kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখতে ক্রেতার সচেতনতা জরুরি

নুরুল আলম, মহাব্যবস্থাপক, প্যারাগন অ্যাগ্রো

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখতে ক্রেতার সচেতনতা জরুরি

হিমায়িত খাদ্যপণ্য সরবরাহ, ব্যবহার, ব্যবস্থাপনাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই সচেতনতা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে ক্রেতার সচেতনতাটাই বেশি বলে মনে করেন প্যারাগন অ্যাগ্রোর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নুরুল আলম।

কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘উৎপাদক পর্যায়ে মোটামুটি নিয়ম মেনেই সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্রেতা পর্যায়ে সেই নিয়মগুলো ঠিক না থাকলে পণ্যের গুণগত মান ঠিক থাকবে না। যেমন পণ্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রার মধ্যে রাখা এবং এগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই খেয়ে ফেলা। হিমায়িত খাদ্য আমরা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখি। এগুলো রেফ্রিজারেটর থেকে বের করার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রান্না করতে হয়। সরবরাহের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ফ্রিজার ভ্যান, আইস বক্স ইত্যাদি ব্যবহার করা। অবশ্য প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এটি করে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে হয়তো সুপারশপগুলো থেকে হিমায়িত খাবারের একটি প্যাকেট ট্রলিতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে অন্যান্য পণ্য কিনছেন। এ ক্ষেত্রে বাসায় পৌঁছতে তাঁর এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। ফলে হিমায়িত ওই খাবারের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকে হয়তো রান্না করবেন তিন-চারটা; কিন্তু তিনি ফ্রিজ থেকে বের করছেন ৮-১০টা। ফলে বাকিগুলোর গুণগত মান কিন্তু কমে যাবে। আমরা কভিডের সময়গুলোতে বাসাবাড়িতে পণ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে দেখেছি অনেকের রিসিপশনে পণ্য পড়ে থাকে। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে অনেকেই রেফ্রিজারেটরের টেম্পারেচার বাড়ান-কমান। এতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নিচে নেমে যায় অনেক সময়। ফলে পণ্যের গুণগত মান খারাপ হতে পারে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে ক্রেতার সচেতনতা খুবই প্রয়োজন।’

নুরুল আলম বলেন, ‘আমরা সাধারণত দুই ধরনের হিমায়িত খাদ্যপণ্য তৈরি করি। এক. রেডি টু কুক। অর্থাৎ এগুলো রান্নার জন্য প্রস্তুত। যেমন ডালপুরি, পরোটা, নাগেটস, ফেঞ্চফ্রাই ইত্যাদি। এসব পণ্য সংরক্ষণ ও রান্নার ক্ষেত্রে তাপমাত্রার বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত। দুই. রেডি টু ইট। অর্থাৎ সরাসরি খাওয়ার উপযুক্ত। যেমন ফ্রাইড রাইস, পিত্জা ইত্যাদি। এসব পণ্য সাধারণত রেস্টুরেন্টগুলোতে দিই। কারণ এসব পণ্য যথাযথ উপায়ে উপস্থাপন করা কিছুটা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক কারণে বা ক্রয়ক্ষমতা কম থাকায় এখনো হিমায়িত অনেক খাবারের বাজার সেভাবে বাড়ছে না। যেমন হিমায়িত পরোটার বাজার। প্রতি পিস পরোটার দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা পড়ছে। ক্রেতা চিন্তা করেন, বাসায় তৈরি করলে আরো অনেক কম পড়বে। তবে সার্বিকভাবে হিমায়িত খাদ্যের বাজার বড় হচ্ছে। একসময় আমাদের পণ্য সারিতে ২০টি পণ্য ছিল। এখন ৬০টির মতো হয়েছে। নতুন আরো কয়েকটি পণ্য আসছে। সম্প্রতি বাজারে আসা ‘মম’ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। এখন মাসে আমাদের দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার হিমায়িত খাদ্যের বাজার রয়েছে। এ ছাড়া চিকেনের রয়েছে আরো চার কোটি টাকার ব্যবসা।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রোকন মাহমুদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা