kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

পাঁচ বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৭০ শতাংশ

এম সায়েম টিপু   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৭০ শতাংশ

করোনা মহামারিতে বিশ্ববাণিজ্য সংকটকাল অতিক্রম করলেও বাংলাদেশের বিস্কুট স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বিশ্ববাজারে। প্রতিবছরই ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে দেশের বিস্কুট রপ্তানিতে। এমনকি পাঁচ বছরের ব্যবধানে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭০ শতাংশ। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, কম উৎপদন খরচ এবং বিশ্ববাজারে করোনায় রেডি টু ইট খাবারের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বিস্কুটের চাহিদাও বাড়ছে বলে মনে করেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্রেড ও বিস্কুট রপ্তানিতে আয় হয়েছে এক কোটি আট লাখ ৮৪ হাজার ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ৯২ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যে আয় ছিল ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে ব্রেড ও বিস্কুট রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় হয় ৮৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয় ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। শুধু তা-ই নয়, রপ্তানিতে চমক দেখিয়েছে চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) গত সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি)। এ সময় আয় হয়েছে ৯৬ কোটি টাকা।

ইপিবির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে বাংলাদেশের বিস্কুট রপ্তানি হয়। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আবর আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সোমালিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো।

তবে উদ্যোক্তারা জানান, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের বিসু্কটের চাহিদা বাড়লেও চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক বাজার কম দামে উন্নতমানের বিস্কুট বাজারে দেওয়া, কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক এবং পণ্যের গুণগত মান রক্ষা ও গবেষণায় রয়েছে প্রতিবন্ধকতা।

সরকারের নীতিসহায়তা পেলে এ খাত আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, বিশ্ববাজারে দেশের বিস্কুটশিল্পকে টেকসই করতে নগদ প্রণোদনা ছাড়াও নীতিসহায়তা জরুরি। বিশেষ করে বিশ্বের বড় বড় চেইন শপগুলোতে পণ্য পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের বিস্কুটশিল্প। এ জন্য বিটুবি ব্যবসা বৃদ্ধি, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মেলায় উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ সহজ করার উদ্যোগ নিতে হবে। 

এদিকে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ অটো বিস্কিটস অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএবিবিএমএ) সভাপতি মো. শফিকুর রহমান ভূইয়া। তিনি বলেন, ‘কভিডের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা তৈরি হলেও শুষ্ক খাবার হিসেবে বিসু্কটের ব্যবসা বেশ রমরমা।’ তিনি বলেন, ‘খাবারের বিকল্প খাবার হিসেবে সব ধরনের খাদ্যগুণ থাকায় বিস্কুট একটি পরিপূর্ণ খাবার। এবং দামে কম ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় কভিডের কারণে সাধারণ সময়ের চেয়ে এর কদর বেড়েছে প্রায় চার গুণ।’

এ বিষয়ে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের পরিচালক বিপণন কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বিশ্বের বিস্কুট উৎপাদনকারী দেশগুলো বেশির ভাগ উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করে। কভিডের অনিশ্চয়তার এই সময়ে ভোক্তারা সাশ্রয়ী দামে পণ্য চায়। বাংলাদেশ সাশ্রয়ী এবং গুণগতমানে গ্রহণযোগ্য উন্নতমানের বিস্কুট তৈরি করায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।’ দেশে বিশ্বমানের প্রায় ২০ থেকে ২৫ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের প্রত্যেক কারখানায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

মন্তব্য