kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

ভোক্তার স্বাস্থ্যগত দিক অগ্রাধিকার দেয় কাজী ফুড

তানভীর হায়দার চৌধুরী, সিইও, কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোক্তার স্বাস্থ্যগত দিক অগ্রাধিকার দেয় কাজী ফুড

এখনো আমাদের দেশের হিমায়িত খাদ্যের বাজার ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব একটা বড় নয়। তবুও খাদ্য বাজারের বেশ বড় অংশই এখন হিমায়িত খাদ্যের দখলে। দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, শহরে মানুষ বাড়ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে সেই সঙ্গে নারীদের কর্মসংস্থানও বাড়ছে। ফলে তাঁদের অনেকেই এখন আগের মতো রান্নার সময় পান না। নির্ভরশীলতা বাড়ছে হিমায়িত খাদ্যে। এতে পণ্যের সংখ্যা ও হিমায়িত খাদ্যের বাজার বড় হচ্ছে।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানভীর হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, হিমায়িত চিকেন, ফ্রাইডরাইস, পরোটা, রুটি, রোল ইত্যাদি খাদ্যপণ্যগুলো গৃহিণীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ ছাড়া দেশের তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাসও পরিবর্তন হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০১৩ সালে শুরু করেছিলাম শুধু আইসক্রিম দিয়ে। আইসক্রিমের জন্য আমাদের কুল চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়েছে। পরে সেই কুল চেইন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য হিমায়িত খাদ্যও তৈরি শুরু করি। এ ছাড়া আমাদের নিজেদের চিকেন ফার্ম থাকায় চিকেন দিয়ে অন্যান্য খাদ্যপণ্যগুলো তৈরি শুরু হয়। তাঁর মতে, বর্তমানে দেশের হিমায়িত খাদ্য বাজারের এক-চুতর্থাংশ কাজী ফুডের দখলে রয়েছে।’

তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘শুরু থেকেই হিমায়িত খাদ্যের বাজারে কাজী ফুডের খাদ্যগুলো বেশ সাড়া ফেলে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে দেশের ৩৬টি শহরে মোট ১৫১টি আউটলেট তৈরি করতে হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সুপারস্টোরগুলো, অনলাইনভিত্তিক শপগুলোতেও এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়। এই দুটি চ্যানেল ছাড়াও আরো একটি বড় চ্যানেলের মাধ্যমে কাজী ফুডের পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়। সেটা হলো নিজস্ব ডেলিভারি ভ্যানে করে বিভিন্ন বাজার বা এলাকার রিটেইল শপগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়। করপোরেট গ্রাহকও রয়েছে আমাদের। বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও কাজী ফুডের পণ্য বিক্রি করা হয়।’

হিমায়িত খাদ্যের বাজারে করোনার প্রভাব সম্পর্কে বলেন, অন্যান্য খাতের মতো এ খাতেও বেশ বড় একটি ধাক্কা লেগেছে। তবে যোগ-বিয়োগ করে সার্বিকভাবে বিক্রির গতি কম হলেও গত বছরের তুলনায় বেশিই হবে। স্বাভাবিক বছরগুলোতে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বিক্রি বাড়ে। করোনার কারণে তা হয়তো এ বছর শেষে ১০ থেকে ১২ শতাংশ হবে।

এই শিল্প অনেক এগিয়ে গেলেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করছেন তিনি। তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মানের দিক থেকে ভোক্তার স্বাস্থ্যগত দিকটাই আগে দেখি। ফলে আমরা মুরগি এবং এ থেকে তৈরি খাদ্যপণ্যগুলোকে বিষমুক্ত রাখি। আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজগুলো সব সময় নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। মুরগিকে লিড মিল, বোন মিল (মুরগির নাড়ি-ভুঁড়ি দিয়ে তৈরি খাদ্য) খাওয়াই না। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া খাদ্য তৈরিতে এমএসডি, টেস্টিং সল্ড এসব ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয় না। কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকও মুরগিকে দিই না। ফলে আমরা বলতে পারি আমাদের চিকেন আইটেমগুলো ঝুঁকিমুক্ত। এভাবে সবারই উচিত এসব বিষয় খেয়াল রাখা। অ্যান্টিবায়োটিক দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।’

এই খাতকে আরো এগিয়ে নিতে ভোক্তার সচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, হিমায়িত খাদ্যপণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রার মধ্যে রাখতে হয়। সেগুলো মানা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এই খাতের বড় চ্যালেঞ্জ এ জায়গাটাতেই। রাতে দোকান বন্ধ করার সময় অনেক খুচরা বিক্রেতা রেফ্রিজারেটর বন্ধ করে রাখেন। এতে হিমায়িত খাদ্যপণ্যের গুণগত মান খারাপ হতে পারে। অনেক অনলাইন শপ হয়তো কুল বক্স ছাড়াই এসব পণ্য ডেলিভারি দেন। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে হবে। আমারা এই জায়গাটাতে নিয়ম মেনে চলি। পণ্যগুলো কুল চেম্বারের ডেলিভারি ভ্যান দিয়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়। সুপারস্টোর ও অনলাইনভিত্তিক শপগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা এসব বিষয় যারা মানতে পারে তাদের পণ্য দিই। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। ফ্রিজ থেকে বের করে এসব খাদ্য বেশিক্ষণ রাখা যাবে না এই বিষয়টা তাদের বুঝতে হবে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রোকন মাহমুদ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা