kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার

নতুন সম্ভাবনা দেখাল টেলিমেডিসিন

জুমের বিকল্প আনবে সিনেসিস আইটি

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নতুন সম্ভাবনা দেখাল টেলিমেডিসিন

রুপায়ন চৌধুরী, গ্রুপ সিইও, সিনেসিস আইটি লিমিটেড

করোনা মহামারির ধাক্কায় সব ব্যবসায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও ব্যতিক্রম শুধু স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক উদ্যোগ। ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এই খাতে এনে দিয়েছে বড় অঙ্কের মুনাফা। মহামারি মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় ভূমিকা রেখেছে টেলিমেডিসিন সেবা। করোনাকালে ৯৬ শতাংশ মানুষই এই সেবার ওপর ভরসা রেখেছে। মোবাইলভিত্তিক এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অভ্যস্ততা করোনা-পরবর্তী সময়েও মানুষের মধ্যে থাকবে বলে আশা করছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। এতে আগামীতে নতুন ধাঁচের টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি কম্পানি সিনেসিস আইটি লিমিটেডের গ্রুপ সিইও রুপায়ন চৌধুরী। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি করোনাকালে ডিজিটাল সেবার রূপান্তরের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন।

 

গ্রিক শব্দ ‘সিনেসিস’ অর্থ ইন্টিগ্রেট করা। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে ইন্টিগ্রেট করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে সিনেসিস আইটি লিমিটেড। পাঁচ শতাধিক কর্মী নিয়ে ঢাকা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা কার্যালয়ের মাধ্যমে চলছে এর কর্মযজ্ঞ। ই-গভর্ন্যান্স, ই-হেলথ, ই-টিআইএন, ই-টেন্ডার, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) বিশেষায়িত সফটওয়্যার, সাইবার নিরাপত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে বিসৃ্তুত এর কার্যক্রম। সিনেসিস আইটির গ্রুপ সিইও বলেন, ‘আমরা সরকারের ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে সহায়তা করছি যেখানে মূল কাজটিই জনসাধারণকে নিয়ে। মানুষ কত সহজভাবে সেবা নিতে পারে সেটা নিয়েই আমাদের যাবতীয় উদ্ভাবন। ই-টিন, সিম রেজিস্ট্রেশন, একপে-এর কাজ আমাদের করা এবং আমাদের ৬০টিরও বেশি প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।’

করোনাকালে সরকারি একাধিক কলসেন্টার থেকে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন, কভিড ১৯ টেলিহেলথ সেন্টার, মা-টেলিহেলথ সেন্টার, সুখী পরিবার কলসেন্টার, ই-টিন সেবার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে দক্ষতা দেখিয়েছে সিনেসিস আইটি। এর স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি উইটসা গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। রুপায়ন চৌধুরী বলেন, ‘কভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টার একটি মানবিক সেবা। করোনার মধ্যে যখন সরাসরি ডাক্তারদের সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তখন এই টেলিহেলথ সেন্টারটি মানুষের পাশে থেকে নিরলস সেবা দিয়ে গেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্রুত এই টেলিহেলথ সেন্টারটি চালু করা সম্ভব হয়ছিল।’

রুপায়ন চৌধুরী বলেন, ‘ই-হেলথ, ই-এডুকেশন, ই-ফুড, ই-কমার্সের মতো জরুরি সেবাগুলো ছিল বলে সরকার মহামারি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ সালে যখন আমরা কাজ শুরু করি তখন মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারটির মধ্যে একটা নাক সিটকানো ব্যাপার ছিল এবং ডাক্তাররাও ঠিকমতো আসতে চাইতেন না। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন ছিল এই সেবা আমরা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য বাতায়নের যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের এই স্বপ্ন পূরণ হয়।’

স্বাস্থ্য বাতায়ন চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর সময়ে জনগণের পাশে থেকে সেবা দিয়ে গেছে এবং এই করোনার সময়ে সম্মুখে থেকে সেবা প্রদান করেছে উল্লেখ করে সিনেসিস আইটির শীর্ষ নির্বাহী বলেন, ‘আগে যেখানে দিনে কল আসত ১০-১২ হাজার সেখানে এটি তিন থেকে চার লাখে পৌঁছে যায়। বর্তমানে এর পরিমাণ ৬-৭ হাজারের মতো। তবে আমরা প্রথমে এত কলের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, কিন্তু দ্রুত আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করি যেন পূর্ণ সেবা নিশ্চিত করা যায়। আমাদের ডাটা অনুযায়ী প্রায় ৯৬ শতাংশ রোগী ঘরে বসেই করোনা সেবা নিয়েছে এবং ৪ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। আমার মনে হয় এমন মানবিক সেবা আর কোথাও দেওয়া হয়েছে কি না আমার জানা নেই। এমন মুনাফা মোটেও মুখ্য নয়, সেবার তৃপ্তিটাই আসল।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় মানুষের ই-হেলথ সেবায় আস্থা বেড়েছে। তাই এর চাহিদা সব সময় থাকবে। আমরা বিএসএমএমইউর সঙ্গে কাজ করে একটি ব্যবস্থা করেছি যার মাধ্যমে ডাক্তার একজন রোগীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারবেন এবং তিনি চাইলে ভিডিওকলের মাধ্যমেও কথা বলতে পারবেন। আমাদের ইচ্ছা আছে সামনে স্বাস্থ্য বাতায়নের সঙ্গেও এরূপ সেবা যুক্ত করা। এই খাতে আরো নতুন নতুন ব্যাবসায়িক উদ্যোগ আসবে বলে আমার বিশ্বাস।’

করোনাকালে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘরে বসে ব্যক্তিগত, অফিস ও ব্যাবসায়িক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে জুমের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক উত্থান ঘটেছে। শতকোটির বেশি মানুষ এই সেবা ব্যবহার করছে। এর ব্যবহার ভবিষ্যতেও বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সিনেসিস আইটি বিশ্বমানের একটি ভিডিও কনফারেন্স প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আসতে যাচ্ছে বলে জানালেন রুপায়ন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্ল্যাটফর্মে মৌলিক এমন কিছু থাকবে, যা ব্যবহারকারীদের অন্য রকম একটা অভিজ্ঞতা দেবে। আমাদের প্ল্যাটফর্মে একটা ভিডিও মিটিংয়ে ১২০০-এর মতো অংশগ্রহণকারী থাকতে পারবে।’

সিনেসিস আইটি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে গ্লোবাল ফুট প্রিন্ট এক্সপ্লোর করি। আমাদের ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাব। আইপিওতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ক্যাপিটাল বেজটিকে আরো শক্তিশালী করে অর্থাৎ ১০০ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরই আইপিওতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। ২০২৩-এর মধ্যে আমাদের আইপিওতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে এখন পর্যন্ত।’



সাতদিনের সেরা