kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

মিনি মেলার আদলে সেবা দেওয়া হচ্ছে কর অঞ্চলে

মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, কর কমিশনার (অঞ্চল-৬)

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিনি মেলার আদলে সেবা দেওয়া হচ্ছে কর অঞ্চলে

করোনাভাইরাসের কারণে আমরা এ বছর আয়কর মেলার আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু এ পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে আমরা প্রতিটি কর অঞ্চলেই মিনি মেলার আয়োজন করে রিটার্ন গ্রহণ করছি। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথা জানান কর কমিশনার (কর অঞ্চল-৬) মোহাম্মদ জাহিদ হাসান।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের করদাতার সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। এর মধ্যে গত বছর রিটার্ন জমা হয়েছিল প্রায় ২২ লাখ। আমরা আশা করছি, এ বছর রিটার্নের সংখ্যা আরো বাড়বে। কারণ এ বছর সব রিটার্ন দাতাদের কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা করায় রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়বে।’

মোহাম্মদ জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের মোট ৩১টি কর অঞ্চল রয়েছে। প্রতিটি কর অঞ্চলে মিনি মেলার আদলে আমরা সব করদাতাকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করার জন্য শুধু কর অঞ্চল-৬-কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কর অঞ্চল-৬-এ মোট করদাতা এক লাখ ৩৫ হাজার। গত বছর প্রায় ৮৬ হাজার রিটান দাখিল করেছিল। এ বছর আমরা আশা করছি, রিটার্ন দাখিলের সংখ্যাটি এক লাখের বেশি হবে, কিন্তু কভিড পরিস্থিতির কারণে এ বিপুলসংখ্যক করদাতাকে অফিসে এনে মেলার আয়োজন করে সেবা দেওয়া খুব দুরূহ বিষয়। তাদের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় নিয়ে কর অঞ্চল-৬ করদাতাদের জন্য একটি অনলাইন রিটার্ন দাখিল সফটওয়্যার ডেভেলপ করেছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গত ১৫ নভেম্বর থেকে অনলাইন সফটওয়্যারটি আমাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এ কর অঞ্চলের এক লাখ ৩৫ হাজার করদাতা এ সুযোগটি নিতে পারবে এবং দেশের বাইরে বসেও ৬৯ দেশ থেকে করদাতারা রিটার্ন জমা দিতে পারছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে করদাতাদের রিটার্ন আমরা পেয়েছি। এ সিস্টেমের মাধ্যমে করদাতারা তাদের প্রদেয় কর ই-পেমেন্ট পদ্ধতির আওতায় পরিশোধ করতে পারছে। এ ছাড়া যদি কোনো করদাতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অফিসে না এসেও অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করে এক মাসের সময় নিতে পারবে।’

অনেকে একের অধিক রিটার্ন নিয়ে আসে তাদের সুবিধার জন্য দুই ধরনের সার্ভিস রেখেছি। যারা এক থেকে চারটি রিটার্ন নিয়ে আসে তারা সরাসরি বুথে দিচ্ছে। আর যারা চারটির অধিক রিটার্ন নিয়ে আসে তাদেরকে আমরা আলাদা একটি ল্যাবে সাপোর্ট দিচ্ছি। অনলাইনে রিটার্ন জমার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যাদের চার লাখ টাকার নিচে আয় এবং ৪০ লাখ টাকার নিচে নিজ সম্পদ তাদের একটি রিটার্ন আছে। তাদের শুধু একটি ফরমে তিনটি ফিল্ড পূরণ করলেই তার রিটার্ন চলে যাবে। যাদের একটি রিটার্ন রয়েছে তারা শুধু মোট আয়, সম্পদ ও ট্যাক্সের বিবরণীর তিনটি ফিল্ড পূরণ করলেই হয়ে যাবে। রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে এর চেয়ে সহজ আর হতে পারে না। যাদের আয় চার লাখ টাকার বেশি, নিজ সম্পদ ৪০ লাখের বেশি তাদের জন্য আমাদের প্রচলিত আট পাতার রিটার্ন যে আছে, সে আট পাতার রিটার্নটি আমাদের অনলাইন সফটওয়্যারে ডেভেলপ করেছি। আগে যেভাবে তিনি পূরণ করতেন, এখনো ঠিক সেভাবেই পূরণ করবেন। এখানে নতুন কোনো জটিলতা নেই। ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর স্কিনে প্রিন্ট কপিটা চলে আসবে। পরে তিনি এটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবে।’

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজীব আহমেদ

মন্তব্য