kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

বছরে ১৬ হাজার টন বিস্কুট বানাবে কিষোয়ান

শহীদুল ইসলাম, এমডি, কিষোয়ান গ্রুপ

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বছরে ১৬ হাজার টন বিস্কুট বানাবে কিষোয়ান

আমরা চতুর্থ প্রজন্মের ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে বিস্কুট তৈরি করছি, যেসব মেশিন পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও ব্যয়সাশ্রয়ী। বিস্কুট উৎপাদনে আমরা গুণগত মানে কোনো ছাড় দিইনি। ফলে বিদেশি বিস্কুট এখন দেশি বিস্কুটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না

সারা দেশে বিস্কুটের চাহিদা বছরে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ; চট্টগ্রামেও বিস্কুটের বাজার সমানতালে বাড়ছে। সেই বাজার ধরতে প্রতিযোগিতায় আছে চট্টগ্রামভিত্তিক অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শীর্ষে আছে চট্টগ্রামের কিষোয়ান গ্রুপ।

দেশে বনফুল গ্রুপের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর মূলত কিষোয়ান নামের পৃথক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন কর্ণধার এম এ মোতালেব সিআইপি। আর কিষোয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হচ্ছেন তাঁরই ছেলে শহীদুল ইসলাম।

মূলত ২০০৪ সালে কাস্টার্ড কেক দিয়ে বাজারে প্রবেশ করে কিষোয়ান গ্রুপ। এরপর ধীরে ধীরে বাজারে কুকিজ বিস্কুট দিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বাজার মাত করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে তাদের ৩০ ধরনের ভিন্ন স্বাদ-মানের বিস্কুট আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে শিশুদের চকোলেটসমৃদ্ধ ‘ম্যাজিকা’ বিস্কুট। আর বড়দের জন্য ‘বাটার কুকিজ’।

কিষোয়ান গ্রুপ চতুর্থ প্রজন্মের সম্পূর্ণ অটোমেটেড মেশিন এবং ইউরোপিয়ান প্রযুক্তি দিয়ে অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বিস্কুট তৈরি করছে। কিষোয়ান গ্রুপে এখন দুই হাজার ৫০০ কর্মী কাজ করছেন। সময়ের সঙ্গে আরো অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে তারা।

কিষোয়ান গ্রুপের এমডি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চতুর্থ প্রজন্মের ইউরোপিয়ান প্রযুক্তিতে বিস্কুট তৈরি করছি। যে মেশিন পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী এবং খরচসাশ্রয়ী। বিস্কুট উৎপাদনে আমরা গুণগত মানে কোনো ছাড় দিইনি।’

তিনি বলেন, ‘বিস্কুটের বাজার যেভাবে বড় হচ্ছে, সেই অনুযায়ী দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপগুলো এই বাজারে আসছে। নতুন সব প্রযুক্তি নিয়ে। তাই আমরাও সেভাবে এগোচ্ছি। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় আমাদের কারখানায় বছরে ১৪ হাজার টন বিস্কুট তৈরি হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে বছরে ১৬ হাজার টন বিস্কুট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। সে জন্য কুমিল্লায় নতুন কারখানা বসানো হবে। এরপর প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী মিরসরাই বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক জোনে সর্বাধুনিক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।’

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘একজন ক্রেতা কোন মানের, কত দামের বিস্কুট চায় তা জানতে একটু বেশি যত্নবান থাকি এবং সময় নিই। হুট করেই সিদ্ধান্ত নিই না—এটা আমাদের নীতি। মফস্বল বা গ্রাম এলাকা আমাদের মূল ক্রেতা। শহুরে ভ্রাম্যমাণ টং দোকানকে আমরা এখনো টার্গেট করিনি। ফলে দেখবেন গ্রামের ক্রেতাই আমাদের সবচেয়ে বেশি; বিক্রিও সেখানে বেশি।’

বিদেশি বিস্কুট এখন দেশি বিস্কুটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে আগের তুলনায় বিদেশি বিস্কুটের দাপটও অনেকটাই কমে এসেছে। এর মূল কারণ হিসেবে শহীদুল ইসলাম বলেন, সরকার দেশি বিস্কুট উৎপাদনকারীদের উৎসাহ দিতে বিদেশি বিস্কুট আমদানিতে শুল্কহার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু শুল্কহার বাড়তি দিয়ে আমরা বাজার ধরতে পারতাম না, যদি কোয়ালিটি বিস্কুট দেশে তৈরি না হতো। আমাদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা দেওয়ার মতো বিস্কুট তৈরির সক্ষমতা বেড়েছে। আমরা প্রায় আন্তর্জাতিক মানের; অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি উৎপাদকদের চেয়েও ভালো বিস্কুট তৈরি করছি। ফলে বাজার ধরতে বড় শিল্প গ্রুপ আসছে বাজারে; আর নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দিয়ে প্রতিনিয়তই আমরা ভালো করছি। এতে দেশি বিস্কুটের ক্রেতা বাড়ছে।’

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভালো মানের বিস্কুট তৈরি হচ্ছে বলেই গত বছর কিষোয়ান গ্রুপ ৬০ কোটি টাকার বিস্কুট বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি করেছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেশিনে তৈরি হচ্ছে বলেই সেই বিস্কুট রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছে।’

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসিফ সিদ্দিকী

মন্তব্য