kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

সরিষাক্ষেতে ব্যস্ত মধু চাষি

আহমেদ উল হক রানা, পাবনা   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরিষাক্ষেতে ব্যস্ত মধু চাষি

পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাঠের পর মাঠ ছেয়ে গেছে হলুদ সরিষা ফুলে। এবারে সরিষার আবাদ ভালো হওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি মুখে হাসি ফুটে উঠেছে সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের মানুষজনেরও। প্রায় এক মাস যাবৎ এসব মধু চাষি তাঁদের মৌমাছির বাক্স আর অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ঘাঁটি গেড়েছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরিষাক্ষেতে। ফুল থেকে মধু সংগ্রহের কারণে পরাগায়ণ ভালো হওয়ায় সরিষা চাষিরাও এসব মধু চাষিকে আগ্রহভরেই তাঁদের জমির পাশে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কোলাদী গ্রামের একটি সরিষা মাঠে পাওয়া গেল সুজানগর উপজেলার মধু চাষি অলি প্রামাণিককে। তিনি জানান, এক মাস যাবৎ তিনি এই মাঠের সরিষা ফুল থেকেই মধু সংগ্রহ করছেন। মাঠের পাশে তিনি মধু সংগ্রহের জন্য ২০০টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করেছেন। প্রতি বাক্সে ৩০ হাজার মৌমাছি রয়েছে। প্রতিদিন তিনি গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি মধু সংগ্রহ করেন। অলি প্রামাণিকের ধারণা চলতি সংগ্রহ মৌসুমে তিনি একাই দুই মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত মধু কোনোটা তিনি সরাসরি ভোক্তাদের কাছে আবার কখনো পাইকারিভাবে বিভিন্ন কম্পানির কাছে বিক্রি করেন। তাঁর কাছ থেকে জানা গেল, সরিষা মৌসুমের পর তিনি লিচু আর কালোজিরার মধু সংগ্রহে নামবেন। বছরের বেশ কয়েকটা মাস মধু সংগ্রহের কোনো উপায় থাকে না। সে সময় খামারের মৌমাছিকে চিনি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। গত বছর এ জন্য তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। চলতি বছর সরিষার বাম্পার ফলনে মধুও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এতে চলতি বছর সব খরচ বাদে আরো প্রায় দেড় লাখ টাকা মুনাফা করবেন বলেও তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনা অঞ্চলের উপপরিচালক আব্দুল কাদের জানান, চলতি বছর জেলার ৯টি উপজেলার ৩১ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এখান থেকে ৪১ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন সরিষা পাওয়া যাবে। আর সরিষা ফুল থেকে এ বছর ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন খাঁটি মধু পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করছেন।

উত্তরবঙ্গ মৌ চাষি সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে জানান, পাবনার ৩৫ জনসহ উত্তরবঙ্গের ৬৫ জন মৌ চাষি এবার মাঠ থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। পাবনার মৌ চাষিরা এই মৌসুমে ১৩০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করতে পারবেন বলে তিনি ধারণা করছেন।

বিভিন্ন মাঠ ঘুরে মৌ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের অনেকেই ফুল থেকে সংগৃহীত মধু সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন। অনেকে আবার সংগৃহীত মধু রিফাইন করে বিক্রি করেন। মানভেদে এসব মধু কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা