kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রামে আয়করে মহামারির ধাক্কা

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে আয়করে মহামারির ধাক্কা

কভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা লেগেছে দেশের আয়কর আদায়েও। প্রতিবছর আয়কর আদায় করতে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে ‘কর মেলা’ আয়োজন করে চট্টগ্রাম কর বিভাগ। সেই মেলা থেকে গত বছরও আয় হয়েছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু এবার কভিডের কারণে সব এলোমেলো; ঘটা করে আয়কর মেলা আয়োজন বন্ধ। তাই রাজস্ব আদায়ে কভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে ছোট্ট পরিসরে কর বিভাগের নিজস্ব অফিসের নিচে চলছে কর সেবা ও আদায় কার্যক্রম। নভেম্বরের শুরু থেকে চলা এই মেলায় বিপুল করদাতার সাড়া মিলছে। তবে সেই সাড়ায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

চট্টগ্রাম শহরে ছোট্ট পরিসরে মেলার আয়োজন চললেও জেলা পর্যায়ে এই ধরনের আয়োজন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আয়করদাতারা। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলায় এই ধরনের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে; কারণ কক্সবাজার জেলা ঘিরে বিপুল এনজিও কর্মরত আছে; জেলা ঘিরে বিপুল দেশি-বিদেশি কাজ করছেন; কর্মরত আছেন পর্যটন খাতের বিপুল উদ্যোক্তাও। ফলে তাঁরা সহজেই রিটার্ন জমা এবং প্রাপ্তি স্বীকার করতে পারছেন না। এক কর কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্তও আশা করেছিলাম অন্তত দুই-তিন দিন জেলায় মেলার মতো ছোট্ট পরিসরে আয়োজন হবে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় আমরা হতাশ। অন্য জেলার চেয়ে কক্সবাজার জেলার আয়করদাতার বৈশিষ্ট্য পৃথক ও কর জমাও পড়ে বেশি।’

একটি বেসরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামান বলেন, ‘আয়কর জমা দিতে মেলার গুরুত্ব কতটা বেশি গত কয়েক বছর সেটা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও এবার হাঁড়ে হাঁড়ে বুঝতে পেরেছি। কারণ কর বিভাগে গেলে কখনোই মেলার সেবা পাওয়া যায় না। এবার উপজেলা পর্যায়ে কর মেলা না থাকায় সত্যিই আমরা বিপাকে পড়েছি। কর বিভাগ বলছে, প্রতিবছর কর মেলার মতো রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না ঠিকই, কিন্তু করদাতারা তো সেবা পাবেন। আর কভিড পরিস্থিতিতে আমরা সীমিত পরিসরে শুধু বিভাগীয় পর্যায়ে মেলার মতো আয়োজন করেছিলাম। এটা জেলা পর্যায়ে আয়োজনের কোনো নির্দেশনা না থাকায় আমাদের করার কিছু ছিল না।’

এদিকে চট্টগ্রাম কর বিভাগ আগ্রাবাদের কর অফিসের নিচে নভেম্বরের শুরু থেকে ছোট্ট পরিসরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কর সেবা দিচ্ছে। সেখানে জমজমাট না হলেও ভালোই মিলছে সাড়া।

কর জমা দিতে আসা ব্যাংকার জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘নিজের আয়কর রিটার্ন নিজে তৈরি করি এবং নিজেই জমা দিই, কিন্তু ফরম পূরণ করতে গিয়ে কিছু আইনগত বিষয় তৈরি হয়। সেটি কর মেলায় গিয়ে জেনে ফরম পূরণ করি। মনে করেছিলাম এবার সেই সুযোগটি থাকবে না। কিন্তু আগ্রাবাদে কর বিভাগের মেলার ছোট্ট পরিসরে গিয়েও আমি সেই সেবা পেয়েছি এবং রিটার্ন জমা দিয়েছি সহজেই।’

কর বিভাগ বলছে, ২০১০ সালে প্রথম কর মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ শুরু হয়। প্রথম দিকে এই উদ্যোগে খুব ভালো সাড়া না পেলেও পরবর্তী সময়ে সেটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে আয়কর মেলায় আহরণ হয় ৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৯ সালের মেলায় সেটি দাঁড়ায় ৫৭০ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা প্রায় ১৪ গুণ।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৪ অতিরিক্ত কমিশনার মাহমুদুর রহমান বলেন, আয়কর মেলার মূল উদ্দেশ্য আয়কর সংগ্রহ নয় বরং মানুষকে কর দিতে উৎসাহিত করাই আয়কর মেলার প্রধান উদ্দেশ্য। অন্য বছর মেলার জন্য একটি লক্ষ্যমাত্রা ধরে কাজ করলেও এবার তেমন কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই। চারটি কর অঞ্চলের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কতটা পূরণ হবে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, এখনো বলা যাচ্ছে না, কারণ প্রতিটি কর অঞ্চলের নির্ধারিত কিছু লক্ষ্যমাত্রা আছে। সেই অনুযায়ী তারা কাজ করছে। তবে রাজস্ব আয়ে কভিডের প্রভাব তো আছেই; এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

কর বিভাগের হিসাবে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা মিলিয়ে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কর আদায় হয়েছে ১১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। এর আগের বছর কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১১২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে এই প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশের বেশি।

মন্তব্য