kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

স্মার্টফোনের যুগেও বাজার ধরে রেখেছে টিভি

বাণিজ্য ডেস্ক   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্মার্টফোনের যুগেও বাজার ধরে রেখেছে টিভি

বিশ্বজুড়ে মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। সহজলভ্য ইন্টারনেটসেবাও। ফলে স্মার্টফোনেই পত্রপত্রিকার সব খবরাখবর পড়া থেকে শুরু করে টিভি দেখা বা গেম খেলার সুবিধা পাওয়া যায়। অর্থাৎ বাসায় বাড়তি টিভি রাখার ঝামেলা থেকে মুক্ত হওয়া যায় স্মার্টফোনের কল্যাণেই। ফলে স্মার্টফোনের বিপরীতে টিভির বাজার ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের মধ্য দিয়ে সে লড়াইয়ে উতরে উঠতে অনেকটাই সফল হয়েছে কম্পানিগুলো। প্রতিটি বাসায়ই এখন শোভা পাচ্ছে অত্যাধুনিক স্মার্ট টিভি, যা একজন গ্রাহককে টিভি দেখার পাশাপাশি ইন্টারনেট ও নানা সুবিধা দিচ্ছে।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও বিশ্ববাজারে টিভি সরবরাহ হয়েছে রেকর্ডসংখ্যক। ট্রেন্ডফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বে ৬২.০৫ মিলিয়ন ইউনিট টিভি সরবরাহ করে কম্পানিগুলো; যা এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে ১২.৯ শতাংশ বেশি এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকের চেয়ে ৩৮.৮ শতাংশ বেশি। টিভির বাজারের দুই বৃহৎ কম্পানি স্যামসাং ও এলজি জানায়, তারা আশা করছে এ প্রান্তিকে মুনাফা বাড়বে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে।

তবে ট্রেন্ডফোর্স জানায়, টিভি বিক্রি ইতিহাসে সর্বোচ্চ হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ ভূমিকা রেখেছে। করোনার কারণে মানুষ ঘরে থাকায় উত্তর আমেরিকায় টিভি বিক্রি বেড়েছে ২০ শতাংশ। এ ছাড়া বছরের প্রথম ভাগে টিভি সরবরাহ কম হওয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে আবার বেড়েছে। ২০২০ সালে বৈশ্বিক টিভির বাজার দাঁড়িয়েছে ৩১৫.৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৭ সাল নাগাদ এই বাজার হবে ৪৭১.২ বিলিয়ন ডলার। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি আসবে ৫.৯ শতাংশ হারে। এ ছাড়া ২০১৯ সালের হিসাবে বৈশ্বিক স্মার্ট টিভির বাজার ১৮৩.৬ বিলিয়ন ডলার।

টিভি উৎপাদনকরী শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের বিক্রি বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে টিসিএলের টিভি সরবরাহ বেড়েছে এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৫২.৭ শতাংশ। স্যামসাংয়ের এক বছর আগের এ সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৩৬.৪ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকের চেয়ে সরবরাহ বেড়েছে ৬৭.১ শতাংশ। এলজির ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের চেয়ে বেড়েছে ৬.৭ শতাংশ।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও বিক্রির দিক থেকে টিভির বাজারের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ও এলজি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া জানায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে বিশ্বের টিভির বাজারের ৩১.৩ শতাংশ ছিল স্যামসাংয়ের, ১৭ শতাংশ এলজির। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বছরের চতুর্থ প্রন্তিকে বিশ্ববাজারে টিভি সরবরাহ হবে ৬৬.৪৩ মিলিয়ন ইউনিট। যদিও এর আগের বছরের একই সময়ে সরবরাহ হয় ৬৮.৬১ মিলিয়ন ইউনিট।

ওমডিয়ার পূর্বভাসে বলা হয়েছিল, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের নেতৃত্বে বৈশ্বিক কিউএলইডি টিভি বিক্রি বেড়ে হবে ২.৪৪ মিলিয়ন ইউনিট, যা এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে ৮৩.৯ শতাংশ বেশি। এর পাশাপাশি এলজির নেতৃত্বে বৈশ্বিক ওএলইডি টিভি বিক্রি বেড়ে হবে ৯ লাখ চার হাজার, যা এক বছর আগের এই সময়ের চেয়ে ৩৫.৭ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে ই-মার্কেটারের এক জরিপে দেখা যায়, ২০১৯ সালে আমেরিকানরা মোবাইল ফোন ডিভাইসে গড়ে ব্যয় করেছে তিন ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। এর বিপরীতে টিভি দেখায় ব্যয় করেছে তিন ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। অথচ এর এক বছর আগে গ্রাহকরা তিন ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ব্যয় করেছে মোবাইল ডিভাইসে এবং টিভি দেখায় ব্যয় করেছে তিন ঘণ্টা ৪৪ মিনিট। অর্থাৎ মানুষ ক্রমেই টিভি থেকে স্মার্টফোনে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের বছরগুলোতে টিভির চেয়ে মোবাইল ফোনে মানুষ আরো বেশি সময় ব্যয় করবে, যা টিভির জন্য অশনিসংকেত। এর পরও বাজার ধরে রাখা যাবে, যদি উদ্ভাবনের পাশাপাশি নতুন নতুন ফিচার যোগ করা যায়। সূত্র : দ্য ভার্জ, ইএন ডট ওয়াইএনএ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা