kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

বনের মধু অনলাইনে

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বনের মধু অনলাইনে

করোনাকালে যেমন বন্ধ হয়েছে অনেক কলকারখানা, বেকার হয়েছে অনেক মানুষ, ঠিক সেই অনুপাতে না হলেও কিছু মানুষ অনলাইনে উদ্যোক্তা হয়ে পেয়েছে সফলতা। বিশেষ করে এই করোনাকালে বেশি বিক্রি হয়েছে মধু। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে বেশির ভাগ মানুষ খেয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, এই করোনাকালে মধুর চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তাঁদের বেচাবিক্রি ছিল অনেক বেশি। তবে রাজধানীতে আসা বেশির ভাগ মধুই ছিল রাজধানীর বাইরের। মধুগুলোর মধ্যে অন্যতম সুন্দরবনের খলিসা ও কেওড়া ফুলের মধু। এ ছাড়া ছিল চাকের মধুর পাশাপাশি সরিষা ফুলের মধু।

রাজধানীর রূপনগর এলাকার বাসিন্দা মো. মোকলেছুর রহমান। অনেকে এখন তাঁকে চেনে মধু সোহেল নামে। করোনার কারণে কর্মক্ষেত্রে ৯ মাস বেতন বন্ধ ছিল তাঁর। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। নিজেই হয়েছেন উদ্যোক্তা। ফিরে যাননি আর চাকরিতে। নিজের ফেসবুক পেজ ‘মারওয়া’ থেকেই বিক্রি করছেন মধু। তাঁর মধু মূলত আসে গাজীপুর আর সিরাজগঞ্জ ধেকে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার সময় অফিসের বেতন বন্ধ ছিল ৯ মাস। তখনই আমি মধুর ব্যবসা শুরু করি। এ কারণে অনেকে আমাকে মধু সোহেল বলে ডাকে। অনলাইনেই আমার আনা সব মধু বিক্রি করি। শীত আর করোনার জন্য মধুর চাহিদা এখন অনেক বেশি।’ তিনি আরো বলেন, ‘গড়ে আমি এখন প্রতি মাসে ১০০ থেকে ১৩০ কেজি মধু বিক্রি করি।’ তাঁর কাছে বর্তমানে চাকের মধু, কালিজিরা ফুলের মধুসহ লিচু ফুলের মধু আছে। যার মূল্য প্রতি কেজি এক হাজার থেকে শুরু করে এক হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বলে জানান তিনি।

খুলনা নিউ মার্কেটে নিজ দোকানে মধু বিক্রি করেন সৌমিত্র বাবু। তাঁর দাবি, দোকানের চেয়ে এখন অনলাইনে বেশি মধু বিক্রি করেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই নিউ মার্কেট এলাকায় আমাদের মধুর সুনাম আছে। আমরা এখানকার অনেক পুরনো দোকানি। তবে দোকানের চেয়ে অনলাইনে এখন বেশি মধু বিক্রি হয়। আমাদের বেশির ভাগ ক্রেতা কক্সবাজার, ফেনী এলাকার।’

তিনি জানান, প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৮০ কেজির মতো মধু বিক্রি করেন তিনি। তাঁর কাছে মূলত এখন রয়েছে খলিসা আর গড়ান ফুলের মধু। প্রতি কেজি এক হাজার ১০০ টাকা করে বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা থেকে প্রতিদিন সারা দেশে মধু সরবরাহ করেন রেজোয়ানুর রব। তিনি মূলত তাঁর ব্যবসা পরিচালনা করেন ‘গ্রামের হাট’ নামক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ব্যবসাটা মূলত পাইকারি। আট বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আমি। সবচেয়ে বেশি মধু বিক্রি করেছি আাামি করোনার সময়ে। তবে বেচাবিক্রি বেশি হয় শীতকালে। এখন গড়ে প্রতি মাসে ৫০০ কেজি মধু বিক্রি করি।’ বর্তমানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁদের ফেসবুক পেজ। ফেসবুক লাইভ ও ভিডিও করার মধ্য দিয়ে তাঁরা তুলে ধরেন তাঁদের মধু সংগ্রহের প্রক্রিয়া। অনেকে এ পদ্ধতিতে সফলও হয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের মধ্যে একজন মো. মোকলেছুর রহমান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সরাসরি চাক ভেঙে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া মধু সংগ্রহ করি। চাক ভাঙার সময় সেটা আবার ফেসবুক লাইভে প্রচার করি। এ কারণে ক্রেতারা আমার মধুর ওপর ভরসা করে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা