kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

টেলিভিশনশিল্প এগিয়ে নিতে নীতিমালা প্রয়োজন

জে একরাম হোসেন, এমডি, র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস

রোকন মাহমুদ   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টেলিভিশনশিল্প এগিয়ে নিতে নীতিমালা প্রয়োজন

মোবাইল, ট্যাব ও ল্যাপটপের মতো প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার বাড়লেও টেলিভিশনের আবেদন কখনো শেষ হবে না। এ খাতের উৎপাদন ও বিক্রি কমবে না কখনোই বরং বাড়বে বলে মনে করছেন র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জে একরাম হোসেন। তবে টেলিভিশনশিল্পকে আরো এগিয়ে নিতে একটা নীতিমালা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া নকল টিভি আমদানি ও উৎপাদনের কারণে এ খাতের বাজার হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান। রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ে কালের কণ্ঠর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি এবং এসবের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এতে মনে হতে পারে মানুষ টেলিভিশনের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয় বরং বাড়ছে। আগে হয়তো বাসাবাড়িতে একটি টিভি থাকত, এখন একাধিক থাকে। ভবিষ্যতে একই বাড়িতে বিভিন্ন কাজে প্রতিটি ঘরেই টিভি থাকবে। এ ছাড়া ঘরের বাইরে রাস্তাঘাটে, সচেতনতা বাড়াতে, বিজ্ঞাপন প্রচারে, অফিসে, যানবাহনে টিভির ব্যবহার আরো বাড়বে। ফলে এ খাতের প্রবৃদ্ধি হবেই। তবে ফিচারে পরিবর্তন হবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট হবে, গ্রাহকের রুচি ও চাহিদা অনুসারে সংযোজন-বিয়োজন হবে।

করোনার কারণে অন্যান্য অনেক খাতেই বিক্রি কমেছে, কিন্তু আমাদের টেলিভিশন বিক্রির পরিমাণ গত বছরের মতোই হচ্ছে। মার্চের পর থেকে জুন পর্যন্ত শোরুমগুলো বন্ধ ছিল, এই চার মাসে বিক্রি একেবারেই ছিল না। তার পরও এ বছর আমাদের বিক্রি গত বছরের সমান হবে বলে আশা করছি। বছরে আমাদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়।

এখন আমরা সরাসরি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনেও বিক্রি করছি। এ খাতে বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমাদের মোট বিক্রির ৩০ শতাংশই এখন অনলাইনে হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেড (আরইএল) প্রাইভেট লিমিটেড হিসেবে ব্যবসা শুরু করে। দুই বছর পর ১৯৮৬ সালে টিভির বাজারে যাত্র শুরু করে সনির ১২ ইঞ্চি সাদাকালো টিভি দিয়ে। টিভির ক্ষেত্রে রঙিন দুনিয়া শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। সেই সময় সনি ট্রিনিটন কালার কেডি২১১৪জি নামের মডেলের টিভি দেশের বাজারে নিয়ে আসা হয়।

কম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশে বছরে মোট টিভি বিক্রির পরিমাণ ১৫ লাখের মতো। যার আর্থিক মূল্য তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা। আমরা গত বছর সনি র‍্যাংগসের টিভি বিক্রি করেছি দুই লাখের বেশি। সে হিসেবে বাজারে আমাদের অংশ প্রায় ১৫ শতাংশ। ধীরে ধীরে চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে আরো বাড়ানো হচ্ছে। র‍্যাংগসের এখন একটি এসেম্বলিং কারখানা রয়েছে। সেখানে প্রতিবছর এক শিফটে এক লাখ ৮০ হাজার ইউনিট উৎপাদন ক্যাপাসিটি রয়েছে। উৎপাদন করা যাবে দুই শিফট। কারখানায় প্রতিমাসে উৎপাদন হচ্ছে ১২ হাজার বা বছরে এক লাখ ৪৪ হাজার ইউনিট। সিলেটে আমাদের ৩০ একর জমি রয়েছে। সেখানে আরো একটি কারখানা করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

