kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

এক বছরে কৃষিযন্ত্রের বিক্রি বেড়েছে ৩০%

ড. এফ এইচ আনসারী, এমডি ও সিইও, এসিআই মোটরস

রোকন মাহমুদ   

২৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক বছরে কৃষিযন্ত্রের বিক্রি বেড়েছে ৩০%

বাংলাদেশ শ্রমঘন হলেও কৃষি খাতে শ্রমিক কমে আসছে, যা কৃষির উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে দিন দিন কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষক আগে শুধু চাষের জন্য যন্ত্র ব্যবহার করলেও এখন বীজ বা চারা রোপণ, ফসল কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও উৎপাদন-পরবর্তী প্রক্রিয়াজাতকরণসহ সব কাজেই যন্ত্র ব্যবহার করছে। শুধু শ্রমিক সংকটে নয়, দ্রুত ফসল ঘরে তুলে ও প্রক্রিয়াজাত করে দুই ফসলের মধ্যবর্তী সময় কমিয়ে আনতে ও উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতেও কৃষক এসব যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। এতে কয়েক বছর ধরে এসব যন্ত্রের বিক্রিও আশানুরূপ বেড়েছে। এতে শুধু যে কৃষক লাভবান হচ্ছেন তা নয়। আমাদের শস্য অর্থনীতিতেও উন্নয়ন হয়েছে। অধিক ফসল উৎপাদন হচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে কম। তবে বীজ বপন, ফসল কাটা, মাড়াই ইত্যাদি কাজগুলোতে যন্ত্রের ব্যবহারে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এসব যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের জন্য সেবা আরো সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে সেবার খরচও কমিয়ে আনতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। এ জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া, মেশিনগুলো যাতে বেশিক্ষণ অলস বসে না থাকে সে ব্যবস্থা করা, নষ্ট হলে দ্রুত মেরামত করা ইত্যাদি বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিয়েছি।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের বৃহৎ কৃষি যন্ত্রপাতি বিপণনকারী কম্পানি এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. এফ এইচ আনসারী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কৃষি খাতে যান্ত্রিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এই খাতে এসিআইয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।

কৃষির সব ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিকে কৃষিতে উৎপাদন ও কাজ বেড়েছে, অন্যদিকে কৃষি শ্রমিক কমেছে। দেশ শ্রমঘন হলেও নতুন প্রজন্ম কৃষি খাতে শ্রম দেওয়া থেকে অন্য খাতকেই বেশি পছন্দ করছে। ২০০০ সালে দেশে মোট শ্রমিকের ৬০ শতাংশ ছিল কৃষিতে। এখন তা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ার কারণে ফসলের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। কৃষিতে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। বর্তমানে এক হেক্টর জমি ম্যানুয়ালি চাষাবাদে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। এটি যন্ত্রের মাধ্যমে করলে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় করা যায়। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি করতে যে সময় লাগে যন্ত্রের সাহায্যে করতে তার থেকে সময় অনেক কম লাগে। ফলে সময়মতো চাষ ও ফসল ঘরে তুলে আনা যায়।

তবে এই খাতে প্রয়োজনের তুলনায় আমরা এখনো পিছিয়ে রয়েছি। সেচের জন্য পাম্প, হালের জন্য ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রিলারের ব্যবহার হচ্ছে ৯০ শতাংশের ওপরে। কিন্তু চারা বা বীজ লাগানো, কাটা, মাড়াই করা ইত্যাদি কাজে যন্ত্রের ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে। দেশে বর্তমানে ধান কাটায় মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক মেশিন ব্যবহার করেন। লাগানোর ক্ষেত্রে আরো কম, মাত্র ১ শতাংশ। জাপানে বছরে একটির কিছু বেশি ফল উৎপাদন হয় তার পরও তাদের প্রতি হেক্টরে ১৪ কিলোওয়াট জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে। কারণ তারা সব কিছুই যন্ত্রের মাধ্যমে করছে। আমাদের দেশে বছরে দুই বা তার অধিক ফসল উৎপাদন হলেও জ্বালানির খরচ মাত্র দেড় কিলোওয়াট। কারণ আমাদের দেশে মেশিনের ব্যবহার কম।

আশার কথা হলো চার বছর ধরে কৃষির সব ক্ষেত্রেই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। গত বছর কৃষি খাতে যন্ত্রের ব্যবহার ও বিক্রি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে বছরে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার কৃষি যন্ত্রাংশের বাজার রয়েছে। আর সার্বিক কৃষিযন্ত্রের বাজার তিন হাজার কোটি টাকার। গত বছরের আগ পর্যন্ত কৃষিযন্ত্রের বিক্রির প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এটি সম্ভব হয়েছে এই খাতে সরকারের বিশেষ নজরের কারণে। সরকার এই খাতের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখছে। কৃষকও এর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করছেন।

এই খাতে এসিআইয়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসিআই গত বছর সাড়ে তিন হাজার ট্রাক্টর বিক্রি করেছে। এই খাতে মোট বাজারের ৩০ শতাংশই আমাদের। ধান কাটার মেশিন বিক্রি হয়েছে এক হাজার, যা মোট বাজারের ৭০ শতাংশ। চলতি বছর দেড় হাজার বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে। চলতি বছর আমরা পাঁচ হাজার ধান লাগানোর মেশিন বিক্রির লক্ষ্য নিয়েছি। গত কয়েক বছর যা ৩৫০টির মতো ছিল। এই খাতে পুরো বাজারের ৮০ শতাংশই আমাদের দখলে রয়েছে। আমাদের গত বছর শুধু ট্রাক্টরের বিক্রি বেড়েছে ৫০ শতাংশ।’

আমরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে ট্রাক্টর অ্যাসেম্বলিংয়ে যাব। অ্যাসেম্বলিং শুরু হলে আমরা রপ্তানিও করতে পারব। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া ছোট ছোট মেশিন আমরা নিজেরাই তৈরি করছি দেশি।