kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

সাক্ষাত্কার

প্রতিটি নারীর নিজে কিছু করার চিন্তা করতে হবে

সজীব আহমেদ   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিটি নারীর নিজে কিছু করার চিন্তা করতে হবে

সামিনা জামান কাজরী, সিনিয়র ম্যানেজার, সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিলেশন নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড

অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে প্রত্যেক নারীকে নিজে কিছু করার চিন্তা করতে হবে। শুধু পরিবারের চিন্তা না করে সামাজিক অবদান রাখতে হবে, নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। চাকরির টাকা সব খরচ না করে কিছু জমিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে হবে, তাহলেই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়বে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে নারী উন্নয়নের পথ এভাবেই বাতলে দেন বহুজাতিক কম্পানি নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিলেশন বিষয়ক সিনিয়র ম্যানেজার সামিনা জামান কাজরী।

তিনি বলেন, ‘এখন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্টার্নশিপেও ৫০ শতাংশ মেয়ে নেওয়া হচ্ছে। কারণ মেয়েরা এখন কাজ করতে চান করপোরেট সেক্টরে। আগে কাজ করার ক্ষেত্রে ভয়-ভীতি ছিল। অনেকে ভাবতেন হয়তো ধর্ম পালন করা নারীদের গুরুত্ব দেওয়া হবে না। এখন নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডে হিজাব পরা মেয়েরাও আছেন, পাঞ্জাবি পরা ছেলেরাও আছেন। এখন ড্রেস কোনো ফ্যাক্টর না, তাঁর কাজকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার পরও কিছু বাধা মেয়েদের ক্ষেত্রে এখনো আছে। তার মধ্যে প্রথম বাধা মেয়েরা ইতিবাচকতা দেখাতে পারেন না বা সেই আস্থাটুকু নেই। দ্বিতীয় বাধা বর্তমান যুগ বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিংয়ের হলেও, নেটওয়ার্কিংয়ে মেয়েরা অনেক পিছিয়ে। কারণ মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালে নিজের বিভাগ বাদে কয়জন সিনিয়র শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে চেনেন?’

তিনি আরো বলেন, আশার বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে করপোরেট জগতে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। আগে জব রিকোয়ারমেন্টের ক্ষেত্রে মেয়েদের অনেক বিষয় দেখা হতো। এখন অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নারী ও পুরুষদের শতাংশ ভাগ করে সমান হারে নিয়োগ দিচ্ছে। টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিপি, রবি, বাংলালিংক ও ইউনিলিভারে এখন অনেক মেয়ে কাজ করছেন। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিংয়ের ক্ষেত্রেও ছেলে-মেয়ে দুজনকেই দরকার। কারণ একটি ছেলে ও মেয়ের চিন্তা দুই ধরনের। ওই চিন্তাটাকেই ইনেশিয়েট করে নতুন কিছু মাইলফলক অর্জন করার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

নিজের পরিবার ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে কাজরী বলেন, ‘আমার মা ফেরদৌসী সুলতানা পাকিস্তান সময়ের একজন গ্র্যাজুয়েট। তিনি কখনো চাকরি করেননি। শুধু পরিবারের দায়িত্বই পালন করেছেন। গত বছর রত্নগর্ভা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডে চাকরি করার সুবাদে আমাকে অনেকবার দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। প্রথম প্রথম মা বাধা দিতেন। মা যে বিষয়গুলো নিয়ে টেনশন করতেন, আমি হয়তো আমার মেয়ের জন্য করব না। তবে আমার শাশুড়ি আমাকে চাকরিরত অবস্থায় দেখেছেন, তাই সেদিক থেকে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। তার পরও বিভিন্ন সময় পরিবারের কিছু মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু নেসলে কখনো আমাকে নারী হিসেবে মূল্যায়ন করেনি বরং পারফরম্যান্সের জায়গা থেকে মূল্য দিয়েছে। আমি বলব, নারী-পুরুষের বৈষম্য হচ্ছে আমাদের মানসিকতায়। একজন নারী নিজের অগ্রাধিকার এবং প্রয়োজনটাকে ম্যাচ করেই এগোবেন। কিভাবে আপনি অফিসকে শতভাগ দেওয়ার পরেও বাসা বা পরিবারের সদস্যদের বিষয়গুলো লক্ষ রাখবেন, এটা একজন মেয়েকেই ঠিক করতে হবে।’

সামিনা জামান কাজরী ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বা খাদ্য এবং পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেন। ২০০৩ সালে মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়ার সময় মাল্টিন্যাশনাল ফুড কম্পানির ওপর থিসিস পেপার নিয়ে কাজ করেছেন। সেই সময়ে বাংলাদেশে শুধু নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড খাদ্যসংশ্লিষ্ট পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করে। একই বছরে তিনি নেসলে বাংলাদেশে এরিয়া নিউট্রিশন অফিসার পদে নিয়োগ পান। এটাই তাঁর জীবনে প্রথম চাকরি। তিনি ১৭ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

নিজের কাজের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডে আমি মূলত বড় দুটি ফাংশন নিয়ে কাজ করি। পারফরম্যান্স ডেভেলপমেন্ট এবং মেডিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্স—এ দুটিই গত এক বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছি।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে সামিনা জামান কাজরী বলেন, ‘আমি নেসলেতে থাকা অবস্থায় এমবিএ করেছি, আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউট্রিশনের ওপর দুবার মাস্টার্স করেছি।’

পরিবার নিয়ে তিনি বলেন, ‘চাকরি শুরু করার এক বছর পরেই আমার বিয়ে হয়। তার এক বছর পরেই অর্থাৎ ২০০৫ সালে আমার মেয়ে শারিকা তাসনিমের জন্ম হয়। ১২ বছর পর আমার ছেলে শায়ান ফয়সালের জন্ম হয়। মেয়েটি এখন দশম শ্রেণিতে পড়ছে। আমার স্বামী রেজওয়ান ফয়সাল মেট্রো রেল প্রকল্পে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন।’

মন্তব্য