বাজারে আমাদের ১৫টি মডেলের টিভি রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আমরা চেষ্টা করি স্বল্পমূল্যে টিভি বাজারে আনতে। এখনো ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় আমাদের টিভি পাওয়া যায়। তবে পণ্যের মান এবং গ্রাহকসেবায় আমরাই এগিয়ে রয়েছি। কারণ টিভি উৎপাদনে আমাদের বিশেষজ্ঞতা রয়েছে। আপনারা জানেন, টিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তিতে জাপানের সনি সব সময় বিশ্বব্যাপী পরিচিত। সনি শুরু থেকেই আমাদের টিভি উৎপাদনে সহযোগিতা করেছে। তারা তাদের আধুনিক প্রযুক্তিগুলো আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেগুলো আমরা কাজে লাগিয়েছি। তবে তাদের মতো টেকনোলজি ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এটার মূল কারণ আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা বা ক্রয়ক্ষমতা। সনি টিভি তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য। ফলে মানে যতটা উন্নত দামেও ততটাই। আর আমাদের বাজারে বেশি চলে কিছুটা কম মূল্যের টিভি।

গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে বিক্রয়োত্তর সেবা বড় একটি বিষয়। সে জায়গায় আমরা আগে থেকেই জোর দিয়েছি। বিক্রির পর দীর্ঘ সময়ের ওয়ারেন্টি সুবিধার পাশাপাশি পণ্যের কোনো সমস্যা হলে বাসায় গিয়ে তার সমাধান দেওয়া হয়। প্রয়োজনে সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সারা দেশে আমাদের প্রায় ৪৫০টি অনুমোদিত ডিলার এবং ৭০টি সার্ভিস সেন্টার, ৭৮টি শোরুম এবং ৩৭৫টি ভ্রাম্যমাণ সার্ভিস সেন্টার রয়েছে।

এ ছাড়া উৎপাদনের সময়ও পণ্যের মান নিশ্চিত করা হয়। পার্সগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথার্থতা যাচাই করা হয়, ফিটিংয়ের পর তা বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

আমরা মাঝেমধ্যেই এক্সচেঞ্জ অফারের মাধ্যমে গ্রাহককে পুরনো টিভির পরিবর্তে নতুন টিভি কেনার সুযোগ দিই। এর আগে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে টানা দুই বছর এ কর্মসূচি চালানো হয়েছিল। তখন ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলাম। এর মাধ্যমে বাজার থেবে ক্ষতিকর সব টিভি তুলে নেওয়া হয়েছে।

তাঁর মতে, দেশের টেলিভিশনের বাজারে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটিই রয়েছে। সম্ভাবনা হলো দেশের ইলেকট্রনিকসের বাজার আরো অনেক বড় হবে। অনেক সুযোগ রয়েছে এ খাতে। তবে এর জন্য কিছু পলিসি সাপোর্ট দিতে হবে। দেশে মোটরসাইকেলশিল্পের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এভাবে ইলেকট্রনিকস বা টিভিশিল্পের জন্যও একটি নীতি করা দরকার। এতে দেশীয় শিল্প আরো শক্তিশালী হবে। আধুনিক টেকনোলজিগুলো আসবে, কর্মীদের দক্ষতাও বাড়বে।

একসময় সাদাকালো টিভির যুগ থেকে এখন আধুনিক স্মার্ট টিভি বাজারে এসেছে। অ্যানড্রয়েড সুবিধাযুক্ত এসব টিভি আরো আপডেট ভার্সন আসবে। তখন হয়তো মোবাইলের মাধ্যমে চালানো যাবে। কিংবা মোবাইলের রিফলেকশন হিসেবে চালানো যাবে। চ্যালেঞ্জের জায়গাটা হলো, নকল টিভি বাজারে ব্যাপক বেড়ে যাওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা