kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

টিভির বাজারে ব্যাপক ছাড়

এ এস এম সাদ   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টিভির বাজারে ব্যাপক ছাড়

ছবি : কালের কণ্ঠ

স্মার্ট টিভির শখ অনেকেরই। কিন্তু সাধ্য নেই অনেকের। তবে এবার হয়তো সাধ পূরণের সময় এসে গেছে। কারণ করোনাকালে টিভির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। দেওয়া হচ্ছে বড়সড় মূল্য ছাড়। ইলেকট্রনিকস শোরুমগুলোতে অন্যান্য সময় উৎসব কিংবা পার্বণে টিভির দামে ১০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দেখা গেলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

মোহাম্মদপুরের সিঙ্গার ইলেকট্রনিকস শোরুমে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আছে নানা রকমের স্মার্ট ও অ্যানড্রয়েড টিভি। এগুলোতে এলইডি ভয়েস কন্ট্রোল ও ফোরকে রেজল্যুশন যুক্ত করা হয়েছে। সিঙ্গার মেগার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার শাখাওয়াত আলম বলেন, ভয়েস কন্ট্রোলের সুবিধা হচ্ছে হাতের বদলে আপনি মুখ দিয়ে যা বলবেন তাই টিভিতে চলে আসবে। আপনাকে আর কষ্ট করে রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করতে হবে না। বাংলা কিংবা ইংরেজি যে ভাষা ব্যবহার করেন না কেন সেটাই অটোমেটিক চলে আসবে। এ ছাড়া ফোরকে রেজল্যুশন থাকায় টিভির ডিসপ্লে পরিষ্কার ও বাস্তব মনে হয়। তিনি আরো বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত পুরো দেশে ১৮০ কোটি ৫৩ লাখেরও বেশি টিভি বিক্রি হয়েছে। সিঙ্গার ব্র্যান্ডের ৪৩ ইঞ্চির এই অ্যানড্রয়েড টিভির দাম ৫০ হাজার হলেও ১৩ শতাংশ ছাড়ে পাওয়া যাবে ৪৩ হাজার টাকায়। এই ছাড় সিঙ্গারের সব ধরনের টিভির জন্য দেওয়া হচ্ছে।

একটা সময় শুধু এলইডি টিভি ছিল। যেখানে শুধু পেনড্রাইভ ব্যবহার করা হতো। এরপর বাজারে আসে স্মার্ট টিভি যেখানে ইউএসবি ড্রাইভ ও ইউটিউব ব্যবহারের সুবিধা ছিল। পরবর্তী সময়ে আরো আধুনিক টিভি হিসেবে বাজারে আসে অ্যানড্রয়েড স্মার্ট টিভি। এখানে ২ জিবি ও ১৬ জিবি করে স্টোরেজ থাকায় গুগল প্লেস্টোর থেকে প্রয়োজনীয় অ্যাপস ব্যবহার করা যায়। ফলে বর্তমানে নেটফ্লিক্সও দেখা যায় অ্যানড্রয়েড টিভিতে।

মোহাম্মদপুরের সনি ইলেকট্রনিক শোরুমের ম্যানেজার তমাল আহমেদ বলেন, করোনার পর থেকে টিভি বিক্রি বেড়ে গেছে। আগে মাসে ৪০-৫০টি টিভি বিক্রি হলেও গত তিন মাসে বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০টি। আর সর্বশেষ এই অ্যানড্রয়েড স্মার্ট টিভিতে যুক্ত করা হয়েছে ফোরকে রেজল্যুশন ও ভয়েস কন্ট্রোল।

আবার করোনার পরে অনেকের হাতেও টাকা নেই। তাই দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটনে ছয় মাসের কিস্তিতে কেনা যাবে অ্যানড্রয়েড স্মার্ট টিভি। কারওয়ান বাজারের ওয়ালটন শোরুমের ম্যানেজার শফিক আহমেদ জানান, ক্রেতা কেনার সময় ১০ হাজার টাকায় একটা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিস্তিতে টিভি নিতে পারবেন ওয়ালটন টিভি। এরপর কিস্তির বাকি টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অন্যান্য বিদেশি বাজারের থেকে দেশীয় ব্র্যান্ডের শো রুমগুলোয় কেনাবেচার পরিমাণ বেড়েছে। সাধারণত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে ওয়ালটন, ভিশন, মিনিস্টার, মার্সেলসহ নানা রকমের দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। ২০১২ সাল থেকে ওয়ালটন আর ২০১৫ সাল থেকে মিনিস্টার স্মার্ট টিভি সংযোজন শুরু করে।

টেলিভিশন আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টিভিসেটের চাহিদা রয়েছে। তবে এর বাইরেও (গ্রে মার্কেট) অনেক পণ্য বিক্রি হয়। কারওয়ান বাজার ভিশন ব্র্যান্ডের দোকানে বাস ড্রাইভার সেলিম হোসেন টিভি কিনতে এসে জানান, কম দামে বেশি ফিচারবিশিষ্ট টিভির জন্য ভিশন টিভিই ভালো। ভিশনের একটি এলইডি টিভির দাম আট হাজার থেকে শুরু হয়। তাই এটি তার সাধ্যের মধ্যে।

এভাবেই নিজস্ব ব্র্যান্ডগুলো ভূমিকা রাখছে দেশীয় বাজারে। ফলে দেশেই তৈরি করা হয়েছে কারখানা। এতে দেশের টাকা দেশেই থাকছে, অন্যদিকে এই ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে নিয়োজিত কর্মীদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। টিভির বাজারের ৪০ শতাংশ বাজার দখল করেছে দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন। মিনিস্টারের বাজারও বাড়ছে।

ওয়ালটন ও মিনিস্টার কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশে দ্রুতগতিতে স্মার্ট টিভির চাহিদা বাড়ছে। টিভির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কোরিয়া, চীন, তাইওয়ানসহ বিশ্বের সাতটি দেশ থেকে আনা হয়। কিছু যন্ত্রাংশ দেশের কারখানায় তৈরি হয়। এরপর দেশেই সংযোজন করা হয় এসব টিভি। দেশে সংযোজন করার ফলে এসব টিভি দামে সাশ্রয়ী হয়। ওয়ালটন তাই ২৩ হাজার ৮০০ টাকায় গ্রাহকদের দিচ্ছে অ্যানড্রয়েড ৭ অপারেটিং সিস্টেমের ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি।

মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড মিডিয়া কে এম জি কিবরিয়া বলেন, ২০১৫ সাল থেকে স্মার্ট টিভি সংযোজন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এবং গাজীপুরে দুটি কারখানা রয়েছে। সেখানে পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করছেন। দেশীয় ব্র্যান্ডের সুবিধা হচ্ছে ইঞ্চি ভেদে আট হাজার দিয়ে শুরু হয়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে। অন্যদিকে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্মার্ট টিভির দাম শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে। ফলে দাম বেশি হলেও বিদেশি ব্র্যান্ডের ক্রেতা বাজারে অনেক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা