kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নির্ভরতা বাড়ছে কর্মজীবীদের

এ এস এম সাদ   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্ভরতা বাড়ছে কর্মজীবীদের

নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততায় হিমায়িত (ফ্রোজেন) খাবারের চাহিদা আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। শহরে বসবাসরত মানুষের খাদ্যতালিকায় ফ্রোজেন খাবারগুলো জায়গা করে নিচ্ছে। কারণ ধোয়া, কাটা ও পরিষ্কার করা ছাড়াই শুধু তেলে ভেজে ফ্রোজেন খাবারগুলো সরাসরি খাওয়া যায়। বিশেষ করে, পরোটা, নাগেট, চিকেন ফ্রাই, সসেজ, পুরি, শিঙাড়া, সমুচা, পপকর্ন, স্ট্রিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসহ প্রায় সব ধরনের খাবার প্যাকেটজাত করা থাকে। তাই শুধু প্যাকেট থেকে খুলেই ঝটপট ভেজে খেয়ে ফেলা যায়। একদিকে ঝক্কি-ঝামেলা কম, অন্যদিকে পুষ্টি ও আমিষের জোগানও দেয়। ফলে মানুষও দিন দিন ফ্রোজেন খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দেওয়ায় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়ও খাবারগুলো স্থান পাচ্ছে।

শান আহমেদ বেসরকারি কম্পানি ব্র্যাকে চাকরি করেন। দেড় বছর ধরে কাজী ফার্মস থেকে নাগেটসহ অন্যান্য ফ্রোজেন খাবার কিনছেন। শান আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি অফিসে যাওয়ার আগে প্যাকেট থেকে চিকেন নাগেট বেড় করে তেলে ভেজে নিয়ে যান। অফিসের লাঞ্চের জন্য চিকেন নাগেট খাওয়া হয়। এর মান ভালো। আবার আমিষের চাহিদাও পূরণ হয়। আর সব থেকে বড় কথা সময়সাশ্রয়ী।

হিমায়িত খাদ্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার শুরু থেকেই এসব খাবারের বেচাকেনা দ্রুত বেড়ে যায়। মোহাম্মদপুরের মীনা বাজার আউটলেট ইনচার্জ আসফাকুর আমিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ সময় দৈনিক ২০-২৫ হাজার টাকার ফ্রোজেন খাবার বিক্রি হয়। তবে করোনা শুরুর পর মার্চ-মে মাসে বিক্রি ৭০-৮০ শতাংশ বেড়ে যায়। মীনা বাজার ছাড়াও কাজী ফার্মস, আগোরা, স্বপ্নের আউটলেটে ফ্রোজেন খাবারগুলোর চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘ঝটপট ব্র্যান্ডের ফ্রোজেন খাবারের বাজার বাড়ছে ২৫ শতাংশ করে। বর্তমানে ঝটপট ব্র্যান্ডের অধীনে ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে।’ তিনি জানান, দেশে প্রাণসহ ১৯টি কম্পানি স্ন্যাকসজাতীয় হিমায়িত খাবারের ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে স্ন্যাকসজাতীয় হিমায়িত খাদ্যর বাজার ৫০০ কোটি টাকা।

কাজী ফার্মসের কর্মকর্তারা জানান, দুই-তিন বছর ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। কারণ ফ্রোজেন খাবারগুলোয় ঝামেলা কম, সময়সাশ্রয়ী, খুব দ্রুত তৈরি করা যায় আর পুষ্টির মানও ঠিক থাকে। তাই মানুষ ফ্রোজেন খাবারে ঝুঁকছে।

ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের আউটলেটে বেসরকারি ব্যাংকার কাজি রহিমা বেগম এসেছিলেন হিমায়িত খাবার কেনার জন্য। তিনি জানান, চিকেন নাগেট প্যাকেট করা থাকে। ফলে তেলে ভেজেই খেয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, পরিবার ও অতিথি এলে ঝামেলা ছাড়াই তেলে ভেজে পরিবেশন করা যায়। এমনকি চিকেন নাগেট দুপুরে মাংসের বদলে রান্না করে খান।

জানা যায়, দেশে প্রায় ১১৮টি পদের হিমায়িত খাবার পাওয়া যায়। কয়েকটি খাবারের মূল্য ৮০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে। চিকেন নাগেট ২৬০ টাকা, নাগা বার্গার ২২০ টাকা, চিজি ফিশ কেজি ২৩০ টাকা, ফিশ স্টিক ২০০ টাকা, চিকেন মিনি সমুচা ২৫০ টাকা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ১৩০ টাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা