kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাজস্ব সংকট কাটাতে অনেক দেশের কৌশল

বিশ্বে ধনীদের আয়ে কর বাড়ছে

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বে ধনীদের আয়ে কর বাড়ছে

করোনা মহামারিতে লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চাকরি হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। এতে দেশে দেশে স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ার বিপরীতে কমেছে রাজস্ব আয়। ফলে রাজস্ব সংকট কাটাতে একেক দেশ একেক কৌশল কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে এ সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশেই উচ্চবিত্তদের ওপর কর বাড়ানোর দাবি উঠেছে। জনগণের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে উচ্চবিত্তদের ওপর আয়কর বাড়ানোর পথে হাটছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে এখন রাশিয়া। গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উচ্চ আয়ের মানুষদের আয়কর বাড়ানোর একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আইন অনুযায়ী, উচ্চ আয়কারীদের কর হার ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১৫ শতাংশ। যারা বার্ষিক ৫০ লাখ রুবলের (৬৫ হাজার ৮০০ ডলার) বেশি আয় করে, আগামী বছর থেকে তাদের নতুন হার অনুযায়ী আয়কর পরিশোধ করতে হবে। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অতিরিক্ত যোগ হবে ৬০ বিলিয়ন রুবল (রাশিয়ার মুদ্রা)। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, অতিরিক্ত এ অর্থ কঠিন ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ উচ্চ আয়ের মানুষদের ওপর ব্যক্তিগত আয়কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইন্দোনেশিয়া রাজস্ব ঘাটতি কাটাতে প্লাস্টিক ও উচ্চ কার্বন নির্গমন গাড়ির ওপর কর বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যক্তি আয়কর নেওয়া হয় না, কিন্তু করোনায় রাজস্ব সংকটে ভোগা এ দেশগুলোও এখন আয়কর আরোপের পথে হাঁটছে। এরই মধ্যে ওমান ঘোষণা দিয়েছে, উচ্চ আয়কারীদের ওপর আগামী ২০২২ সাল থেকে তারা আয়কর বসাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২০-২৪ অর্থবছরের পরিকল্পনা প্রকাশকালে এ তথ্য জানায়।

ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যেও। নিউ ইয়র্কের গভর্নর অন্দ্রো কুওমো গত সপ্তাহে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সহায়তা যদি না আসে তবে আমরা সম্পদশালীদের ওপর আয়কর বাড়াতে বাধ্য হব। একই পথে হাঁটছে ক্যালিফোর্নিয়াও। আরিজোনাতে ভোটাররা উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে। এতে যারা বার্ষিক আড়াই লাখ ডলার আয় করে তাদের আয়কর ৪.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ হবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্পদশালীদের ওপর কর বাড়াতে পারেন, এমন আলোচনাও চলছে। এরই মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ঘোষণা দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যে কর কমিয়েছেন, তা বাতিল করবে জো বাইডেন প্রশাসন। একই সঙ্গে সম্পদশালী ব্যক্তিদেরও এ সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি জানান, দেশের কর্মজীবী মানুষ ও তাদের পরিবারকে ঘিরেই একটি শক্তিশালী অর্থনীতি দাঁড় করানো হবে।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত মূলত তিন ধরনের কর রয়েছে, যা ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় সরকার কর। ফেডারেল এবং রাষ্ট্রীয় করগুলো সম্পূর্ণ পৃথক এবং প্রত্যেকের কর চার্জের নিজস্ব কর্তৃত্ব রয়েছে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব করব্যবস্থা রয়েছে, যা অন্যান্য রাজ্য থেকে পৃথক। এই করগুলো বিভিন্ন ধরনের আয়, বেতন, বিক্রয়, সম্পত্তি, লভ্যাংশ, আমদানি এবং সম্পদ পাশাপাশি বিভিন্ন ফিতে প্রয়োগ করা হয়। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স, স্পেকট্রামলোকাল নিউজ।

মন্তব্য