kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা সহজেই

সজীব আহমেদ   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা সহজেই

সেবাগ্রহীতারা যাতে ঘরে বসেই আয়কর জমা দিতে পারেন সে লক্ষ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনলাইনে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর কর অঞ্চল-৬-এ শুরু হয়েছে এ কার্যক্রম। এ বছর শুধু কর অঞ্চল-৬-এর করদাতারা অনলাইনে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। গত ১৫ নভেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অবশ্য এ জন্য ওই কর অঞ্চলের করদাতাদের অনলাইনে নিবন্ধন নিয়ে তারপর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। রিটার্ন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র পাবেন করদাতারা। অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হলে https://ereturn.taxeszone6.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে।

এর আগেও তিন বছর ধরে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পেরেছেন করদাতারা। ভিয়েতনামের এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশনের একটি সফটওয়্যারে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া হতো। ওই কম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত জুনে সেই সুবিধাটি বন্ধ হয়ে যায়।

কিভাবে ই-রিটার্ন ফাইলিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে রির্টান জমা দেবেন সে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

যেকোনো কম্পিউটার থেকে নির্দিষ্ট ব্রাউজারের মাধ্যমে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা যাবে। ব্রাউজারের মাধ্যমে www.taxeszone6.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকলে কর অঞ্চল-৬ ওয়েবসাইট দৃশ্যমান হবে। ই-সার্ভিস মেন্যুর ই-রিটার্ন ফাইলিং সাবমেন্যুতে ক্লিক করলে ইউজার লগইন প্যানেল দৃশ্যমান হবে। ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ইউজার নম্বর এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পর নিচের ক্যাপচা বসিয়ে লগইন করুন। লগইন করার পর একটি এন্ট্রি পেজ পাবেন। পরে আপনি ইউনিভার্সাল সেলফ পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে চাইলে ইউনিভার্সাল সেলফ চেক বক্সে ক্লিক করুন। অথবা আপনি নরমাল পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে চাইলে নরমালের চেক বক্সে ক্লিক করুন। আপনি ব্যক্তি করদাতা হলে ড্রপ-ডাউন মেন্যু থেকে ইন্ডিভিজ্যুয়াল সিলেক্ট করুন। আপনি ফার্ম করদাতা হলে ফার্ম সিলেক্ট করুন।

এখন আপনি সাবধানতার সঙ্গে ড্রপ-ডাউন মেন্যু থেকে আপনার সার্কেল নির্বাচন করুন এবং আপনার করবর্ষ নির্বাচন করুন। আপনার আয় যদি চার লাখ টাকা পর্যন্ত হয় এবং সম্পদ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়, তবে আইটি-জিএইচএ২০২০ (এক পাতা) রিটার্ন ফরমটি নির্বাচন করুন অন্যথায় আইটি-১১জিএ (৮ পাতা) রিটার্ন ফরমটি নির্বাচন করুন। এরপর ক্লিক টু নেক্সট স্টেপ ক্লিক করে লগইন করার পর এন্ট্রি পেজ প্রদর্শিত হবে। এখানে বেশির ভাগ তথ্যই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া থাকবে। ১০ নম্বর ক্রমিকে নিয়োগকর্তার নাম বা ব্যবসা (যেখানে যা প্রযোজ্য) লেখা যাবে। আপনি ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকলে ১৬ নম্বর ক্রমিকে আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা নতুন করে উল্লেখ করুন। পরে মোবাইল নম্বর দেন এবং আপনার ছবি আপলোড করুন। এরপর ক্লিক টু নেক্সট স্টেপ ক্লিক করার পর একটি পেজ প্রদর্শিত হবে। আপনার বিভিন্ন আয়ের ক্ষেত্রে ক্রমিক নির্দেশিত নির্দিষ্ট ঘরে যেতে হবে। পয়েন্টার নির্দেশিত ঘরে খাতসমূহের উপখাত দেওয়া আছে। করদাতাগণ তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নির্দিষ্ট ঘরে উল্লেখ করবেন। ১ নম্বর ক্রমের বেতনাদি খাতের চিহ্নিত ঘরে ক্লিক করলে প্রয়োজনীয় উপখাতসমূহের একটি স্ক্রিন আসবে। করদাতাগণ তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নির্দিষ্ট ঘরে উল্লেখ করবেন। এখানে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সন্নিবেশিত করলে করযোগ্য আয় এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরূপিত হবে। এভাবে সবকটি ক্রমিকে তথ্যাদি উল্লেখ করতে হবে। এরপর ক্লিক টু নেক্সট স্টেপ ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণকৃত একটি স্ক্রিন আসবে। এরপর আবার ক্লিক টু নেক্সট স্টেপ ক্লিক করলে আরেকটি স্ক্রিন আসবে, যা পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী বা আইটি ১০বি নামে পরিচিত।

এরপর ক্রমিক নম্বর ১-এর ‘ক’তে করদাতা ব্যবসার পুঁজি, ক্রমিক নম্বর ১-এর ‘খ’তে পরিচালক হিসেবে লিমিটেড কম্পানিতে শেয়ার বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি উল্লেখ করবেন। ক্রমিক নম্বর ২-এ অকৃষি সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্যাদি (প্লট, ফ্ল্যাট) উল্লেখ করবেন। একের অধিক অকৃষি সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্যাদির ক্ষেত্রে একটির বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করার পর করদাতাগণ অ্যাড মোর বাটনে ক্লিক করে দ্বিতীয়, তৃতীয় অকৃষি সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্যাদি উল্লেখ করবেন। রিমুভ বাটনে ক্লিক করে যেকোনো একটি ক্রমিকের তথ্যাদি সম্পূর্ণরূপে মুছতেও পারবেন। সব ক্রমিকে সম্পর্কিত তথ্যাদি উল্লেখ করবেন।

এ ছাড়া নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি এবং ই-রিটার্ন ফাইলিং সফটওয়্যার ব্যবহারের নিয়মগুলো বিস্তারিতভাবে পাবেন www.taxeszone6.gov.bd ওয়েবসাইটে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা কার্যক্রম নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘টিআইএনধারীদের কাছে টাকা দেওয়াটা কষ্টের বিষয় নয়। কিন্তু জমা দেওয়াতে যত সমস্যা। এই সমস্যাটা দূর করতে আমরা সরাসরি অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দিতে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছি। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ঢাকা কর অঞ্চল-৬-এর টিআইএনধারী করদাতারা সরাসরি অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে ঘরে বসে রিটার্ন জমা দিতে বড় ভূমিকা রাখবে এই কার্যক্রম। অনলাইনে রিটার্ন সাবমিশনের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলাম। আমরা এটাকেই ডেভেলপ করব। আগামী বছর থেকে দেশের সব কর অঞ্চলের করদাতারা অনলাইন সেবা পাবেন।’

মন্তব্য