kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

স্বাদ ও বৈচিত্র্যে বাজার বাড়ছে বিস্কুটের

সজীব আহমেদ   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাদ ও বৈচিত্র্যে বাজার বাড়ছে বিস্কুটের

স্বাদ আর বৈচিত্র্যে বিপ্লব ঘটেছে দেশীয় বিস্কুটশিল্পে। কম্পানিগুলো এখন বিভিন্ন স্বাদের বিস্কুট বাজারজাত করছে। ফলে বিদেশিদের বিপরীতে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে দেশের কম্পানিগুলো। বাংলাদেশে উৎপাদিত বিস্কুটের বাজার শুধু দেশে নয়, বিদেশেও ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে এখন বিস্কুটের বাজার প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার। এ ছাড়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিস্কুট সরবরাহ হয়। প্রায় পুরোটাই দেশি ব্র্যান্ডগুলোর দখলে। বর্তমানে দেশে মাঝারি ও বড় শতাধিক বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ব্র্যান্ডেড প্রতিষ্ঠান ২৫-৩০টির মতো। এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০০ ব্র্যান্ডের বিস্কুট উৎপাদন করছে। বাজার বাড়ছে বছরে ১৫ শতাংশ হারে।

বিস্কুট প্রস্তুতকারকরা বলছেন, করোনার কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন স্বাস্থ্যকর এবং মোড়কজাত পণ্য বেছে নিয়েছে। এ কারণে ব্র্যান্ডেড প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এর অন্যতম হলো বিস্কুট। এ ছাড়া চীনসহ ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনার ভয়াবহতা বেশি থাকায় তারা এসব পণ্য আমদানি করছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে ভালো করছে। দেশের বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অলিম্পিক, প্রাণ, নাবিস্কো, হক, ড্যানিশ, কোকোলা, রোমানিয়া, কোহিনুর, কিষোয়ান, বঙ্গজ, ওয়েলফুড ইত্যাদি। ব্র্যান্ডেড কম্পানিগুলোর মার্কেট শেয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ। বাকি চাহিদা মেটাচ্ছে অন্যান্য কম্পানি ও বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান।

দেশের বিস্কুটের ব্যবসার জন্য প্রতিষ্ঠিত কম্পানি যেমন আছে, তেমনি আছে জেলা ও শহরভিত্তিক কম্পানিও। আবার বিভিন্ন মিষ্টি ও কনফেকশনারি কম্পানিও বিস্কুট বিক্রি করে থাকে।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি বিস্কুট ব্র্যান্ডের দখলে সুপারশপের বিস্কুটের আলমারিগুলো। এখানে সাধারণ বিস্কুট থেকে শুরু করে লেক্সাস, সবজি, গ্লুকোজ, কফি, স্ট্রবেরি, আলু, জিরা, ক্রিম, চকোলেট, ওয়েফার, টোস্ট, মসলা, নোনতা, বাদাম, দুধ, ঘি, মিষ্টি, ঝাল, কমলা ও বিভিন্ন ভেজিটেবলসহ নানা স্বাদের বিস্কুট বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সুগার ফ্রি বিস্কুট ও হজমে সহায়ক ডাইজেস্টিভ বিস্কুটও পাওয়া যাচ্ছে।

বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘প্রাণ কম্পানি সব ক্যাটাগরিতেই বিস্কুট উৎপাদন করছে। বর্তমানে প্রাণের বিস্কুটের বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৫-২০ শতাংশ। করোনা মহামারিতে এর উৎপাদন ও বিপণন স্বাভাবিক ছিল। প্রাণের বিস্কুট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানিতে এর প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশের বেশি। ক্রমেই দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণের বিস্কুটের চাহিদা বাড়ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণ গ্রুপ তার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য খাতের কম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। দুই যুগ ধরে বিস্কুট ও কনফেকশনারির বাজারে বেশ দাপটের সঙ্গেই ব্যবসা করে যাচ্ছে কম্পানিটি। দেশের বিস্কুটের বাজারে বেশির ভাগ বাজার অংশীদারি রয়েছে এই কম্পানির দখলে।

কম্পানিটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক লাখ মেট্রিক টন বিস্কুট, কনফেকশনারি ও বেকারি পণ্য বিক্রি করেছে, যা কম্পানির ইতিহাসে প্রথম। রেকর্ড পরিমাণ বিক্রির কারণে কম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফায়ও ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বছর শেষে মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ২০২ কোটি টাকা।

বিস্কুট প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএবিএমএ) সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের বিস্কুট খাতে পড়েনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় করোনাকালে বিস্কুটের চাহিদা দেশ ও বিদেশে প্রচুর বেড়েছে। বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে লেক্সাস, বিভিন্ন ভেজিটেবল ও নাটি বিস্কুটগুলো বেশি হয়। তবে এখনো দেশে সীমিত পরিসরে বিস্কুট আমদানি হয়। লেক্সাস, গ্লুকোজ, ডাইজেস্টিভ ও ডায়াবেটিসের বিভিন্ন বিস্কুট আমদানি হয়ে থাকে।’

শফিকুর রহমান ভূঁইয়া আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মাঝারি ও বড় আকারে বিস্কুট উৎপাদন করছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান এবং ছোট আকারে আরো কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি বিস্কুট উৎপাদন হয়। এ ছাড়া সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিস্কুট সরবরাহ করছে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় এটি বন্ধ আছে। আবার স্কুল খোলা হলে এই কার্যক্রম চালু হবে।’

মন্তব্য