kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

শীতলপাটি কি হারিয়ে যাবে!

পাঁচ হাত লম্বা ও চার হাত প্রস্থের একটি পাটি তৈরি করতে দুই দিন সময় লাগে। খরচ হয় ৪০০ টাকার মতো। শ্রমের মুজরিসহ খরচ দাঁড়ায় ১৫০০ টাকা

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শীতলপাটি কি হারিয়ে যাবে!

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে দেশের কয়েক শ বছরের ঐতিহ্য পাটিশিল্প। দুর্দিন যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের পাটিকরপল্লীতে। বংশপরম্পরায় এখানকার শতাধিক পরিবার শীতলপাটি তৈরি করলেও টিকে থাকা এখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। প্লাস্টিক আর রেক্সিনের প্রতাপে ক্রমেই সংকোচিত এ বাজার। ভবিষ্যতে হয়তো এই শীতলপাটি আর চোখে পড়বে না।

পাটিকরপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, এখনো বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হচ্ছে শীতলপাটি ও মোটা পাটি। তবে পরিমাণ অনেক কম। শতাধিক ঘরে এ পেশার পাটিকররা থাকলেও চাহিদা কমে যাওয়ায় তাঁরা এখন আর তেমন একটা পাটি তৈরি করেন না। একসময় নতুন জামাই ও অতিথি আপ্যায়নে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরসহ দেশের প্রতিটি এলাকায় এ পাটির কদর ছিল অনেক বেশি। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক ও রেক্সিনের সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের কারণে মানুষের আগ্রহ এদিকেই।

পল্লীর পঞ্চাশোর্ধ্ব গোবিন্দ মেদি জানালেন, প্রায় ২৫০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় তাঁরা এ পাটি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এখনো ১০০ পরিবারের ঘরে এ পাটি তৈরি হচ্ছে। তবে চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো পাটি তৈরি করেন না তাঁরা। তিনি জানালেন, একটি পাটি তৈরি করতে একজন পাটিকরের দুই দিন সময় লাগে। পাঁচ হাত লম্বা ও চার হাত প্রস্থের একটি পাটি তৈরি করতে খরচ হয় ৪০০ টাকার মতো। শ্রমের মুজরিসহ খরচ দাঁড়ায় এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। অথচ শ্রমের মুজরি ছাড়াই মাত্র ১০০ টাকা লাভে একটি পাটি বিক্রি করেন তাঁরা ৫০০ টাকায়। প্রতি রবিবার আবদুল্লাহপুর হাটে তাঁরা এ পাটি বিক্রি করে থাকেন। স্থানীয় ক্রেতাসহ দূর-দূরান্ত থেকে মহাজনরা এসে কিনে নেন।

পল্লীর আরেক পাটিকর ৬৯ বছরের বৃদ্ধা কল্পনা দে জানান, তাঁর স্বামীও এই পাটি তৈরি করে সংসার চালাতেন। ২০১৩ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারে চলে আসে অভাব। দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে এ পেশায় টিকে থাকতে পারছিলেন না। এর পরও তিনি ও তাঁর ছোট মেয়ে ঝুমুর এখনো এ কাজ করে চলেছেন জীবিকা নির্বাহের তাগিদে। আর বড় ছেলে এ পেশা ছেড়ে এখন ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন। পাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় ও লাভ সীমিত হয়ে পড়ায় তাঁর ছেলের মতো অনেকেই এখন এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

ঝুমুর জানালেন, তিনি একজন প্রশিক্ষক হয়ে জাতীয় জাদুঘরের ডাকে সেখানে গিয়ে কিভাবে পাটি তৈরি করতে হয়, তা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন সরকার যদি পাটি রপ্তানির জন্য একটু উদ্যোগ নেয়, তবে এই শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা