kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

মেলা নেই তাই ব্যবসা মন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হস্তশিল্প পণ্যের একটি বড় অংশ বিক্রি হয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন মেলায়। কিন্তু করোনার কারণে বিভিন্ন মেলা ও উৎসব আয়োজন একরকম বন্ধ। এ ছাড়া ফুটপাত বা শোরুমগুলোতেও কমেছে এসব শৌখিন পণ্যের বিক্রি।

সরেজমিনে রাজধানীর দোয়েল চত্বরের হস্তশিল্পের দোকানগুলোতে এমনই চিত্র দেখা যায়। জানতে চাইলে এখানকার ব্যবসায়ী মৃিশল্পী তাপস পাল বলেন, ‘শীতকালে অনেক উৎসব হয়, মেলা হয়, তাতে ব্যাপক বিক্রিও হয়। কিন্তু এবার করোনার কারণে আমাদের তেমন বেচাবিক্রি নেই। তা ছাড়া বিশেষ উৎসবে এই এলাকায় বেশি মানুষের আনাগোনা হয়। এবার সেটিও নেই, তাই বেচাকেনার বেহাল দশা।’

এই সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শংকর পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের এখান থেকে ৪০-৫০ লাখ টাকার পণ্য শুধু বিদেশেই রপ্তানির অর্ডার পেতাম। এই বছর এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি অর্ডার আসেনি। এখন ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। ঢাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের তৈরি পণ্য বিভিন্ন দেশে যেত।’

দোকানের কর্মচারী নয়ন পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে গত এপ্রিল থেকে দোকান কয়েক মাস বন্ধ ছিল। আগস্ট থেকে আবার আমাদের কাজ শুরু হয়েছে। আগে দিনে এখানে পাঁচ-সাত হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করতাম। এখন দুই হাজার টাকা বিক্রি করতেও কষ্ট হয়। বিক্রি না থাকায় সারা দিনে মালিক একবার দোকানে আসেন।’  তিনি আরো বলেন, ‘আসলে মৃিশল্পের পণ্যের ব্যবসা মূলত মেলাকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এখানে সারা বছর যা বিক্রি হয়, দুই-তিন দিনের মেলায় তার কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হয়। চট্টগ্রামের তিন দিনের বৈশাখী মেলায় আমাদের ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা বিক্রি হতো। এ ছাড়া খুলনা, সোনারগাঁ, রংপুর, ফেনী, মাগুরাসহ দেশের প্রতিটি জেলায় যেসব বাণিজ্য মেলা হয়, সেগুলোতে স্টল দিয়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতো। এ বছর তো সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার প্রভাব পড়েছে আমাদের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে। আমাদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে করোনা কালীন সময়ে। মেলা হলে আমাদের এই সব পণ্যের বিক্রি বাড়ে। তবে এখন যেহেতু আমরা জনসমাগম করে মেলা করতে পারছি না, সেহেতু আমরা চেষ্টা করছি ডিজিটাল মেলা করা যায় কি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা