kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

অনলাইনে বিক্রি করে টিকে থাকার চেষ্টা

হস্তশিল্পে সাফল্যের অগ্রভাগে নারী

তামজিদ হাসান তুরাগ   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হস্তশিল্পে সাফল্যের অগ্রভাগে নারী

হস্ত ও কুটিরশিল্প মেলার এমন চিরাচরিত দৃশ্য ২০২০ সালে দেখা যায়নি, উদ্যোক্তারা আশাবাদী ২০২১ সাল নিয়ে

যশোর, জামালপুর থেকে হস্তশিল্পের নানা পণ্য রাজধানীতে এনে বিক্রি করছেন স্নাতক সম্পন্ন করা প্রতাপ পলাশ। তিনি ঢাকার মিরপুর থেকে এসব পণ্য বিক্রি করছেন অনলাইনে তাঁর নকশিওয়ালা ডটকম সাইটের মাধ্যমে। তাঁর বিক্রি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে নকশিকাঁথা, কুর্তি, বিছানার চাদর, সুতার কাজ করা শাড়ি ইত্যাদি। এক বছরের মধ্যে সফলতাও পেয়েছেন। এখন প্রতি মাসে বিক্রি করছেন ৫০ হাজার টাকার মতো। তিনি বলেন, ‘যশোর, জামালপুরের নারীরা তাদের নিপুণ হাতে অত্যন্ত যত্নসহকারে এসব পণ্য তৈরি করে দেয়। ক্রেতারা পছন্দ করায় বিক্রি ভালো ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এখন আমাদের ব্যবসায় কিছুটা মন্দা চলছে। মানুষ শখের বশে এখন শৌখিন জামাকাপড় কিনছে না। তবে যার যেটা প্রয়োজন সেটা তিনি ঠিকই কিনছে। আমরা আশাবাদী, সামনের দিনগুলোতে ব্যবসা আরো ভালো হবে।’

সব ধরনের কাপড়ের ওপর সুই-সুতার কাজ করে তা নিজস্ব ফেসবুক পেজে ‘ফারহানাস ড্রিম’-এ বিক্রি করছেন ফারহানা আক্তার লাকী। তবে তিনি এই শীতকালে বেশি বিক্রি করছেন নকশিকাঁথা। প্রতি মাসে এখন তাঁর বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে এখন কোনো মেলা নেই, কোনো উৎসব নেই, তা ছাড়া মানুষ শখের বশে তেমন কোনো পণ্য কিনছে না। তাই আমাদের ব্যবসা এখন একটু মন্দা। তবে সামনের দিকে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘তবে মেলাটা হওয়া জরুরি। কারণ মেলায় অনেক ধরনের পণ্য ওঠে। তখন ক্রেতারা সেখান থেকে ভালো পণ্যটি সহজেই খুঁজে বের করতে পারে।’

দেশীয় হাতের ক্রাফট, পাঞ্জাবি, শাড়িসহ সব ধরনের কাপড়ে সুই-সুতা নিয়ে কাজ করছেন শাওন আরা জেসমিন। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজ ‘আর এস ক্লথ’-এর মাধ্যমে আনলাইনে পণ্য বিক্রি করছেন। তিনি জানান, তাঁর এখান থেকে সিল্কের পাশাপাশি মসলিনের কাপড়ের ওপর কাজ করা পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এক বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। এরই মধ্যে সফলতা এসেছে বেশ। এখন প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করছি। এর পুরোটাই যাচ্ছে অনলাইনে।’

ফেসবুক পেজ রওশন’স ক্রিয়েশনসের মাধ্যমে অনলাইনে সুই-সুতার কাজের নকশিকাঁথাসহ সব ধরনের পণ্য বিক্রি করেন রওশন ইকা। তিনি বলেন, ‘আমি মূলত সুই-সুতা দিয়ে কাপড়ের ওপর করা যাবতীয় পণ্য বিক্রি করে থাকি। তবে বর্তমানে শীতকালে বাজার একটু কম। তবু নকশিকাঁথা বর্তমানে বেশি বিক্রি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকেও কিছু অর্ডার পাচ্ছি। সব কিছু মিলিয়ে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে।’

নারী ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের অন্যতম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম উই-এর হিসাব মতে, দেশের এখন ৬৪ জেলার ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছে তারা। অনলাইন প্ল্যাটফর্মটিতে দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করছেন এমন উদ্যোক্তার সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ নারী কাজ করছেন হস্তশিল্প নিয়ে। জানতে চাইলে এই প্ল্যাটফর্মের সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে কী পরিমাণ উদ্যোক্তা কাজ করছে সেভাবে বলা সম্ভব নয়। আমরা ছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে অনেক উদ্যোক্তা নিজ নিজ জায়গা থেকে হস্তশিল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে আনুমানিক একটা সংখ্যা বলা যেতে পারে, সেটা হলো বর্তমানে আমাদের এই গ্রুপে দুই থেকে তিন হাজারের বেশি উদ্যোক্তা রয়েছে, যারা হস্তশিল্প নিয়ে কাজ করছে। দিন দিন হস্তশিল্প তথা দেশি পণ্যের চাহিদা মার্কেটে বাড়ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা