kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

সাক্ষাত্কার

আমি নয় আমরাতে বিশ্বাসী

এ এস এম সাদ   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমি নয় আমরাতে বিশ্বাসী

নাসিমা আক্তার নিশা, স্বত্বাধিকারী, রেভারি করপোরেশন

২০১৭ সালে ইক্যাবের সভাপতি আমাকে নারীদের নিয়ে আলাদা একটি গ্রুপ তৈরি করার পরামর্শ দিলেন। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে নারীদের জন্য আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করব। এরপর ২০১৭ সালে নারীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা তৈরি করার জন্য উইমেন্স অ্যান্ড ই-কমার্স (উই) নামের একটি গ্রুপ তৈরি করি। এখানে দেশের অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা সম্পৃক্ত হয়েছেন। প্রায় সব রকম জিনিসপত্র এখানে বিক্রি হয়। ফলে এই গ্রুপের মাধ্যমে একজন নারী উদ্যোক্তা তাঁর তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছেন। আশা করছি এই গ্রুপটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে এই গ্রুপের সদস্য ১১ লাখের ওপর। এভাবেই নিজের উদ্যোগের শুরুর দিককার কথাগুলো বলছিলেন রেভারি করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী নাসিমা আক্তার নিশা।

শিগগিরই উইয়ের কার্যক্রম দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই গ্রুপে প্রতি মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা কেনাবেচা হচ্ছে। আরো বেশ কয়েকটি দেশে ২০২৫ সালের মধ্যেই পাট, কাপড়, চামড়া এবং ড্রাই ফুড রপ্তানি করব। যুক্তরাষ্ট্র টেক্সটাইলের ওপর বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপের আরো বেশ কয়েকটি দেশ পাট ও চামড়া আমদানির ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া আমি বরাবরই আমরা শব্দে বিশ্বাসী, আমিতে বিশ্বাসী না। কারণ আমি মনে করি যেখানে সবাই মিলে কাজ করে, সেখানে সফলতা আসবেই।’

উদ্যোক্তা হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। অল্প পড়ালেখা করলেও হবে, কারণ বিয়ের পর মেয়েরা সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়—এই ধ্যান-ধারণায় গড়া পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা।

তবে বাবা বলেছিলেন, যতদূর পড়ালেখা করতে চাও, করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শেষ বর্ষে বিয়ে হয়। এরপর তাঁর বাবা কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাঁকে ভারতে নেওয়া হয়। বাবাকে তিনি একটা কিডনি দান করেন।

তিনি বলেন, ‘তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম চাকরির সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত হব না। কিন্তু এক বছর পর বাবা আবার অসুস্থ হয়ে যান। তাই বাবা চেয়েছিলেন আমি তাঁর ব্যবসার সব দায়িত্ব নিই। পরবর্তী সময় আমাকে বাবার ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হয়। তাঁর কথামতো ব্যবসা দেখভাল শুরু করি। পরে সিদ্ধান্ত নিই একটি আইটি ফার্ম করার। যদিও আইটি নিয়ে খুব বেশি ধারণা আমার ছিল না। কারণ আমার পড়াশোনার ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর। যেহেতু গেইম খেলতে পছন্দ করতাম, তাই ভেবেছিলাম গেইম তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করার।’

সেই তাগিদে নিজের উদ্যোগে ২০১১ সালে রেভারি করপোরেশন নামের একটি আইটি ফার্ম চালু করি। এটিই আমার উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু। তখন গেইম নিয়ে খুব ভালো ধারণা ছিল না। আসলে গেইমগুলো আমরা তৈরি করছিলাম, কিন্তু বিক্রি করতে পারছিলাম না। আর তখন নারীদের প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলক অনেক কম ছিল। ফলে উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়েও খুব বেশি দূর যাওয়া সম্ভব ছিল না।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু আইটি সেক্টরে একাডেমিক জ্ঞানের অভাব ছিল, সেহেতু কাজের অগ্রগতি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা ছিল না। আইটি কম্পানিটি শুরু করি ১৭ জন অনার্স শেষ করা ফ্রেশার দিয়ে। এর মধ্যে আটজনই ছিল মেয়ে। ২০১১ সালে পুঁজি ছিল ৪৫ লাখ, বর্তমানে সেটির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশে। কম্পানিতে ১৫ জন কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রজেক্টগুলোতে আইটির সব রকমের সহায়তা দিয়ে আসছি। কাজও করছি আমরা। কম্পানিটি ই-কমার্সের নানা রকমের সফটওয়্যারও অ্যাপস তৈরি করছে। তবে নারীদের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজন বোধ করি। যেখানে নারীরা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলবে, অন্য সব ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়াবে।

মন্তব্য