kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দেশের বাজার ১২০০ কোটি টাকার

বাংলাদেশের রপ্তানি ৫০০ কোটি

এম সায়েম টিপু   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের রপ্তানি ৫০০ কোটি

কর্মব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে হিট অ্যান্ড ইট (গরম করো আর খাও) বা হিমায়িত খাবারের চাহিদা বাড়ছে। বিশ্ববাজারে এর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেরও রপ্তানি বাড়ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিশ্ববাজার দখল করে নিয়েছে। ইপিবির পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী বাঙালি অধ্যুষিত দেশগুলোসহ বিশ্বের প্রায় ৪০টির বেশি দেশে হিমায়িত খাদ্যপণ্যের কদর বাড়ছে। তারা মনে করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হিমায়িত ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদন করা গেলে এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্ববাজারে। প্রশিক্ষিত জনবল, গুরুত্বের সঙ্গে মান তদারকি করা এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হয়রানি বন্ধ করা গেলে আগামী কয়েক বছরে এই আয় দ্বিগুণ করা সম্ভব।

এ ছাড়া সরকারের নীতি সহায়তাসহ দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রান্তিক পর্যায়ে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে একটি উপজেলায় একটি পণ্য উৎপাদন করাসহ গ্রাম পর্যায়ে দ্রুত শিল্পায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮ কোটি ডলার। বা ৪৮২ কোটি ৮৫ লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ টাকার পণ্য। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট রপ্তানি হয়েছে পাঁচ কোটি ৪৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৩৭ ডলার বা ৪৬২ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৫ টাকা। তবে গত এক বছরে আয় কম হয়েছে ১৯ কোটি ৯৭ লাখ আট হাজার ৯৩৫ টাকা, বা ৩.৯৬ শতাংশ ।

যেসব দেশে বাংলাদেশের গরম করো আর খাও পণ্যে রপ্তানি হয়; এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়াসহ ৪০টির বেশি দেশ।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রোপ্রডাক্ট প্রসেস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্বব্যাপী মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের পছন্দের খাবার হয়ে উঠছে হিমায়িত খাবার। জটপট তৈরি এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের হিমায়িত ও কৃষিপণ্যের বাজার প্রতিবছর ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এক হাজার ২০০ কোটি টাকা হলেও আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এটা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, বেকারি ও মসলা এমন কৃষিপণ্যে রপ্তানি করে গত অর্থবছরে ৩৫ কোটি ডলার আয় হয়েছে।

বিশ্ববাজারের হিমায়িত খাদ্যপণ্যে বাজার নিয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ২০১৮ সালে হিমায়িত খাদ্যপণ্যের বিশ্ববাজার ছিল ২৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এই বাজারে বাংলাদেশের অংশ খুব কম হলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং সম্ভাবনাও বেশ। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান এই খাতে বিনিয়োগ করেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা