার প্রণোদনা দিলেও ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি ‘রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে বোঝা যায়, করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজটি যথাযথ ব্যবহার না হয়ে তেলে মাথায় তেল দেওয়া হয়েছে। এবার করোনার দ্বিতীয় ধাপ এবং লকডাউন সামাল দিতে সরকারকে ভীষণ বেগ পেতে হবে।’

সাম্স মাহমুদ বলেন, ‘জিডিপিতে ২৫ শতাংশ অবদান রেখেও করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উদ্যোক্তারা। সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার টাকা পেতে হয়রানি হতে হয়েছে। তৈরি পোশাক খাত যতটা সহজে পেয়েছে; ব্যাংকগুলোর অনীহার কারণে এসএমই খাতের প্রণোদনা পেতে ততটা কঠিন হয়েছে। এ ছাড়া সেই সময় দেশের ছোট-বড় সব উদ্যোক্তা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিন মাসের লকডাউনে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে পড়েছিল স্থবির। অনেক মানুষ কাজ হারিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে বাধ্য হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এবারের করোনার দ্বিতীয় ধাপেও সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে। এ সময় যাঁরা চাকরি হারাবেন, কাজ করতে পারবেন না তাঁদের প্রণোদনায় সম্পৃক্ত করতে হবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, এসএমই, মহিলা উদ্যোক্তা সবাইকে এতে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার একটা পরামর্শ সভা করে নীতি সহায়তা দিতে পারে। এই ক্ষেত্রে মোবাইল আর্থিক সেবার আওতায় আনতে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনজিও) সমন্বয় করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো কোলেটারাল না পেয়ে এসএমই এবং কৃষি খাতের ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল। তাই এবার বাংলাদেশ ব্যাংককে গ্যারান্টার হওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করতে হবে। কারণ ঋণ পেতে এসএমই খাতে ব্যাংকগুলো যে ধরনের কাগজপত্র চায়, তা তাদের কাছে নেই। আর ব্যাংকগুলোর আশঙ্কা, তাদের মন্দ ঋণ বেড়ে যায় কি না।’

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, পোশাক শ্রমিক এবং কর্মহীন হয়ে পড়া কর্মীদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়ে সাম্স মাহমুদ বলেন, ‘করোনার প্রভাবে চাকরি হারানো মানুষের জন্য সরকার খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিতে পারে। বিশেষ করে প্রচলিত ভিজিএফ, ভিডিজিসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিতে পারে। গতবার সরকার ঈদে ৫০ লাখ মানুষকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিল। এই উদ্যোগে নানা অনিয়ম হলেও এটি একটি বড় মহান উদ্যোগ ছিল। অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে এবারও সেই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর বাইরে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার কর্মসূচির উদ্যোগ নিতে পারে।’