kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

দীপ্ত কুটিরে সফল দেলোয়ারা

জামালপুর প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দীপ্ত কুটিরে সফল দেলোয়ারা

জীবনের লক্ষ্যকে পরিশ্রম আর সময়ের ছকে ফেললেই আসে সাফল্য। সেই সাফল্যই পেয়েছেন জামালপুর জেলা ব্র্যান্ড নকশিকাঁথাসহ হস্তশিল্পের সুঁই-সুতার দক্ষ উদ্যোক্তা দেলোয়ারা বেগম। তাঁরই স্বপ্নের ঠিকানা ‘দীপ্ত কুটির’।

ময়মনসিংহ শহরের মেয়ে দেলোয়ারার বিয়ে হয় এইচএসসি পাসের পর ১৯৯০ সালে। শ্বশুরবাড়ি জামালপুর সদরের মেষ্টা ইউনিয়নের হাজিপুর এলাকায়। স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকার বাসাবোতে উঠতে হয় তাঁকে। বাড়তি আয়ের চিন্তা থেকেই ঢাকায় যুব উন্নয়নে সেলাই প্রশিক্ষণ, পোশাক তৈরি, ব্লক বাটিক, কনফেকশনারি পণ্য, মোম তৈরিসহ ১২টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

২০০০ সালে স্বামী বদলি হয়ে জামালপুরে যোগ দিলে তাঁরা ওঠেন শহরের ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুস সাত্তার রোডের তিনতলা একটি ভাড়া বাসায়। ২০০১ সালে জামালপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে দর্জি বিজ্ঞানে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে ওই ব্যাচে প্রথম হন দেলোয়ারা। প্রথমে একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকার ঋণ নেন। এরপর ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে নেন ১৫ লাখ টাকা। সেই ঋণ পরিশোধের পর ফের নেন ৫০ লাখ টাকা। ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ও মনিপুরে একটি শোরুম করেছেন ব্যবসার আয় থেকেই। তিনি তিন শতাংশ জমি কিনে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। ভবনটির কাজ প্রায় শেষ। শিগগির দীপ্ত কুটির নামের নতুন ভবনেই শুরু হবে দেলোয়ারার বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই ভবনে থাকবে নিজেদের থাকার ফ্ল্যাট। অন্য ফ্ল্যাটগুলোয় থাকবে আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র, বিশাল শোরুম ও বিক্রয়কেন্দ্রসহ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ধরনের ব্যবস্থা। বর্তমানে দীপ্ত কুটিরে চাকরি করছেন ৪২ জন কর্মচারী। তাঁদের অধিকাংশই নারী। এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়াসহ তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজের সূত্র ধরে হাজারো নারী কর্মীদের কেউ কেউ উদ্যোক্তা হয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। অনেকেই অন্যত্র দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

দেলোয়ারা ২০০৮ সালে জাতীয় যুবমেলায় পান শ্রেষ্ঠ স্টল পুরস্কার। ২০১২ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারী আত্মকর্মী কোটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গ্রহণ করেন জাতীয় যুব পুরস্কারের সম্মাননা পুরস্কার। ২০১২ সালে পেয়েছেন জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তার বর্ষসেরা সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ দুই লাখ টাকার সম্মানী।

মন্তব্য