kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনায় অনলাইনে বিক্রি বেড়েছে হিমায়িত খাদ্যের

রোকন মাহমুদ   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় অনলাইনে বিক্রি বেড়েছে হিমায়িত খাদ্যের

হিমায়িত খাদ্যপণ্য সাধারণত নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নিচে রাখতে হয়। ফলে রেফ্রিজারেটর থেকেই এগুলো বিক্রি হয়। কিন্তু ই-কমার্সের এই সময়ে সে বাধা ভেঙে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ই-কমার্সে প্রচুর তরুণ কর্মী যোগ হওয়ায় হিমায়িত খাদ্যপণ্যগুলো দ্রুত ক্রেতার কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে। এতে গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখেই বিক্রি হচ্ছে এসব খাবার।

ফলে দিন দিন হিমায়িত খাদ্যের অনলাইন বাজার বড় হচ্ছে। পণ্য সারিতেও নতুন নতুন আইটেম যোগ হচ্ছে। আগে স্বল্প সংখ্যক পণ্য হিমায়িত হিসেবে অনলাইনে বিক্রি হলেও এখন ২০ থেকে ২৫ ধরনের পণ্য বিক্রি হয়। এর মধ্যে মাছ, মাংস, পরোটা, রুটি, সমুচা, নাগেটস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসহ স্ন্যাকসজাতীয় খাদ্য, মাংসের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ইত্যাদি। এর মধ্যে মাংস, পরোটা, নাগেটস ইত্যাদি পণ্যগুলোই বেশি বিক্রি হয়। অনলাইনে যত পণ্য বিক্রি হয় তার প্রায় ২ শতাংশই হিমায়িত খাদ্যপণ্য। এ ছাড়া দেশের হিমায়িত খাদ্য বাজারের ১০-১৫ শতাংশ বেচাকেনা হয় এখন অনলাইনে।

জানতে চাইলে স্বপ্ন সুপারশপের অনলাইন বিভাগ স্বপ্নডটকমের প্রধান খাজা আসহাদ বেলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ২০১৭ সালে অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করি। প্রায় সব পণ্যই অনলাইনে ক্রয়াদেশ নিয়ে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। শুরুতে হিমায়িত পণ্যের অংশ কিছুটা কম ছিল। এখন ধীরে ধীরে হিমায়িত পণ্যের বাজার বাড়ছে। শুরুর বছরে আমাদের এই খাতে বাজার অংশ ছিল ০.২ শতাংশ। পরের বছর তা ০.৮ শতাংশ হয়। এখন দেড় শতাংশে উন্নীত হয়েছে। করোনার সময় এই হার আরো বেশি ছিল। এখন স্বাভাবিক অবস্থায় অনলাইনে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার হিমায়িত পণ্য বিক্রি হয়। জুনের দিকে যখন করোনার প্রভাব বেড়ে গিয়েছিল তখন তা ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। বছরকয়েক আগেও এই খাতে গুটিকয়েক পণ্য ছিল। এখন আমরা মাছ, মাংস ছাড়াই ১৯টি ক্যাটাগরির হিমায়িত পণ্য বিক্রি করি।’

জানা যায়, হিমায়িত খাদ্য রেফ্রিজারেটর থেকে বের করার পর সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত গুণগত মানের তেমন পরিবর্তন হয় না। এই সময়ের মধ্যে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ফলে এই খাতে ব্যবসা কিছুটা কঠিন বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অনেকে সরবরাহের ক্ষেত্রে লোকবল বাড়িয়ে এবং দ্রুত যানবাহনের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জটা টপকে গিয়েছে। স্বপ্ন ডটকমের প্রধান বেলাল জানালেন, এ জন্য তাঁদের বিনিয়োগ বাড়াতে হয়েছে। রাজধানীর ৩০টি এলাকায় তাঁরা স্টোর তৈরি করেছেন। ফলে পণ্য সরবরাহ করা হয় ক্রেতার কাছাকাছি স্টোর থেকে এবং মোটর বাইকের মাধ্যমে। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গুণগত মান অক্ষত রেখেই তাঁরা পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন। তিনি জানান, ১৯ ধরনের পণ্য থাকলেও তাঁদের কাছে সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসে পরোটা, রুটি, নাগেটস ইত্যাদির।

তবে এই খাতে মাছ এবং মাংসের বাজারটাও কম নয়। সেতারা ফার্ম লিমিটেড নামের অনলাইনভিত্তিক পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বাবলু চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ক্রেতার চাহিদার ভিত্তিতে মাংস বিক্রি শুরু করেছি। এর মধ্যে হিমায়িত হিসেবে আমদানি করা মহিসের মাংসটা বিক্রি করছি। প্রতিদিনই আমাদের কাছে অনেক অর্ডার আসে। প্রতিদিন আমাদের কাছে ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি হিমায়িত মাংসের অর্ডার আসে। করোনার সময়গুলোতে ৫০০ কেজি পর্যন্ত সরবরাহ করেছি আমরা।’ বছরতিনেক আগেও প্রতিদিন গড়ে ২০০ কেজি হিমায়িত মাংস বিক্রি হতো বলে জানান তিনি।

প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) নুরুল আমিন বলেন, ‘মোট খাদ্যপণ্যের ৬৫ শতাংশই হিমায়িত। যার ৪০ শতাংশ স্ন্যাকস এবং বাকি ৬০ শতাংশই মুরগির মাংস। আমাদের মোট পণ্যের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অনলাইনের অর্ডারে বিক্রি করতে পারছি। ফলে অনলাইনে হিমায়িত খাদ্যপণ্যের বাজার ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন শপে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে অনলাইনে বিক্রি আরো অনেক বেশি হবে। তাঁর মতে, এসব পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা মেনে চলতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা