kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ট্রান্সফ্যাট পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই বিএসটিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রান্সফ্যাট পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই বিএসটিআইয়ের

দেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও বিস্কুটজাতীয় পণ্যে ট্রান্সফ্যাট পরিমাপ করার কোনো ব্যবস্থা নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই)। এমনকি নেই পরীক্ষাগার ও নীতিমালাও। কর্মকর্তারা বলছেন, বিস্কুটের যে মান বই রয়েছে তাতে ট্রান্সফ্যাট পরিমাপের কোনো কথা লেখা নেই। বিস্কুটের ক্ষেত্রে এখন শুধু ময়েশ্চার, প্রোটিন, ক্যাডমিয়ামসহ চার থেকে পাঁচটি বিষয় যাচাই করা হয়। এসব যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলেই বিস্কুটের লাইসেন্স দেওয়া হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিস্কুট তৈরির পরিবেশ ও মান সনদ রয়েছে কি না তা যাচাই করা হয়।

বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে বড় এক হাজারের বেশি বিস্কুট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া হাতে তৈরি বা ছোট প্রতিষ্ঠান রয়েছে আরো পাঁচ হাজারের ওপর। এসব প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিস্কুটের মান যাচাইয়ে বিএসটিআইয়ের সার্ভেইল্যান্স টিমের প্রতিনিধিরা মাঝেমধ্যেই নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাই করেন। এ ছাড়া মান সনদের আবেদন করলেও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, দেশের প্রতিযোগিতাশীল বাজারে সবাই বিস্কুটের মান ভালো করার চেষ্টা করছে। এতে যেসব নমুনা তারা নিয়ে আসে তার মধ্যে বড় কম্পানিগুলোর ৯৫ শতাংশ বিস্কুটই মানে উত্তীর্ণ হয়। এ ছাড়া ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের ৯০ শতাংশ ভালো পাওয়া যায়। তবে অননুমোদিত কারখানাও রয়েছে অনেক। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেন, বাজার অভিযানের ৫০ শতাংশ হয় ব্রেড এবং বিস্কুট তৈরির কারখানাগুলোতে। এ সময় প্রায়ই অবৈধ বিস্কুট তৈরির কারখানা পাওয়া যায়।

বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সার্টিফিকেশন মার্কস উইং) সাজ্জাদুল বারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিস্কুটের মান বইয়ে যেসব ক্রাইটেরিয়া দেওয়া রয়েছে লাইসেন্স দেওয়ার আগে সবাইকে সেগুলো পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে একটা কম হলেও আমরা লাইসেন্স দিই না। এ ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার পরও মাঝেমধ্যে মান যাচাই করা হয়। এসব মানে সবাই মোটামুটি উতরে যায়। ট্রান্সফ্যাটের বিষয়ে মান বইতে এখনো কিছু নেই। তাই আমরাও এ বিষয়ে কোনো পরীক্ষা করি না। এ ছাড়া পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নেই আমাদের। তবে যেহেতু অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কী করা প্রয়োজন তার একটি চাহিদাপত্র তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। তবে তার আগে নীতিমালা করা প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এটি নিয়ে কাজ করছে।’

জানা যায়, ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও), যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। বিস্কুটসহ বেকারি পণ্যে এই ডালডার ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাদ, ঘ্রাণ এবং স্থায়িত্ব বাড়াতে আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করছে অনেকে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণায় ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও ব্র্যান্ডের ২৪টি নমুনা বিশ্লেষণ করে ৯২ শতাংশ নমুনায় ডাব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা ডাব্লিউএইচওর সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম নমুনায় গড়ে ১১ গ্রাম ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে।

মন্তব্য